Manipur Violence: মণিপুরে ফের হিংসার তাণ্ডব, ১২ ঘণ্টায় হত ৯, ব্যাপক গুলির লড়াই ও ঘরবাড়িতে আগুন
মণিপুরের পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে থামছেই না হিংসার দাবানল। শনিবার,১০ অক্টোবর, মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে রাজ্যের তিনটি পাহাড়ি জেলায় নতুন করে ছড়ানো জাতিগত সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে এক কুকি মহিলা এবং এক গোর্খা কৃষকসহ মোট ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
Manipur Violence: মণিপুরের পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে থামছেই না হিংসার দাবানল। শনিবার,১০ অক্টোবর, মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে রাজ্যের তিনটি পাহাড়ি জেলায় নতুন করে ছড়ানো জাতিগত সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে এক কুকি মহিলা এবং এক গোর্খা কৃষকসহ মোট ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সংঘর্ষের জেরে নাগা ও কুকি অধ্যুষিত একাধিক এলাকায় বাড়িঘর ও দোকানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কামজং (Kamjong) জেলায় ১৪৪ ধারা/নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন এবং উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ২০২ নম্বর জাতীয় সড়কে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের (Shutdown) ডাক দেওয়া হয়েছে।
মণিপুরের সাম্প্রতিক অবস্থা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক এই সহিংসতায় নিহতদের মধ্যে ৬ জন নাগা, ২ জন কুকি এবং ১ জন গোর্খা কৃষক রয়েছেন। বিগত এক বছরে এটি রাজ্যে ঘটা অন্যতম মারাত্মক সহিংসতার ঘটনা।
দেখুন ভিডিও
কামজং জেলায় ঠিক কী ঘটেছিল?
শুক্রবার রাতে কামজং জেলার চাসাদ (Chassad) গ্রামে ডোমখোনেই তুথাং (Domkhonei Touthang) নামে ৪২ বছরের এক কুকি মহিলার মৃত্যুর পর থেকেই পরিস্থিতির অবক্ষয় ঘটে। পুলিশ, ইন্ডিয়ান রিজার্ভ ব্যাটালিয়ন (IRB) ও বিএসএফ-এর যৌথ দল গ্রামের গার্ড পোস্টগুলো ভেঙে ফেলার প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন তিনি। প্রতিবাদ চলাকালীন নিরাপত্তা বাহিনী ও সশস্ত্র উগ্রপন্থীদের মধ্যে চলা গোলাগুলির মধ্যে পড়ে যান ওই মহিলা। তাঁর বুক ও পায়ে গুলি লাগে এবং রাত ১০টা নাগাদ তিনি প্রাণ হারান। কুকি-জো সংগঠনগুলোর অভিযোগ, এই মৃত্যুর জন্য নিরাপত্তা বাহিনী এবং নাগা সশস্ত্র গোষ্ঠী NSCN-IM যৌথভাবে দায়ী। এই ঘটনার জেরে শনিবার ভোরে পরিস্থিতি আরও বিষিয়ে ওঠে এবং অজ্ঞাতপরিচয় উগ্রপন্থীরা নাগা ও কুকি অধ্যুষিত এলাকায় একের পর এক বাড়ি ও দোকানে আগুন ধরিয়ে দেয়।
তিনটি পাহাড়ি জেলায় পরপর হামলা ও প্রাণহানি
চাসাদ (কামজং): শনিবার ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ চাসাদে নতুন করে হামলায় মাইকেল নগামমিনলেন হাওকিপ (২২) নামের এক তরুণ নিহত হন। একাধিক কুকি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
ভারত-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকা:নিংচৌ (Ningchou) গ্রামের কাছে সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ দুই নাগা নাগরিক— চানসো নিংশেন (৩৫) এবং লেইশিষান লেইশাদাং (৪৫) খুন হন।
কাংপোকপি জেলা (Kangpokpi): কুকি এসওও (SoO) গোষ্ঠীর সশস্ত্র সদস্যরা লিয়াংমাই নাগা অধ্যুষিত মাকুই আসাং (Makui Asang) গ্রাম ঘিরে ফেলে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুললে উভয়পক্ষের মধ্যে তুমুল বন্দুকযুদ্ধ হয়। এতে গ্রামের ৪ জন রক্ষী নিহত হন। এর মধ্যে আজিনপোও রিংকাংমাই (Ajinpou Ringkangmai) নামে একজনকে শিরশ্ছেদ করে হত্যা করা হয় বলে খবর। বাকি তিনজন হলেন দাইমাই মাচুঙ্গামাম, রবার্ট এবং ডি রিংকাংমাই।
উকহরুল জেলা (Ukhrul): সকাল ৬টা নাগাদ মহাদেব-তোলোই-ফুটসেরো রাস্তা দিয়ে যাওয়ার পথে সান্দীপ রাই (৪০) নামে এক গোর্খা কৃষককে গুলি করে হত্যা করে দুষ্কৃতীরা।
জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ ও প্রশাসনিক কড়াকড়ি
সংঘাতের ভয়াবহতার মুখে দাঁড়িয়ে কামজং জেলাজুড়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। পাশাপাশি, ওই অঞ্চলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম ২০২ নম্বর জাতীয় সড়কে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের ডাক দিয়েছে একাধিক স্থানীয় সংগঠন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া নতুন দফার নাগা-কুকি সংঘর্ষে এ পর্যন্ত অন্তত ২২ জন নাগা এবং ৩১ জন কুকি প্রাণ হারিয়েছেন।
শান্তি ফেরাতে মোদীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী খেমচানদের বৈঠক
রাজ্যে ফের বড় ধরনের হিংসা ছড়ানোর সময় মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচান্দ সিং (Y Khemchand Singh) নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে শান্তি ও স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। অন্যদিকে, রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং উখবুল জেলায় গোর্খা কৃষক হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি রাজ্যজুড়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান জোরদার করা, সশস্ত্র উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভারত-মিয়ানমার সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও নিশ্ছিদ্র করার আহ্বান জানিয়েছেন।