TRAI Tightens Spam Rules: অবাঞ্ছিত ফোন কল ও স্প্যাম নিয়ন্ত্রণে কড়া পদক্ষেপ ট্রাইয়ের, আওতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবোকল
প্রতিনিয়ত ব্যাঙ্কের লোন, ক্রেডিট কার্ডের অফার কিংবা প্রতারণামূলক রোবোকলের জ্বালাতনে অতিষ্ঠ সাধারণ গ্রাহকদের স্বস্তি দিতে বড় পদক্ষেপ করল টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অব ইন্ডিয়া (ট্রাই)।
TRAI Tightens Spam Rules: প্রতিনিয়ত ব্যাঙ্কের লোন, ক্রেডিট কার্ডের অফার কিংবা প্রতারণামূলক রোবোকলের জ্বালাতনে অতিষ্ঠ সাধারণ গ্রাহকদের স্বস্তি দিতে বড় পদক্ষেপ করল টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অব ইন্ডিয়া (ট্রাই)। আজ, শুক্রবার 'টেলিকম কমার্শিয়াল কমিউনিকেশনস কাস্টমার প্রেফারেন্স উইথ প্রসিডিউরস' সংক্রান্ত নিয়মে সংশোধনী এনে স্প্যাম কল এবং অনাকাঙ্ক্ষিত বাণিজ্যিক বার্তা নিয়ন্ত্রণের কড়াকড়ি আরও বাড়াল কেন্দ্রীয় এই নিয়ামক সংস্থা। নতুন এই নীতিমালায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কোনো প্রত্যক্ষ মানবীয় ডায়ালিং ব্যতিরেকে সফটওয়্যার, স্বয়ংক্রিয় প্ল্যাটফর্ম বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মাধ্যমে উৎপন্ন 'অ্যাপ্লিকেশন-টু-পার্সন' (এ২পি) বা অটোমেটেড ফোন কলগুলি সরাসরি রেগুলেটরি নেটওয়ার্ক বা নজরদারির আওতায় আসবে। এর মধ্যে প্রি-রেকর্ডেড ভয়েস মেসেজ, রোবোকল এবং কৃত্রিম কন্ঠস্বরের ভয়েস এজেন্টও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারকারী বাণিজ্যিক সংস্থাগুলিকে পরিষেবা প্রদানকারী টেলিকম অপাটেরদের কাছে আগে থেকেই নম্বর ও সিএলআই বিবরণসহ লিখিত ঘোষণা জমা দিতে হবে। তথ্য জমা ছাড়া কোনো এ২পি কল করা হলে সেটিকে বেআইনি বা স্প্যাম কল হিসেবে ধরে নেওয়া হবে এবং সাধারণ গ্রাহকদের সুবিধার্থে সরকারি অনুমোদিত কল বা নির্দিষ্ট বাণিজ্যিক সিরিজ বাদে অন্যান্য এ২পি কলের ক্ষেত্রে প্রতি মিনিটে সর্বোচ্চ ৫ পয়সা পর্যন্ত টার্মিনেশন চার্জ ধার্য করার নীতি কার্যকর হচ্ছে।
এআই চালিত নজরদারি এবং ভুয়া কলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ
ডিজিটাল যুগে জালিয়াতির ফাঁদ কাটতে ট্রাই এবার টেলিকম অপারেটরদের এআই এবং মেশিন লার্নিং প্রযুক্তিভিত্তিক স্প্যাম সনাক্তকরণ ব্যবস্থা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে। সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, টেলিকম সংস্থাগুলিকে অত্যন্ত বেশি মাত্রায় স্প্যাম ছড়ানো সম্ভাব্য নম্বরগুলি চিহ্নিত করতে হবে এবং সেই সংক্রান্ত তথ্য অন্যান্য নেটওয়ার্ক অপারেটরদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে হবে। যদি কোনো নির্দিষ্ট প্রেরক বা সংস্থার অন্তত পাঁচটি ভিন্ন নম্বর ১০ দিনের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত স্প্যামের জন্য চিহ্নিত হয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে স্বয়ংক্রিয় তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে। অভিযোগের ভিত্তিতে অপরাধীদের কেওয়াইসি (KYC) পুনঃযাচাইকরণ, ভৌত উপস্থিতি যাচাই এবং পর্যায়ক্রমে আউটগোয়িং কল বন্ধ করা হতে পারে। এমনকি অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটলে অভিযুক্তের সমস্ত টেলিকম পরিষেবা চিরতরে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার মতো চরম শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
গ্রাহক সুরক্ষায় ট্রাই অভিযোগ নিষ্পত্তির নূন্যতম সীমাও হ্রাস করেছে; এখন থেকে কোনো নম্বর এআই সিস্টেমে চিহ্নিত হওয়ার পাশাপাশি অন্তত তিনটি পৃথক অভিযোগ জমা পড়লেই কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে জুন প্রান্তিকেই টেলিকম অপারেটরদের এআই নজরদারিতে প্রায় ২২.৯৯ বিলিয়ন কল সন্দেহভাজন হিসেবে ধরা পড়ার পর এই পদক্ষেপ অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মনে করা হচ্ছে।
ন্যায্য বাণিজ্যিক যোগাযোগ রক্ষা এবং ভুয়ো অ্যাপ রোধে নির্দেশিকা
একদিকে জালিয়াতি বা অনাকাঙ্ক্ষিত কল আটকানো, অন্যদিকে প্রকৃত ব্যবসায়িক যোগাযোগের ভারসাম্য বজায় রাখাই ট্রাইয়ের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। কোনো গ্রাহক যদি নিজে থেকে কোনো পণ্য বা পরিষেবা সম্পর্কে জানতে চান বা অনুসন্ধান চালান, তবে সংশ্লিষ্ট সংস্থা কেবল অনুসন্ধানের তারিখ থেকে পরবর্তী সাত দিনের মধ্যেই সেই গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারবে। এরপর ওই সংযোগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি, বিভিন্ন কল-ম্যানেজমেন্ট অ্যাপ্লিকেশনগুলির দ্বারা সাধারণ গ্রাহকদের জরুরি বা অথরাইজড পরিষেবা ব্যাহত হওয়া রুখতে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশিকায় কী বলা হয়েছে
নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, ট্রাই অনুমোদিত নির্দিষ্ট বাণিজ্যিক নম্বর সিরিজ (যেমন ১৪০xx, ১৬০০xx বা ১৬০১xx)-এর কলগুলিকে থার্ড-পার্টি ব্লকিং অ্যাপগুলি ঢালাওভাবে স্প্যাম ট্যাগ বা সম্পূর্ণ ব্লক করতে পারবে না। অন্যায্য শাস্তির হাত থেকে ব্যবসায়িক সংস্থাকে রক্ষা করতে সংশোধিত কাঠামোটিতে একটি গ্রাহক বা প্রেরক আপিল ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে, নতুন এই নীতি আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার রোধ করে দেশের ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও সুরক্ষিত, স্বচ্ছ এবং দায়িত্বশীল করে তুলবে।