Man Helps Wife Marry Lover: নিজের হাতে প্রেমিকের সঙ্গে স্ত্রীর বিয়ে দিলেন স্বামী, কিন্তু কেন
সংসারের টান, সমাজের ভয় কিংবা দুই পরিবারের আকুল আকুতি, কোনো কিছুতেই শেষ রক্ষা হলো না। স্বামীর সংসারে ফিরে আসতে সাফ অস্বীকার করায় শেষ পর্যন্ত এক চরম এবং ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিলেন এক যুবক।
Man Helps Wife Marry Lover: সংসারের টান, সমাজের ভয় কিংবা দুই পরিবারের আকুল আকুতি, কোনো কিছুতেই শেষ রক্ষা হলো না। স্বামীর সংসারে ফিরে আসতে সাফ অস্বীকার করায় শেষ পর্যন্ত এক চরম এবং ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিলেন এক যুবক। নিজের অধিকারের দাবি ছেড়ে, কোনো হিংসা বা শত্রুতা না রেখে, নিজের হাতেই প্রেমিকের সঙ্গে স্ত্রীর বিয়ে দিলেন তিনি। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের মালিহাবাদ থানা এলাকায়। স্বামী-স্ত্রীর এই বিচ্ছেদ ও পুনর্মিলনের গল্প এখন ওই অঞ্চলে আলোচনার শীর্ষে।
গত বছর মে মাসে বিয়ে হয়
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই যুবক পেশায় ‘প্রোভিনশিয়াল রক্ষক দল’ (PRD)-এর কর্মী। ২০২৫ সালের মে মাসে অত্যন্ত ধুমধাম করে তাঁদের বিয়ে হয়েছিল। তবে বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই সংসারে দেখা দেয় অশান্তি। সম্প্রতি কাউকে কিছু না জানিয়ে শ্বশুরবাড়ি থেকে আচমকাই নিখোঁজ হয়ে যান তরুণী। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাননি।
দেখুন খবরটি
থানায় নিখোঁজ ডায়েরি ও নাটকীয় মোড়
স্ত্রীকে কোনোভাবে খুঁজে না পেয়ে চিন্তিত স্বামী বাধ্য হয়ে মালিহাবাদ থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি নথিভুক্ত করেন। পুলিশ তরুণীর সন্ধান চালানো শুরু করার আগেই ঘটনার মোড় ঘোরে অবিশ্বাস্যভাবে। তরুণী নিজেই মালিহাবাদ থানায় এসে উপস্থিত হন। তবে তিনি একা ছিলেন না, সঙ্গে ছিলেন তাঁর প্রেমিক। পুলিশ ও পরিবার জানতে পারে, বিয়ের বহু আগে থেকেই এই যুবক ও যুবতীর মধ্যে গভীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল।
দীর্ঘ মধ্যস্থতা ও স্বামীর সংবেদনশীল সিদ্ধান্ত
তরুণীর থানায় পৌঁছানোর খবর পেয়ে সেখানে দ্রুত হাজির হন দুই পরিবারের সদস্যরা। টানা কয়েক ঘণ্টা ধরে পুলিশ ও পরিবারের প্রবীণ সদস্যরা তরুণীকে বোঝানোর চেষ্টা চালান। তাঁকে বলা হয় পুরোনো ভুল ভুলে স্বামীর ঘরে ফিরে যেতে। কিন্তু তরুণী নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি তাঁর প্রেমিকের সঙ্গেই বাকি জীবন কাটাতে চান।
স্ত্রীর এই অনড় মনোভাব দেখে বুঝতে পেরে স্বামী আর জেদ করেননি। তিনি বুঝতে পারেন, জোর করে কোনো সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা যায় না। বিবাদের পথ না হেঁটে তিনি অত্যন্ত সংবেদনশীলতার পরিচয় দেন এবং স্ত্রীর ইচ্ছেকে সম্মান জানিয়ে পারস্পরিক সম্মতিতে সম্পর্ক শেষ করতে রাজি হন। বিদায়বেলায় তিনি স্ত্রীকে আশীর্বাদ করে বলেন, তিনি যার সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করছেন, অন্তত তার প্রতি যেন সারাজীবন অনুগত থাকেন।
মন্দিরে বিয়ে ও আনন্দের সঙ্গে বিদায়
থানায় পারস্পরিক আলোচনার পর উভয় পক্ষ সিদ্ধান্ত নেয় যে কেউ কারও বিরুদ্ধে কোনো আইনি অভিযোগ দায়ের করবে না। বিষয়টি নিস্পত্তি হওয়ার পরপরই থানা প্রাঙ্গণ থেকে তরুণী ও তাঁর প্রেমিককে নিয়ে যাওয়া হয় নিকটবর্তী একটি মন্দিরে। সেখানে দুই পরিবারের উপস্থিতিতে হিন্দু শাস্ত্রীয় রীতি মেনে তাঁদের বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
মালিহাবাদ থানার পরিদর্শক সুরেন্দ্র ভাটি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এই ঘটনায় উভয় পক্ষের কোনো অভিযোগ ছিল না। পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং সম্মতির মাধ্যমেই সম্পূর্ণ বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে মেটানো হয়েছে। স্বামী নিজে থেকে স্ত্রীকে নতুন জীবনে এগিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ায় থানা চত্বরে কোনো উত্তেজনার সৃষ্টি হয়নি।