Sheikh Hasina: জয়শঙ্করের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রীর বৈঠক: শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর আবেদন

নয়া দিল্লিতে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান। এই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর আবেদন জানানো হয়েছে।

Sheikh Hasina (Photo Credit: FB)

ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান। বৃহস্পতিবার নয়া দিল্লিতে আয়োজিত এই বৈঠকে দুই প্রতিবেশী দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এই আলোচনার কেন্দ্রে ছিল বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর প্রসঙ্গ। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতকে অনুরোধ জানানো হয়েছে যাতে হাসিনাকে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করতে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিক আবেদন

বৈঠক চলাকালীন খলিলুর রহমান ভারতের কাছে দাবি জানান যে, বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রুজু হয়েছে। এই আইনি প্রক্রিয়াগুলি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তাঁকে বাংলাদেশের হেফাজতে প্রয়োজন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় এই প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত। ভারতের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়া না হলেও, বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও সীমান্ত নিরাপত্তা

শেখ হাসিনা ইস্যু ছাড়াও বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বর্তমানে চলমান বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে দুই মন্ত্রী একমত হয়েছেন। জয়শঙ্কর পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে স্থিতিশীল এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সীমান্তে উত্তেজনা হ্রাস এবং পাচার রুখতে বিএসএফ ও বিজিবি-র মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতার বার্তা

খলিলুর রহমান ভারতের বিদেশমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেছেন যে, বাংলাদেশের মাটি কোনোভাবেই ভারতের বিরুদ্ধে কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী বা জঙ্গি গোষ্ঠীকে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। অন্যদিকে, এস জয়শঙ্কর দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও দুই দেশ কীভাবে নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করতে পারে, তা নিয়ে উভয় পক্ষ সদর্থক আলোচনা করেছে।

পটভূমি ও বর্তমান পরিস্থিতি

গত ৫ আগস্ট গণআন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। তারপর থেকেই বাংলাদেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে এবং শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে। নয়া দিল্লির এই বৈঠকটি বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের নিরবচ্ছিন্নতা বজায় রাখা তাদের অন্যতম অগ্রাধিকার।

Share Now
Advertisement


Advertisement
Advertisement
Share Now
Advertisement