Digital India Apps: আধার থেকে DigiLocker, ফোনে রাখুন এই ৫ সরকারি অ্যাপ! কাজে লাগবে প্রতিদিন
একসময় যেকোনো সরকারি বা প্রশাসনিক কাজের জন্য সাধারণ মানুষকে ঘন্টার পর ঘন্টা লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো। সামান্য একটি কাগজপত্রের বা সনদের ফোটোকপি বা ভেরিফিকেশনের জন্য বিভিন্ন সরকারি অফিসে চক্কর কাটা ছিল দৈনন্দিন জীবনের এক চরম বাস্তবতা।
Digital India Apps: একসময় যেকোনো সরকারি বা প্রশাসনিক কাজের জন্য সাধারণ মানুষকে ঘন্টার পর ঘন্টা লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো। সামান্য একটি কাগজপত্রের বা সনদের ফোটোকপি বা ভেরিফিকেশনের জন্য বিভিন্ন সরকারি অফিসে চক্কর কাটা ছিল দৈনন্দিন জীবনের এক চরম বাস্তবতা। তবে বিগত কয়েক বছরে মোদী সরকারের ডিজিটাল ইন্ডিয়া (Digital India) উদ্যোগ এবং স্মার্টফোনের বহুল ব্যবহারের ফলে সেই চিরাচরিত প্রশাসনিক ব্যবস্থায় এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। আজ ভারত দ্রুত গতিতে ডিজিটাল গভর্নেন্সের দিকে এগিয়ে চলেছে, যেখানে সরকারি নাগরিক পরিষেবা এখন কেবল একটি আঙুলের স্পর্শেই পাওয়া সম্ভব।
স্মার্টফোনে যেসব সরকারি অ্যাপ রাখা জরুরি
পরিচয়পত্র যাচাইকরণ থেকে শুরু করে দৈনন্দিন নথিপত্র নিরাপদে সংরক্ষণ এবং দ্রুততম সময়ে আর্থিক লেনদেন, সবকিছুই এখন আপনার হাতের তালুতে থাকা স্মার্টফোনটির মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে সম্পন্ন হচ্ছে। এই ডিজিটাল রূপান্তর কেবল সাধারণ মানুষের সময় এবং পরিশ্রমই সাশ্রয় করছে না, বরং সরকারি কাজকর্মে এনেছে নজিরবিহীন স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা। বর্তমান যুগে আপনার স্মার্টফোনটি আর কেবল বার্তা পাঠানো বা বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি আপনার সমস্ত মৌলিক নাগরিক পরিষেবা পাওয়ার এক ডিজিটাল গেটওয়ে।
নিচে এমন ৫টি অপরিহার্য সরকারি অ্যাপের বিস্তারিত আলোচনা করা হলো, যা আধুনিক ভারতের প্রতিটি নাগরিকের স্মার্টফোনে থাকা বাধ্যতামূলক।
১. আধার অ্যাপ (mAadhaar): পকেটে নয়, ফোনেই থাকবে পরিচয়পত্র
ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অব ইন্ডিয়া (UIDAI) পরিচালিত আধার অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকরা তাঁদের ডিজিটাল আধার কার্ড নিজের ফোনে রাখতে পারেন। অফলাইন ই-কেওয়াইসি (e-KYC), কিউআর কোড স্ক্যানিং এবং বায়োমেট্রিক লক বা আনলকের মতো সুরক্ষা ফিচার রয়েছে এই অ্যাপে। হোটেল চেকিং বা যেকোনো জায়গায় পরিচয়পত্র দেখানোর ক্ষেত্রে আর কাগজের ফোটোকপি বহন করার প্রয়োজন পড়ে না।
২. ডিজিটাল লকার (DigiLocker): কাগজের ফাইল বহনের ঝামেলা শেষ
ডিজিটাল ইন্ডিয়া প্রকল্পের আওতায় তৈরি 'ডিজিটাল লকার' একটি ভার্চুয়াল নথি সংরক্ষণাগার। এই অ্যাপে ড্রাইভিং লাইসেন্স, প্যান কার্ড, গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট থেকে শুরু করে শিক্ষাগত যোগ্যতার সমস্ত সার্টিফিকেট ডিজিটাল আকারে নিরাপদে জমা রাখা যায়। সরকার অনুমোদিত এই ডিজিটাল নথিগুলি আইনত সম্পূর্ণ বৈধ এবং ভ্রমণের সময় বা চাকরির আবেদনের সময় সরাসরি শেয়ার করা যায়।
৩. উমং (UMANG): একাধিক সরকারি পরিষেবা এক জায়গায়
বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের পরিষেবার জন্য আলাদা অ্যাপ ব্যবহারের দিন শেষ। 'উমং' (Unified Mobile Application for New-age Governance) অ্যাপের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের শত শত পরিষেবা এক ছাতার নিচে পাওয়া যায়। ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, ইপিএফ (EPF) ব্যালেন্স চেক, গ্যাসের সিলিন্ডার বুকিং এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা সহ অসংখ্য কাজ এই একটি অ্যাপের মাধ্যমেই করা সম্ভব। বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষায় অ্যাপটি ব্যবহারের সুবিধাও রয়েছে।
৪. এম-পরিবহন (mParivahan): ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির ডিজিটাল নথি
কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রকের নিয়ন্ত্রণাধীন 'এম-পরিবহন' অ্যাপের মাধ্যমে গাড়িচালক বা মালিকরা তাঁদের ড্রাইভিং লাইসেন্স (DL) এবং যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (RC)-এর ডিজিটাল কপি দেখতে ও সংরক্ষণ করতে পারেন। ট্রাফিক পুলিশ চেকিংয়ের সময় এই ডিজিটাল কপিগুলি দেখালে আর জরিমানা দিতে হয় না। এছাড়া গাড়ির তথ্য যাচাই ও পরিবহন সংক্রান্ত আবেদনও এই অ্যাপ দিয়ে করা যায়।
৫. ভিম (BHIM): সহজ ও সুরক্ষিত ইউপিআই পেমেন্ট
ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া (NPCI) দ্বারা তৈরি 'ভিম' (BHIM) একটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ইউপিআই ভিত্তিক পেমেন্ট অ্যাপ। মোবাইল নম্বর বা ইউপিআই আইডি ব্যবহার করে নিমেষেই টাকা পাঠানো বা গ্রহণ করা যায়। সাধারণ ব্যবহারকারীদের কথা মাথায় রেখে এর ইন্টারফেস খুবই সহজ করা হয়েছে এবং এতে বিভিন্ন ভারতীয় ভাষার সাপোর্ট রয়েছে।
কী কারণে অ্যাপগুলি গুরুত্বপূর্ণ
প্রশাসনিক কাজের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, কাগজপত্রের ব্যবহার কমানো এবং নাগরিকদের সময় বাঁচানোর ক্ষেত্রে এই অ্যাপগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে যেকোনো অ্যাপ ডাউনলোড করার ক্ষেত্রে কেবল গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপল অ্যাপ স্টোরের মতো অফিশিয়াল মাধ্যম ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।