লাল কেল্লায় বন্দে মাতরম: ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত ও গানের ১৫১ বছরের যাত্রা

আগামী ১৫ই আগস্ট ২০২৬, ভারত তার ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করবে, যেখানে লাল কেল্লার ঐতিহাসিক পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো ধ্বনিত হবে জাতীয় গান 'বন্দে মাতরম'। এই বিশেষ সংযোজন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী এই গানের ১৫১ বছরের যাত্রাকে স্মরণীয় করে রাখবে। 'যুব শক্তি' থিমের অধীনে এই বছর দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও সংস্কৃতির প্রতি নতুন প্রজন্মের.

Photo Credit Twiter

Vande Mataram at Red Fort: আগামী ১৫ই আগস্ট ২০২৬ তারিখে ভারত তার স্বাধীনতা লাভের ৭৯ বছর পূর্ণ করে ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করবে। ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্তি পাওয়ার এই পবিত্র দিনটি প্রতি বছরই দেশজুড়ে পালিত হয় পরম শ্রদ্ধা ও দেশাত্মবোধের সাথে। তবে এই বছর, লাল কেল্লায় আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে একটি বিশেষ সংযোজন ভারতীয়দের হৃদয়ে এক নতুন শিহরণ জাগাচ্ছে—এই প্রথমবার জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সময় পরিবেশিত হবে আমাদের জাতীয় গান 'বন্দে মাতরম'।

বন্দে মাতরমের ঐতিহাসিক সংযোজন

ঐতিহাসিকভাবে, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পতাকা উত্তোলন করার পর জাতীয় সঙ্গীত 'জন গণ মন' পরিবেশিত হয়ে থাকে। কিন্তু ২০২৬ সালের এই বিশেষ দিনে, কেন্দ্রীয় সরকার দীর্ঘদিনের এই রীতিতে পরিবর্তন এনেছে। প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিং ১০ই আগস্ট নয়াদিল্লিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ঘোষণা করেছেন যে, ১৫ই আগস্টের মূল অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের আগে প্রথমে 'বন্দে মাতরম' গানটি গাওয়া হবে, এবং তারপর পরিবেশিত হবে জাতীয় সঙ্গীত।

১৫১ বছরের পথচলা

'বন্দে মাতরম' গানের এই ঐতিহাসিক উপস্থাপনার মূল কারণ হলো এর ১৫১ বছর পূর্তি উদযাপন। ১৮৭৫ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এই দেশাত্মবোধক গানটি রচনা করেন এবং ১৮৮২ সালে এটি তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস 'আনন্দমঠ'-এ অন্তর্ভুক্ত হয়। গানটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৮৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর 'বঙ্গদর্শন' সাহিত্য পত্রিকায়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৯৬ সালে কলকাতা কংগ্রেসের অধিবেশনে প্রথম এই গানটি গেয়েছিলেন। স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় 'বন্দে মাতরম' লক্ষ লক্ষ বিপ্লবীর অনুপ্রেরণা ছিল এবং মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসার এক শক্তিশালী প্রতীক হয়ে উঠেছিল।

লাল কেল্লার বর্ণাঢ্য আয়োজন

লাল কেল্লায় আয়োজিত এই বছরের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান 'যুব শক্তি' (Youth Power) থিমকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো নতুন প্রজন্মের সাথে স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসকে আরও নিবিড়ভাবে সংযুক্ত করা। প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন এবং ভারতীয় বায়ুসেনার হেলিকপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টি করা হবে। প্রায় ২৫০০ যুবক-যুবতী, যাদের মধ্যে এনসিসি ক্যাডেট এবং 'মাই ভারত' প্ল্যাটফর্ম থেকে নির্বাচিত স্বেচ্ছাসেবকরা থাকবেন, লাল কেল্লার মূল ফটকের সামনে একটি মানববন্ধনে 'বন্দে মাতরম' রচনা করে প্রদর্শন করবেন এবং সমবেত কণ্ঠে এই গান পরিবেশন করবেন।

অনুষ্ঠানের বিবরণ সময়/গুরুত্ব
জাতীয় পতাকা উত্তোলন সকাল ৭:৩০ মিনিট (আনুমানিক)
গার্ড অফ অনার প্রধানমন্ত্রীর আগমনের পর
'বন্দে মাতরম' পরিবেশন জাতীয় পতাকা উত্তোলনের ঠিক আগে, এই প্রথমবার
জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন 'বন্দে মাতরম'-এর পর
প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের পর
পুষ্পবৃষ্টি ভারতীয় বায়ুসেনার হেলিকপ্টার দ্বারা
ছুটি সারা ভারত জুড়ে জাতীয় ছুটি

এই বছরের স্বাধীনতা দিবস কেবল ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্তির বার্ষিকী নয়, বরং 'বন্দে মাতরম' গানের ১৫১ বছরের গৌরবময় যাত্রাকে সম্মান জানানোরও এক বিশেষ সুযোগ। এই ঐতিহাসিক পরিবর্তন দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধাকে আরও একবার তুলে ধরবে।

Share Now
Advertisement


Advertisement
Share Now
Advertisement