India vs Bangladesh Cricket Series: বাংলাদেশ সফর নিয়ে মোদী সরকারের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় BCCI

ভারত ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ এখনও পুরোপুরি নামেনি। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সফর নিয়ে ধোঁয়াশা কাটাতে এ বার সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে অনুমতি ও স্পষ্ট নির্দেশিকা চাইতে চলেছে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (BCCI)।

BCCI Logo Photo Credit: Twitter@BCCI

ভারত ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ এখনও পুরোপুরি নামেনি। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সফর নিয়ে ধোঁয়াশা কাটাতে এ বার সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে অনুমতি ও স্পষ্ট নির্দেশিকা চাইতে চলেছে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (BCCI)। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে ভারতীয় দলের বাংলাদেশ সফরের কথা রয়েছে, যা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতেই তড়িঘড়ি কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রকের দ্বারস্থ হচ্ছে বোর্ডের শীর্ষ মহল।

বিসিসিআই সূত্রের খবর, কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজনের ক্ষেত্রে বোর্ডের একক ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই, বিশেষ করে যখন কূটনৈতিক পরিস্থিতি স্পর্শকাতর। কেন্দ্র সবুজ সংকেত না দিলে ভারতীয় ক্রিকেট দলের পক্ষে ঢাকা উড়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

কী রয়েছে এই প্রস্তাবিত সিরিজে?

১) তিন ম্যাচের একদিনের আন্তর্জাতিক (ওডিআই) এবং তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি (টি২০) সিরিজ।

২) এটি ভারতের বাংলাদেশ মাটিতে প্রথম পূর্ণাঙ্গ দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজ হওয়ার কথা।

৩) পূর্বে ২০২৫ সালের অগস্টে এই সিরিজটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও দু'দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে তা পিছিয়ে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে নিয়ে যাওয়া হয়।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের তৎপরতা

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ইতিমধ্যেই ভারতের এই সফর নিশ্চিত করতে জোর তৎপরতা শুরু করেছে। বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল ইতিমধ্যেই বিসিসিআই-কে চিঠি দিয়ে দ্রুত সম্মতি জানানোর অনুরোধ করেছেন। সেপ্টেম্বর মাসের শুরু থেকে দলগুলোকে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিতে হবে, তাই অগস্টের শেষের মধ্যেই স্পষ্ট উত্তর চেয়েছে ঢাকা। তা ছাড়া, সদ্য বিসিবি সভাপতি বিসিসিআই-এর বেঙ্গালুরুর 'সেন্টার অফ এক্সিলেন্স'-এ এসে আলোচনাও চালিয়ে গেছেন।

কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই দু'দেশের সম্পর্কের রসায়ন বদলেছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের মাটি থেকে রাজনীতি সংক্রান্ত মন্তব্যের বিরোধিতা করা হয়েছে, যা দু'দেশের ক্রীড়া সম্পর্কেও প্রভাব ফেলেছে। এর আগে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্সকে (কেকেআর) বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল বিসিসিআই, যা সম্পর্কের শীতলতা স্পষ্ট করে দিয়েছিল।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা

ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন না মিললে ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেটও দীর্ঘমেয়াদি বরফাবৃত হতে পারে, যেমনটা ঘটেছে ভারত-পাকিস্তান সিরিজের ক্ষেত্রে। তবে ক্রিকেট কূটনৈতিক মহল মনে করছে, যদি কেন্দ্র সবুজ সংকেত দেয়, তবে খেলার মধ্য দিয়ে দুই প্রতিবেশীর তিক্ততা কমানোর একটি বড় পথ উন্মুক্ত হবে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রকের সিদ্ধান্ত এবং ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির সবুজ সংকেতের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ড।

Share Now
Advertisement


Advertisement
Advertisement
Share Now
Advertisement