বেড়েই চলছে চিনির দাম, ১২ দিনে খুচরো বাজারে ২০% মূল্যবৃদ্ধি! নেপথ্যে কি ইথানল উৎপাদন

মাত্র ১২ দিনের ব্যবধানে দেশের খুচরো বাজারে চিনির দাম কেজি প্রতি ৫২ টাকা থেকে লাফিয়ে প্রায় ৬২ টাকায় পৌঁছেছে। অর্থাৎ স্বল্প সময়ের মধ্যে মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে ১৯ থেকে ২১ শতাংশ। সামনেই উৎসবের মরশুম, আর তার ঠিক আগেই চিনির এই অনিয়ন্ত্রিত দরবৃদ্ধি চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে সাধারণ মানুষের কপালে।

Sugar Price Hike: মাত্র ১২ দিনের ব্যবধানে দেশের খুচরো বাজারে চিনির দাম কেজি প্রতি ৫২ টাকা থেকে লাফিয়ে প্রায় ৬২ টাকায় পৌঁছেছে। অর্থাৎ স্বল্প সময়ের মধ্যে মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে ১৯ থেকে ২১ শতাংশ। সামনেই উৎসবের মরশুম, আর তার ঠিক আগেই চিনির এই অনিয়ন্ত্রিত দরবৃদ্ধি চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে সাধারণ মানুষের কপালে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনগুলোতে চিনির দাম আরও বাড়তে পারে, যা সরকারের ঘরোয়া সরবরাহ ও বাজার দর নিয়ন্ত্রণের চেষ্টাকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।

কেন হঠাৎ আগুন চিনির বাজারে

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বাজারে চিনির যোগান রেকর্ড পরিমাণে কমে যাওয়ার আশঙ্কা এবং তার ওপর ভিত্তি করে ব্যবসায়ীদের জল্পনাই এই মূল্যবৃদ্ধির অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। তবে মূল কারণ তিনটি:

কম উৎপাদন: চলতি মরশুমে প্রাথমিক অনুমানের চেয়ে চিনি উৎপাদন অনেকটাই কম হয়েছে।

ইথানল তৈরিতে ব্যবহার: আখ থেকে উৎপন্ন কাঁচামাল বিপুল পরিমাণে বায়ো-ফুয়েল বা ইথানল উৎপাদনে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

পূর্বে রফতানির অনুমতি: উৎপাদনের সঠিক হিসাব না পেয়ে শুরুতেই বিপুল পরিমাণ চিনি বিদেশে রফতানির অনুমতি দিয়েছিল কেন্দ্র।

কোথায় সমস্যা

শিল্প সংস্থাগুলির প্রাথমিক অনুমান ছিল চলতি মরশুমে (অক্টোবর ২০২৫ - সেপ্টেম্বর ২০২৬) মোট ৩৪২ লাখ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদিত হবে। সেই ভুল হিসাবের ওপর ভরসা করে সরকার দুই দফায় ২০ লাখ মেট্রিক টন চিনি রফতানির অনুমতি দেয়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় মোট উৎপাদন হয়েছে মাত্র ৩০৮ লাখ মেট্রিক টন। তার মধ্যে আবার ২৮ লাখ মেট্রিক টন চিনি ইথানল উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হয়। ফলে ঘরোয়া ব্যবহারের জন্য অবশিষ্ট থাকে মাত্র ২৮০ লাখ মেট্রিক টন। পরবর্তীতে মে মাসে রফতানি নিষিদ্ধ করা হলেও, ততক্ষণে ৮ লাখ মেট্রিক টন চিনি দেশ থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল।

১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন মজুতের আশঙ্কা

ভারতে প্রতি মাসে গড়ে ২৪ লাখ মেট্রিক টন চিনির প্রয়োজন হয়। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে সেপ্টেম্বরের শেষে দেশের গুদামগুলোতে অন্তত ৬০ লাখ মেট্রিক টন চিনি মজুত থাকা প্রয়োজন। কিন্তু রিপোর্ট অনুযায়ী, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর মরশুম শেষে এই মজুতের পরিমাণ মাত্র ৩২ লাখ মেট্রিক টনে নেমে আসতে পারে। গত মরশুমেও যা ছিল ৪৭ লাখ মেট্রিক টন। এই পরিসংখ্যান সত্যি হলে, ২০১০ সালের পর এটাই হবে দেশের সর্বনিম্ন সমাপ্তি মজুত (Closing Stock)।

সরকারের পদক্ষেপ ও জল্পনা

চিনির এই ঘাটতির খবর সামনে আসতেই বাজারে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। ট্রেডারদের একটি বড় অংশ কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে বলেও অভিযোগ উঠছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কেন্দ্র সম্প্রতি আগামী ৩০ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত দেশব্যাপী চিনি ব্যবসায়ীদের ওপর মজুতসীমা (Stockholding Limit) নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। তবে ইথানল উৎপাদনে আখের ব্যবহার কমিয়ে চিনি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে কিনা, এখন সেটাই দেখার।

Share Now
Advertisement


Advertisement
Advertisement
Share Now
Advertisement