Monsoon Rain: আকাশে মেঘ উধাও! তবে কি ভারতে বর্ষার বিদায়ঘণ্টা? এল নিনোর প্রভাব নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
আকাশে পেঁজা তুলোর মতো মেঘ আর রোদের আনাগোনা জানান দিচ্ছে যে দেশের বর্ষার গতিপথে এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্পষ্ট। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যাচ্ছে, ভারত মহাসাগর এবং বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ওপর থেকে মেঘের আস্তরণ দ্রুত সরতে শুরু করেছে। কয়েক সপ্তাহের টানা বর্ষণের পর বৃষ্টির এই বিরতি ও মেঘ কেটে যাওয়া আবহাওয়াবিদদের মনে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
Monsoon Rain: আকাশে পেঁজা তুলোর মতো মেঘ আর রোদের আনাগোনা জানান দিচ্ছে যে দেশের বর্ষার গতিপথে এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্পষ্ট। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যাচ্ছে, ভারত মহাসাগর এবং বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ওপর থেকে মেঘের আস্তরণ দ্রুত সরতে শুরু করেছে। কয়েক সপ্তাহের টানা বর্ষণের পর বৃষ্টির এই বিরতি ও মেঘ কেটে যাওয়া আবহাওয়াবিদদের মনে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনো পরিস্থিতির পুনঃউত্থান আবার ভারতের বর্ষাকে এক নিস্তেজ পর্বের দিকে ঠেলে দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমছে
বর্তমানে মূলত মধ্য ভারতের ওপর অবস্থানরত নিম্নচাপটিই যা একটু মেঘ ও বর্ষণের রসদ জুগিয়ে চলেছে। তবে দেশের বাকি অংশে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ লক্ষণীয়ভাবে কমতে শুরু করেছে। সবথেকে বড় সংকেত মিলছে বঙ্গোপসাগরের ওপর মেঘের ঘনঘটা হ্রাস পাওয়া থেকে, যা ভারতীয় উপমহাদেশে বর্ষার জলীয় বাষ্প জোগানোর প্রধান উৎস। এখানে মেঘ ও মেঘপুঞ্জের সক্রিয়তা কমে যাওয়ার অর্থ হল মূল ভূখণ্ডের দিকে আর্দ্র বাতাস প্রবাহের গতি শিথিল হয়ে যাওয়া, যার ফলে নতুন করে কোনো শক্তিশালী বৃষ্টিবাহী নিম্নচাপ তৈরির সম্ভাবনাও কমে যায়।
বর্ষার অক্ষরেখাটি ক্রমশ দক্ষিণ দিকে সরছে
এর পাশাপাশি বর্ষার অক্ষরেখাটি ক্রমশ দক্ষিণ দিকে সরে যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে উত্তরের সমতল অঞ্চলগুলিতে। দিল্লি, হরিয়ানা, পঞ্জাব এবং উত্তরপ্রদেশে আপাতত ব্যাপক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে এবং সেখানে শুষ্ক আবহাওয়া ফিরে আসার পূর্বাভাস রয়েছে। যদিও কিছু স্থানীয় অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি স্বস্তির বৃষ্টি হতে পারে, তবে তা খুব বেশিক্ষণ স্থায়ী হবে না।
এল নিনোর গতিবিধির ওপর নজর
আবহাওয়া গবেষকরা বেশ কিছুদিন ধরেই প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনোর গতিবিধির ওপর সতর্ক নজর রাখছেন। সাধারণত এল নিনো সক্রিয় হলে বায়ুমণ্ডলীয় সংবহন এমনভাবে প্রভাবিত হয়, যার দরুন ভারতের গ্রীষ্মকালীন মৌসুমি বায়ু দুর্বল হয়ে পড়ে। যদিও প্রতিটি এল নিনো বছরের তীব্রতা এক হয় না, তবুও বঙ্গোপসাগরের বর্তমান ছবি মোটেও আশাব্যঞ্জক নয়।
অবশ্যই এর মানে এই নয় যে দেশজুড়ে বর্ষা পুরোপুরি থমকে গেছে। মধ্য ভারতে এখনও বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। কিন্তু সামগ্রিকভাবে মেঘের এই অন্তর্ধান এবং বঙ্গোপসাগরের ঝিমিয়ে পড়া ভাব ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বর্ষা হয়তো আরও একটি শুষ্ক ও শ্লথ পর্বে প্রবেশ করতে চলেছে। উত্তর ভারতের বাসিন্দাদের জন্য এর তাৎক্ষণিক প্রভাব হল সাময়িক প্রখর রোদ ও গরম ফিরে আসা। এখন মূল প্রশ্ন একটাই, মেঘের এই উধাও হওয়া কেবলই কি এক সাময়িক বিরতি, নাকি এল নিনো তার প্রভাব ফেলে ভারতের বর্ষার রাশ নিজের হাতে নিতে শুরু করল?