Maruti Suzuki Raising Car Prices: সেপ্টেম্বর থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত গাড়ির দাম বাড়াচ্ছ মারুতি সুজুকি, কিন্তু কেন
গাড়ি বাজারের ছবিটা এক নিমেষে বদলে দিয়ে দেশের বৃহত্তম গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থা 'মারুতি সুজুকি ইন্ডিয়া' (Maruti Suzuki India) তাদের বেশ কিছু জনপ্রিয় মডেলের দাম বাড়ানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করল।
Maruti Suzuki Raising Car Prices: অর্থনীতি সংক্রান্ত নিজস্ব প্রতিবেদন: সামনেই পুজোর মরসুম। আর পুজোর কেনাকাটার ঠিক মুখেই গাড়ি কেনার পরিকল্পনা রাখা মধ্যবিত্তের জন্য অপেক্ষা করছিল এক বড় ধাক্কা। গাড়ি বাজারের ছবিটা এক নিমেষে বদলে দিয়ে দেশের বৃহত্তম গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থা 'মারুতি সুজুকি ইন্ডিয়া' (Maruti Suzuki India) তাদের বেশ কিছু জনপ্রিয় মডেলের দাম বাড়ানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করল। এই দাম বৃদ্ধি চলতি সেপ্টেম্বর মাস থেকেই কার্যকর হতে চলেছে। মডেল এবং ভ্যারিয়েন্ট অনুযায়ী গাড়ি পিছু সর্বোচ্চ ২০,০০০ টাকা পর্যন্ত বেশি খসাতে হবে ক্রেতাদের। আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন খরচ চরম আকার ধারণ করার কারণেই সংস্থা এই অপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের মে মাসের পর থেকে এটিই মারুতির তৃতীয় মূল্যবৃদ্ধি।
কেন হঠাৎ গাড়ির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত?
শেয়ার বাজারে জমা দেওয়া তাদের সাম্প্রতিকতম আর্থিক নথিতে সংস্থা স্পষ্ট জানিয়েছে, উৎপাদন প্রযুক্তির খরচ এবং কাঁচামালের দামে টানা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাই এই মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ। বিশ্ববাজারে গাড়ি তৈরির অত্যাবশ্যকীয় উপাদান যেমন—ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, তামা ও অন্যান্য যন্ত্রাংশের দাম দীর্ঘদিন ধরেই উচ্চমাত্রায় স্থিতিশীল রয়েছে।
সংস্থার তরফ থেকে প্রকাশ করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে—
অভ্যন্তরীণ ব্যয় নিয়ন্ত্রণ: বিগত কয়েক মাস ধরে সংস্থা নিজেদের বাজেটে কাটছাঁট করে এবং অভ্যন্তরীণ খরচ কমিয়ে এই বাড়তি ব্যয়ের চাপ গ্রাহকদের হাত থেকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছিল।
মূল্যস্ফীতির ধাক্কা: কিন্তু বাজারে দীর্ঘমেয়াদী মূল্যস্ফীতির হার কমতে না থাকায়, শেষ পর্যন্ত সেই বাড়তি উৎপাদন খরচের একটি আংশিক বোঝা বাধ্য হয়েই সাধারণ বাজারের ওপর বা ক্রেতাদের ওপর চাপাতে হচ্ছে।
গ্রাহক স্বার্থ রক্ষা: তবে একই সঙ্গে সংস্থাটি দাবি করেছে, দাম এমনভাবে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে যাতে সাধারণ ক্রেতার পকেটে ধাক্কা যতটা সম্ভব কম লাগে।
রেকর্ড বিক্রি ও ইকো-র অভূতপূর্ব সাফল্য
মারুতির এই মূল্যবৃদ্ধির খবর এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন দেশে তাদের গাড়ির চাহিদা রীতিমতো তুঙ্গে। অগস্ট মাসের গাড়ি বিক্রির তথ্যে সেই আকাশছোঁয়া সাফল্যের স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা গেছে। সদ্য সমাপ্ত অগস্টে মারুতি সুজুকি দেশে ও বিদেশে মিলিয়ে মোট ২,১৯,২২০টি গাড়ি বিক্রি করার ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়েছে। কেবল ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারেই বিক্রি হয়েছে ১,৭৬,৯৭১টি যাত্রীবাহী গাড়ি। যদিও বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে তাদের আন্তর্জাতিক রপ্তানি বাণিজ্য কিছুটা থমকে দাঁড়িয়েছে এবং প্রায় ৭ শতাংশের পতন প্রত্যক্ষ করেছে (রপ্তানি হয়েছে ৩৩,৮৪৪টি ইউনিট)।
মারুতির সফর
এরই পাশাপাশি, মধ্যবিত্ত পরিবারের অন্যতম ভরসা এবং কমার্শিয়াল খাতের অতি পরিচিত মুখ ‘মারুতি ইকো’ (Eeco) এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছে। ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে ভারতীয় বাজারে আত্মপ্রকাশের পর থেকে চলতি বছরে ইকো-র মোট বিক্রি ১৫ লাখের বিশালাকার গণ্ডি পার করে ফেলেছে। ছোট ব্যবসা চালানো থেকে শুরু করে যৌথ পরিবারের যাতায়াত—উভয় ক্ষেত্রেই এই গাড়ির কোনো বিকল্প এখনো তৈরি করা যায়নি।
বিক্রির পরিসংখ্যানের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী
তবে বিক্রির পরিসংখ্যানের গ্রাফ যতটাই ঊর্ধ্বমুখী হোক না কেন, উৎসবের মুখে মারুতির এই সিদ্ধান্ত স্বাভাবিকভাবেই ক্রেতাদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। বিশেষ করে অল্টো, ওয়াগন আর, বালেনো বা ব্রিজার মতো জনপ্রিয় মডেলগুলির নতুন দাম কেমন দাঁড়ায়, সেদিকেই এখন নজর গাড়িপ্রেমীদের। উৎসবের মরসুমে যে বাড়তি বাজেটের পরিকল্পনা করে নামতে হবে, তা বলাই বাহুল্য।