CWG 2026 Closing Ceremony: গ্লাসগো গেমসের জমকালো সমাপ্তি, এবার অপেক্ষা ২০৩০ আমেদাবাদ গেমসের

CWG 2026 Closing Ceremony:১১ দিনের রোমাঞ্চকর প্রতিযোগিতা শেষে ৩ আগস্ট স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে ‘ওভো হাইড্রো’ (OVO Hydro) ইনডোর অ্যারেনায় সমাপ্ত হলো ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমস। মূল আয়োজক দেশ সরে দাঁড়ানোর পর সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে দায়িত্ব নিয়ে এক দৃষ্টিনন্দন ও সফল আসর উপহার দিল গ্লাসগো।

Commonwealth Games 2026 - Closing Ceremony - The Hydro, Glasgow, Scotland, Britain

CWG 2026 Closing Ceremony:১১ দিনের রোমাঞ্চকর প্রতিযোগিতা শেষে ৩ আগস্ট স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে ‘ওভো হাইড্রো’ (OVO Hydro) ইনডোর অ্যারেনায় সমাপ্ত হলো ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমস। মূল আয়োজক দেশ সরে দাঁড়ানোর পর সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে দায়িত্ব নিয়ে এক দৃষ্টিনন্দন ও সফল আসর উপহার দিল গ্লাসগো। একই সাথে গেমসের শতবর্ষী আসরের স্বাগতিক হিসেবে ভারতের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হলো কমনওয়েলথ গেমসের ব্যাটন ও পতাকা। ২০৩০ সালে ভারতের গুজরাটের আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত হবে এই ঐতিহাসিক শতবর্ষী আসর।

এবার পালা আমেদাবাদের

"বিশ্ব যখন আসবে, আমেদাবাদ কেবল তাদের স্বাগত জানাবে না, বুকে জড়িয়ে নেবে।" — সমাপ্তি অনুষ্ঠানের অডিও-ভিজ্যুয়াল বার্তায় ভারত।

দেখুন ভিডিও

গ্লাসগো থেকে আমেদাবাদ: দায়িত্ব হস্তান্তরের শুভক্ষণ

সমাপ্তি অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্লাসগো থেকে ভারতের হাতে কমনওয়েলথ গেমসের ব্যাটন ও পতাকা হস্তান্তর করা হয়।

গ্লাসগোয় জমকালো সমাপ্তি

নীরজ চোপড়ার হাতে পতাকা

পতাকা প্রদান: অলিম্পিক স্বর্ণপদক বিজয়ী অ্যাথলিট নীরজ চোপড়া কমনওয়েলথ গেমস ফেডারেশনের পতাকা তুলে দেন ভারতীয় অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (IOA) সভাপতি পিটি উষার হাতে।

সমাপ্তি ঘোষণা: এডিনবার্গের ডিউক হিজ রয়্যাল হাইনেস প্রিন্স এডিউয়ার্ড আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬ গেমসের সমাপ্তি ঘোষণা করেন এবং ২০৩০ সালে আমেদাবাদে আসার জন্য সকল অ্যাথলিটদের আমন্ত্রণ জানান।

ঐতিহাসিক গুরুত্ব:এর মাধ্যমে ভারত তার ইতিহাসের দ্বিতীয়বারের মতো কমনওয়েলথ গেমসের আয়োজক হতে যাচ্ছে (প্রথমটি ছিল ২০১০ সালে নতুন দিল্লিতে)।

ভারতের বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও 'বসুধৈব কুটুম্বকম'

ভারতের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় অ্যারেনায় পরিবেশিত হয় এক অসাধারণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যা ভারতের বৈচিত্র্যময় ঐতিহ্য এবং ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ (সমগ্র বিশ্ব এক পরিবার) ধারণাকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরে:

বন্দে মাতরম ও শঙ্কর মহাদেবন: গ্র্যামি পুরস্কার বিজয়ী সংগীতশিল্পী ও সুরকার শঙ্কর মহাদেবন মাতিয়ে তোলেন পুরো অ্যারেনা। জাতীয় গান 'বন্দে মাতরম'-এর পরিবেশনায় তাঁর সঙ্গে যোগ দেন প্রাক্তন মিস ওয়ার্ল্ড মানুসী চিল্লার।

