Holika Dahan: আগুনে পুড়ে অশুভ শক্তির বিনাশ, হোলিকা দহনের মধ্যে দিয়ে শুরু হোলি উৎসবের প্রস্তুতি
কথিত আছে, প্রহ্লাদ আগুন প্রবেশ করলে অনেক জোরে চারিদিক থেকে শক্তিশালী বাতাস বইতে থাকে এবং সেই মায়াবী শাল হোলিকার পরিবর্তে প্রহ্লাদকে ঘিরে রাখে। আগুনে পুড়ে হোলিকার মৃত্যু হয়।
হোলি শব্দের উৎপত্তি হয়েছে” হোলা”শব্দ থেকে।আর এই হোলা কথার অর্থ হল আগাম ফসলের প্রত্যাশায় ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা।আবার অনেকের মতে হোলি শব্দটি সংস্কৃত শব্দ “হোলকা” থেকে এসেছে।যার অর্থ হলো অর্ধপক্ক শস্য।ভারতের কিছু প্রদেশ যেমন পাঞ্জাব ,হরিয়ানা প্রভৃতি জায়গায় অর্ধ পক্ক গম ও ছোলা খাওয়ার রীতিও আছে।তবে হোলি শুরুর এক বিখ্যাত পৌরানিক গল্পও আছে, যা আমরা অনেকেই জানি।
গল্পটি হল এরকম
হিরণ্যকশিপু নামের এক দৈত্য রাজা বাস করত পুরাকালে। সে ছিল মহর্ষি কশ্যপ ও তাঁর পত্নী দিতির পুত্র।সে একবার ভগবান ব্রহ্মার কঠোর তপস্যা করেছিল। তার ভক্তি তে খুশি হয়ে ভগবান ব্রহ্মা রাজা হিরণ্যকশিপুকে কিছু বিশেষ ক্ষমতা দিয়েছিল।কিন্ত এই বিশেষ ক্ষমতা পেয়ে পরবর্তী কালে অত্যন্ত অহংকারী হয়ে ওঠে হিরণ্যকশিপু ।ব্রহ্মার বরে হিরণ্যকশিপু দেবতা ও মানব বিজয়ী হয়ে দেবতাদের অবহেলা করতে শুরু করে।এই দৈত্য রাজা তখন তার প্রজাদের বিষ্ণুর এবং অন্যান্য সকল দেবতাদের উপাসনা বন্ধ করে সমগ্র রাজ্যে নিজের উপাসনা করতে বাধ্য করে। হিরণ্যকশিপুর এক পুত্র ছিল।তার নাম প্রহ্লাদ ,সে ছিল ছোটবেলা থেকেই প্রকৃত বিষ্ণু ভক্ত।সে তার পিতার আদেশে কখনওই বিষ্ণুর উপাসনা ত্যাগ করে পিতার উপাসনা করতে রাজি ছিল না।হিরণ্যকশিপু পুত্রের এইরূপ আচরণে অত্যন্ত ক্রোধিত হয়েছিল।তাই সে নিজের সন্তানকে মারার জন্য বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করে।হিরণ্যকশিপু প্রহ্লাদকে মেরে ফেলার জন্যে কখনো তার খাবারে বিষ প্রয়োগ করে, আবার কখনো মত্ত হাতীর পায়ের নীচে তার পুত্র প্রহ্লাদ কে ফেলে দেয়।কিন্তু বিষ্ণু ভক্ত প্রহ্লাদ প্রতিবারই বেঁচে যায়।তাই সে তার পুত্রকে বিষধর সাপেদের সঙ্গেও কারারুদ্ধ করে রাখে, কিন্তু কোনভাবেই তাকে হত্যা করতে সক্ষম হয় না।
শেষমেষ কোনো উপায় না দেখে তার বোনকে তার একমাত্র পুত্রকে মারতে বলেন।তার বোনের নাম ছিল হোলিকা। হোলিকার এক বিশেষ মন্ত্রপূত শাল ছিল যা তাকে সবসময় আগুন থেকে রক্ষা করত।তাই দৈত্য রাজা হিরণ্যকশিপু ভেবেছিল বোন তার একমাত্র পুত্রকে নিয়ে আগুনে বসবে আর আগুনের তাপে তার সন্তানের মৃত্যু ঘটবে।কিন্তু বাস্তবে তার উল্টো ঘটনা ঘটেছিল।দাদার আদেশে হোলিকা এক বিশাল অগ্নিকুন্ডে ভাইপো প্রহ্লাদকে নিয়ে বসে।কিন্তু ঈশ্বর যার সহায় তাকে মারার ক্ষমতা কারো কি আছে?তাই অগ্নিকুন্ডে প্রবেশ করার পর অদ্ভুতভাবে, আগুনে পুড়ে হোলিকার মৃত্যু হয়। বেঁচে যায় ভগবান বিষ্ণুর একনিষ্ঠ ভক্ত প্রহ্লাদ।হোলিকার মন্ত্রপূত শাল , যা তাকে আগুনের হাত থেকে রক্ষা করত তা তাকে আগুন থেকে রক্ষা করতে পারে নি।রক্ষা করেছিল প্রহ্লাদকে।
(Social media brings you the latest breaking news, viral news from the world of social media including Twitter, Instagram and YouTube. The above post is embedded directly from the user's social media account. This body of content has not been edited or may not be edited by Latestly staff. Opinions appearing on social media posts and the facts do not reflect the opinions of Latestly, and Latestly assumes no responsibility for the same.)