Annapurna Bhandar Scheme: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে সরকারের নয়া ভাবনা,ফর্মে ভুল তথ্য থাকলেও কি মিলবে বকেয়া টাকা

রাজ্যের জনপ্রিয় জনকল্যাণমূলক প্রকল্প 'অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার' নিয়ে সম্প্রতি আবেদনকারীদের মধ্যে ব্যাপক জল্পনা তৈরি হয়েছে। বহু যোগ্য আবেদনকারী হঠাৎ জানতে পেরেছেন যে তাঁদের আবেদনপত্রটি সরাসরি অনুমোদিত না হয়ে ‘ফারদার ভেরিফিকেশন’ বা অতিরিক্ত যাচাইকরণ তালিকায় আটকে গিয়েছে।

Suvendu Adhikari (Photo Credit: ANI/Twitter)

Annapurna Bhandar Scheme: রাজ্যের জনপ্রিয় জনকল্যাণমূলক প্রকল্প 'অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার' (Annapurna Bhandar) নিয়ে সম্প্রতি আবেদনকারীদের মধ্যে ব্যাপক জল্পনা তৈরি হয়েছে। বহু যোগ্য আবেদনকারী হঠাৎ জানতে পেরেছেন যে তাঁদের আবেদনপত্রটি সরাসরি অনুমোদিত না হয়ে ‘ফারদার ভেরিফিকেশন’ (Further Verification) বা অতিরিক্ত যাচাইকরণ তালিকায় আটকে গিয়েছে। ফলে অনেকেরই মাসিক আর্থিক অনুদান সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে।

তবে কি ভুল তথ্যের কারণে আবেদনপত্রগুলি চিরতরে বাতিল হয়ে যাবে? নাকি যোগ্য ব্যক্তিরা বকেয়া টাকা ফেরত পাবেন? প্রশাসন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জেনে নিন আসল সত্য।

কেন 'ফারদার ভেরিফিকেশন'-এ আটকে যাচ্ছে আবেদন?

ফর্ম পূরণের সময় মূলত ফর্মে থাকা তিনটি নির্দিষ্ট ঘরে ভুলবশত ‘হ্যাঁ’ (Yes) চিহ্নিত করার ফলেই এই বিভ্রান্তি। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীর যদি নিজস্ব পাকা বাড়িতে তিনটি বা তার বেশি ঘর থাকে কিংবা নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পত্তির মালিকানা থাকে, তবে তিনি এই প্রকল্পের আর্থিক সুবিধার যোগ্য নন (গ্রামাঞ্চলের ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু ছাড় প্রযোজ্য হলেও পুরসভা ও পুরনিগম এলাকায় এই নিয়ম কড়াভাবে প্রযোজ্য)। অনেক আবেদনকারী না বুঝে বা অসাবধানতাবশত ফর্মে ৩টি ঘর সম্পর্কিত শর্তটিতে ‘হ্যাঁ’ লিখে জমা দিয়েছিলেন। সম্পূর্ণ ব্যবস্থাটি ডিজিটাল হওয়ার কারণে ডেটা এন্ট্রি করার সঙ্গে সঙ্গেই অটোমেটেড সিস্টেম সেই আবেদনগুলিকে চিহ্নিত করে ‘Further Verification’-এর তালিকায় পাঠিয়ে দিয়েছে।

সরকার ও প্রশাসনের নতুন সিদ্ধান্ত

রাজ্য সরকারের লক্ষ্য, কোনো প্রকৃত ও অভাবী উপভোক্তা যেন সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন। তাই শুধুমাত্র ফর্মে ভুলবশত ‘হ্যাঁ’ লেখা থাকার কারণে কোনো আবেদনপত্র সরাসরি বাতিল করা হচ্ছে না।

১. বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরজমিনে তদন্ত (Door to Door Verification):

যেসব আবেদন ‘ফারদার ভেরিফিকেশন’-এ আটকে রয়েছে, সেগুলির সত্যতা যাচাই করতে প্রশাসনিক কর্মীরা সরাসরি আবেদনকারীদের বাড়িতে যাচ্ছেন। আবেদনকারীর সত্যিই ৩টি ঘরের পাকা বাড়ি বা অতিরিক্ত সম্পত্তি রয়েছে কি না, তা সরেজমিনে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

২. ভুল সংশোধনের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি:

তদন্তে যদি দেখা যায় যে আবেদনকারী প্রকৃতপক্ষে আর্থিক সঙ্গতিহীন এবং ভুলবশত ফর্মে ‘হ্যাঁ’ লিখেছিলেন, তবে আধিকারিকেরা ডিজিটাল পোর্টালে সেই তথ্য সংশোধন করে আবেদনটি অনুমোদন করবেন।

৩. বকেয়া টাকা মেটানোর সম্ভাবনা:

ভেরিফিকেশনে আবেদনকারী যোগ্য প্রমাণিত হলে তাঁর স্থগিত থাকা আগের বকেয়া টাকাও অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। তবে এর জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সাথে কার্ড বা প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্রের লিঙ্ক সম্পূর্ণ থাকা আবশ্যক।

আবেদনকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ

সহযোগিতা করুন: ডোর-টু-ডোর যাচাইয়ের সময় প্রশাসনিক কর্মীদের সঠিক তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়ে সহযোগিতা করুন।

সচেতন থাকুন: কোনো দালালচক্র বা ভুয়ো প্রচারের ফাঁদে পা দেবেন না। প্রয়োজনে স্থানীয় বিডিও (BDO) বা পুরসভা কার্যালয়ে সরাসরি যোগাযোগ করে আপনার আবেদনের বর্তমান স্থিতি (Status) জেনে নিন।

সরকারের এই কড়া যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো, সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও দুর্নিতিমুক্ত উপভোক্তা তালিকা তৈরি করা, যাতে অপাত্রে সরকারি কোষাগারের অর্থ অপচয় না হয়ে প্রকৃত দুস্থ মানুষের কাছে সাহায্য পৌঁছায়।

Share Now
Advertisement


Advertisement
Advertisement
Share Now
Advertisement