দেশের স্বার্থ সবার আগে, বাণিজ্যে বিশেষ সুবিধা প্রত্যাহারে আমেরিকাকে পাল্টা জবাব ভারতের

মোদি দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ গ্রহনের পরেই চরম সিদ্ধান্তের কথা জানায় আমেরিকা।

মোদি-ট্রাম্প((Photo Credits: ANI)

দিল্লি, ১ জুন, ২০১৯:‌ মোদি দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ গ্রহনের পরেই চরম সিদ্ধান্তের কথা জানায় আমেরিকা (US)। দ্য জেনারেলাইজড সিস্টেম অব প্রেফারেন্স (GSP)-র আওতায় বিশেষ সুবিধাভোগী দেশের তালিকায় ভারতকে অন্তর্ভুক্ত কর‌া ‌হচ্ছে না। জানিয়ে দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। এই সিদ্ধান্তের সারমর্ম হল, এবার থেকে আর ভারত শুল্ক না দিয়ে আমেরিকায় কোনও পণ্য রপ্তানি করতে পারবে না। ৫ জুন শেষ হচ্ছে এই সুবিধা।

আমেরিকার এই সিদ্ধান্তে যে ভারত ( India ) বিন্দুমাত্র ত্রস্ত নয় তা বিবৃতি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে নয়াদিল্লি। দেশের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেবে ভারত। এবং পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে নয়াদিল্লি জানিয়েছে আমেিরকা যে পদক্ষেপ করেছে ঠিক একই ভাবে এবার থেকে আমেরিকাকেও ভারতে ব্যাবসা করতে হলে শুল্ক দিয়েই বাণিজ্য করতে হবে।

জিএসপি আওতায় এত দিন উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে নানা সুবিধা পেয়ে এসেছে ভারত। বিশেষ করে গাড়ির যন্ত্রাংশ ও বস্ত্র উত্পাদনের কাঁচামাল-সহ প্রায় ২০০০ পণ্য বিনা শুল্কে রপ্তানি করে ভারত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ছোটো ব্যবসায়ীরা কম দামে সে সব কাঁচামাল ক্রয় করেন। এর ফলে উৎপাদিত পণ্যের দামও তুলনামূলক কম হয়। ২০১৭ সালে ভারত প্রায় ৫৭০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রফতানি করেছে। যা মার্কিন-ভারত বাণিজ্য সম্পর্কে নয়া দৃষ্টান্ত তৈরি করে মোদী সরকার।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বরাবরই অভিযোগ, ভারতের পণ্যের উপর কোনও শুল্ক চাপানো হয় না। কিন্তু তাদের পণ্যে একশো শতাংশ শুল্ক চাপাচ্ছে ভারত। মার্কিন রপ্তানি পণ্যে শুল্কের হার শূন্যে নামানোর দাবি জানান ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারত তাঁর এই হুঁশিয়ারিতে কর্ণপাত না করায়, জিএসপি থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত নেন ট্রাম্প।

মার্কিন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারতের তুলনায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই। এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারে নয়া শুল্ক গুনতে হবে আমেরিকার ছোটো ব্যবসায়ীদের। বিনিয়োগে ঘাটতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বেকারত্বও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Share Now
Advertisement


Advertisement
Advertisement
Share Now
Advertisement