iPhone Duo Foldable Display Cost: আইফোন ডুও-র ভাঁজ করা ডিসপ্লের জন্য স্যামসাংকে কত টাকা দিচ্ছে অ্যাপল? ফাঁস হলো গোপন চুক্তি!
iPhone Duo Foldable Display Cost: দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ফোল্ডেবল বা ভাঁজ করা ফোনের জগতে পা রাখতে চলেছে অ্যাপল।
iPhone Duo Foldable Display Cost: দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ফোল্ডেবল বা ভাঁজ করা ফোনের জগতে পা রাখতে চলেছে অ্যাপল। আর তাদের বহু প্রতীক্ষিত ‘আইফোন ডুও’ (iPhone Duo)-র ডিসপ্লে তৈরির জন্য অ্যাপল হাত মিলিয়েছে তাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্যামসাংয়ের সাথে। জানা গিয়েছে, আগামী তিন বছরের জন্য অ্যাপলের সাথে একটি একচেটিয়া (Exclusive) চুক্তি স্বাক্ষর করেছে স্যামসাং ডিসপ্লে। তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো এই ডিসপ্লের চড়া খরচ। ফাঁস হওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, আইফোন ডুও-র প্রতিটি ফোল্ডেবল ওলেড (OLED) প্যানেলের জন্য স্যামসাংকে প্রায় ২৫০ মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ২১,০০০ টাকার কাছাকাছি) দিতে হচ্ছে অ্যাপলকে।
সাধারণ স্ক্রিনের চেয়ে কেন এত দামি এই প্যানেল?
একটি সাধারণ ফ্ল্যাগশিপ আইফোনের রিজিড ওলেড স্ক্রিন তৈরি করতে অ্যাপলের খরচ হয় প্রায় ৭০ ডলার। তার তুলনায় আইফোন ডুও-র এই ফোল্ডেবল ডিসপ্লের দাম প্রায় সাড়ে তিন গুণ বেশি।
এম১৬ ওলেড মেটেরিয়াল: এই স্ক্রিনে ব্যবহার করা হয়েছে স্যামসাংয়ের সর্বাধুনিক 'M16 OLED' মেটেরিয়াল, যা ডিসপ্লের ব্রাইটনেস বা উজ্জ্বলতা বাড়াতে এবং ব্যাটারির আয়ু বজায় রাখতে অত্যন্ত কার্যকর।
আল্ট্রা থিন গ্লাস প্রযুক্তি: স্ক্রিনটিকে বারবার মোড়ার হাত থেকে সুরক্ষিত রাখতে জোড়া ‘Ultra Thin Glass’ এবং বিশেষ ‘Nano-Texture’ ফিনিশ ব্যবহার করা হয়েছে, যা আলোর প্রতিফলন কমায় এবং দীর্ঘস্থায়িত্ব নিশ্চিত করে।
প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়া সত্ত্বেও কেন স্যামসাংয়ের ওপরই ভরসা অ্যাপলের?
স্মার্টফোন বাজারে অ্যাপল ও স্যামসাং কড়া প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও ডিসপ্লে প্রযুক্তিতে স্যামসাংয়ের বিকল্প এই মুহূর্তে তৈরি হয়নি। অ্যাপলের অন্যতম ডিসপ্লে সরবরাহকারী ‘LG Display’ এখনও বাণিজ্যিক মাত্রায় ফোল্ডেবল প্যানেল গণ-উৎপাদন (Mass Production) করতে সক্ষম হয়নি। অন্যদিকে চীনা সংস্থা ‘BOE’-র স্ক্রিনের স্থায়িত্ব ও গুণমান নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে। ফলে বাধ্য হয়েই অ্যাপলকে স্যামসাং ডিসপ্লের ওপর পূর্ণ ভরসা রাখতে হয়েছে।
যন্ত্রাংশের খরচ ও গ্রাহকদের পকেটে প্রভাব
১,৯৯৯ ডলার মূল্যের আইফোন ডুও-র মোট উৎপাদন খরচের এক-অষ্টমাংশ বা আট ভাগের এক ভাগ চলে যাচ্ছে কেবল এই ভেতরের ফোল্ডেবল স্ক্রিনটি তৈরি করতেই। এই দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির ফলে আগামী তিন বছর স্যামসাং নিশ্চিত ও বিশাল অঙ্কের মুনাফা অর্জন করতে চলেছে। একই সাথে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, ফোল্ডেবল ডিভাইসের বাজারে আত্মপ্রকাশ করলেও অ্যাপলকে এখনও তাদের প্রধান বৈশ্বিক প্রতিদ্বন্দ্বীর সাপ্লাই চেইনের ওপরই নির্ভর করে থাকতে হচ্ছে।