দেশাত্মবোধক সংগীতের ঝংকার: শঙ্কর মহাদেবন একে একে পরিবেশন করেন ‘অ্যায় ওয়াতন’, মিলখা সিংকে উৎসর্গ করে ‘ভাগ মিলখা ভাগ’, ‘লেহরা দো’ এবং নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় গান ‘হিন্দিকে আমরা হিন্দুস্তানি’।

জু যৌথ পরিবেশনা (যুগলবন্দি):সেতার বাদক রিশভ রিখিরাম শর্মা এবং স্কটিশ পাইপার রস এইনসলির ভারত-স্কটল্যান্ডের মেলবন্ধনে তৈরি সেতার ও ব্যাকপাইপের সুরের জুগ্লবন্দি দর্শকদের মুগ্ধ করে।

গুজরাট ও ভারতের লোকনৃত্য: বর্ণিল পোশাকে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী নাচ ও রং বিশ্বমঞ্চে ফুটিয়ে তোলা হয়, যার কেন্দ্রে ছিল গুজরাটের সংস্কৃতি।

ভারতীয় পতাকাবাহী ও পদক বিজয়ীরা

সমাপ্তি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ৭৪টি দেশের ক্রীড়াবিদরা নিজেদের জাতীয় পতাকা নিয়ে মঞ্চে হাজির হন:

ভারতীয় দলের জাতীয় পতাকা বহন করেন বিশ্ব নম্বর ওয়ান বক্সার তথা স্বর্ণপদক বিজয়ী জ্যাসমিন ল্যাম্বোরিয়া।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রদর্শনীতে ভারতের ক্রীড়া ইতিহাস এবং আহমেদাবাদ ২০৩০-এর প্রস্তুতি তুলে ধরা হয়।

গ্লাসগোর বিদায় ও স্কটিশ পরিবেশনা

স্কটল্যান্ডের স্থানীয় সংস্কৃতি এবং আতিথেয়তার ছোঁয়ায় শেষ হয় এদিনের অনুষ্ঠান:

বিশেষ পদক ও সম্মান: স্কটিশ হুইলচেয়ার রেসার মেলানি উডসকে তাঁর অনবদ্য প্রত্যাবর্তনের জন্য প্রদান করা হয় ডেভিড ডিকসন ফেয়ারপ্লে অ্যাওয়ার্ড।

স্বেচ্ছাসেবকদের শ্রদ্ধা:গেমস সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা স্বেচ্ছাসেবকদের উদ্দেশ্যে বিশেষ সম্মান জানানো হয়।

সঙ্গীত ও বিনোদন: অস্ট্রেলীয় গায়িকা ডেল্টা গুডরেম পরিবেশন করেন তাঁর বিখ্যাত গান ‘বর্ন টু ট্রাই’ এবং স্কটিশ গায়ক কামি বার্নসের সঙ্গে একটি দ্বৈত গান। এছাড়া ‘সিম্পল মাইন্ডস’, ‘প্রাইমাল স্ক্রিম’, ‘এলিফ্যান্ট সেশনস’ এবং স্যান্ডি থমের মতো স্কটিশ ব্যান্ড ও শিল্পীরা গান পরিবেশন করেন। পরিবেশিত হয় স্কটল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী নাচ ‘কাই-লি’ (Kay-lee)।

স্থানীয় ঐতিহ্য ও মাসকট: অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল গেমসের মাসকট ‘ফিনি’ (ইউনিকর্ন) এবং গ্লাসগোর ট্রাফিক কোন-ভিত্তিক টুপি পরা দর্শকরা।

গ্লাসগো ২০২৬-এর চেয়ার জর্জ ব্ল্যাক দুই নদী তীরের শহর গ্লাসগো ও আহমেদাবাদের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে স্কটিশ শুভেচ্ছা বার্তা “স্লানচে ভা” (Slainte mhath - ভালো স্বাস্থ্য) জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন।

অনুষ্ঠানের শেষ গান “ডোন্ট ইউ ফরগেট অ্যাবাউট মি” এবং গ্লাসগোর বিদায়ী বার্তা “অ্যান্ড আই লাভ ইউ”-এর সঙ্গে সঙ্গে আকাশে আতশবাজির রোশনাই ছড়িয়ে পড়ে। আর এর মাধ্যমেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো আহমেদাবাদ ২০৩০-এর চার বছরের কাউন্টডাউন।

Share Now
Advertisement


Advertisement
Advertisement
Share Now
Advertisement