ভারতেও প্লাস্টিকের টাকা! পরীক্ষামূলকভাবে ১০ ও ২০ টাকার পলিমার নোট চালু করছে RBI

Plastic Polymer Note: নগদ লেনদেনে বড়সড় স্থায়ী পরিবর্তন আনতে চলেছে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI)। খুব শীঘ্রই পরীক্ষামূলকভাবে দেশে চালু হতে চলেছে প্লাস্টিক বা 'পলিমার' ব্যাঙ্কনোট।

Money/ Cash (Representative Image; Photo Credit: Pixabay)

Plastic Polymer Note: নগদ লেনদেনে বড়সড় স্থায়ী পরিবর্তন আনতে চলেছে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI)। খুব শীঘ্রই পরীক্ষামূলকভাবে দেশে চালু হতে চলেছে প্লাস্টিক বা 'পলিমার' ব্যাঙ্কনোট। প্রথম ধাপে ১০ টাকা এবং ২০ টাকার নোট পলিমার সাবস্ট্রেটে বা প্লাস্টিকে তৈরি করে বাজারজাত করার পরিকল্পনা রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের। তবে ক্যাশ ব্যবহারকারীদের এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই; এই প্লাস্টিক নোট পুরনো কাগজের নোটকে রাতারাতি তুলে দেবে না, বরং দুটিই পাশাপাশি বাজারে প্রচলিত থাকবে।

সম্প্রতি লোকসভায় এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় সরকার আরবিআই-এর প্রস্তাব মেনে ১০ টাকা ও ২০ টাকার ১০০ কোটি করে পলিমার নোট ফিল্ড ট্রায়াল বা পরীক্ষামূলকভাবে বাজারে ছাড়ার অনুমতি দিয়েছে।

কেন কাগজ ছেড়ে প্লাস্টিকের নোট

কাগজের নোটের তুলনায় প্লাস্টিক বা পলিমার নোটের স্থায়িত্ব অনেক বেশি। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের দেওয়া আন্তর্জাতিক গবেষণা অনুযায়ী, সাধারণ সুতি-কাগজে (cotton-paper) তৈরি নোটের চেয়ে প্লাস্টিকের নোট অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী এবং টেকসই হয়। ভারতে মুদ্রা প্রচলনের মাত্রা বিশাল। ফলে পুরনো বা ছিঁড়ে যাওয়া নোট বাতিল করে নতুন নোট ছাপাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়। পলিমার নোট দীর্ঘস্থায়ী হলে বারবার নতুন নোট ছাপানোর খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। তবে ভারতের বৈচিত্র্যময় আবহাওয়া এবং নাগরিকদের ব্যবহারে এই নোট কতটা টিকে থাকতে পারবে, তা যাচাই করতেই এই বিশেষ ‘ফিল্ড ট্রায়াল’। আর্দ্রতা, অতিরিক্ত গরম, ধূলোবালি এবং দৈনন্দিন ব্যবহার বা দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্লাস্টিক নোটের কার্যকারিতা খতিয়ে দেখা হবে।

ডিজিটাল পেমেন্ট ও কাগজের নোটের ভবিষ্যৎ

ইউপিআই (UPI) এবং অন্যান্য ডিজিটাল পেমেন্টের প্রসারের মাঝে এই প্লাস্টিক নোট লেনদেনে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে এখনই কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করতে রাজি নয় আরবিআই। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের হাতে নতুন এই নোট আসার পর এবং এটি বাজারে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পরেই ডিজিটাল পেমেন্টের ওপর এর কোনো প্রভাব রয়েছে কি না তা মূল্যায়ন করা যাবে। তবে আরবিআই স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ক্যাশ টাকা এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা একে অপরের প্রতিযোগী নয়, বরং পরিপূরক। তাই কাগজের নোট, প্লাস্টিক নোট এবং ডিজিটাল লেনদেন, সব মাধ্যমই দেশের সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে একসাথে বাজারে চালু থাকবে।

Share Now
Advertisement


Advertisement
Advertisement
Share Now
Advertisement