ভোর রাতে ক্যামাক স্ট্রিট অফিসে ঢুকে ভাঙচুর, বিস্ফোরক অভিযোগ অভিষেকের, ভিডিও প্রকাশ্যে
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, আজ ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এই হামলা চালায়। ঘটনাটিকে 'আইনের শাসনের ওপর নজিরবিহীন আঘাত' বলে উল্লেখ করে তিনি কলকাতা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন।
ভোর রাতে তৃণমূলের ক্যামাক স্ট্রিট অফিসে ঢুকে ভাঙচুর। বৃহস্পতিবার ভোরে কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনীতি। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, আজ ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এই হামলা চালায়। ঘটনাটিকে 'আইনের শাসনের ওপর নজিরবিহীন আঘাত' বলে উল্লেখ করে তিনি কলকাতা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন।
ভোররাতের হামলা ও শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা
সামাজিক মাধ্যম 'এক্স'-এ (টুইটার) একটি পোস্টের মাধ্যমে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই হামলার কথা নিশ্চিত করেন। তিনি লেখেন, বৃহস্পতিবার ভোররাতে তৃণমূলের ক্যামাক স্ট্রিট কার্যালয়ে জোরপূর্বক ঢুকে ভাঙচুর চালায় হামলাকারীরা। এই ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে দাবি করে তিনি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে আক্রমণ করেন। অভিষেকের প্রশ্ন, "তৃণমূল কংগ্রেস এবং আমাকে আপনারা এত ভয় পান কেন যে এই ধরনের ভয় দেখানোর রাজনীতি বেছে নিতে হচ্ছে?"
দেখুন ভিডিও
পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ ও সাংবিধানিক সংস্থাকে চিঠি
ঘটনার সময় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নীরব ভূমিকা ও নিষ্ক্রিয়তার কড়া সমালোচনা করেছেন তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতা। তিনি বলেন, রাজ্যে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং প্রশাসন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে তিনি সরাসরি পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর দফতরকে (PMO) জরুরি ভিত্তিতে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানান।
বিচার বিভাগকে হস্তক্ষেপর আবেদন
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্ট ও কলকাতা হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অবিলম্বে বিচার বিভাগীয় হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিরোধী রাজনৈতিক দল ও তাদের কার্যালয়ের ওপর যদি প্রতিনিয়ত এই ধরনের সহিংসতা ও হামলা চালানো হয়, তবে মুখ্যমন্ত্রীর পদে থাকার কোনো নৈতিক অধিকার বর্তমান সরকারের নেই। এ ছাড়া, নীরব ভূমিকা পালনকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তাদেরও সতর্ক বার্তা দেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা বদলের পর তৃণমূল ও শাসকদল বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত ক্রমশ তীব্র আকার ধারণ করছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যামাক স্ট্রিট এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।