CJP Protest Delhi: আজও দিল্লিতে সিজেপির আন্দোলন, যন্তর মন্তরে নিরাপত্তা জোরদার, চরম উত্তেজনা রাজধানীতে
দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নতুন করে মার্চ করার ঘোষণার পর রবিবার (১১ অক্টোবর ২০২৬) দিল্লির যন্তর মন্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা চরম পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
CJP Protest Delhi: দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নতুন করে মার্চ করার ঘোষণার পর রবিবার (১১ অক্টোবর ২০২৬) দিল্লির যন্তর মন্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা চরম পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সংবাদ সংস্থা এএনআই সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকায় বিপুল পরিমাণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বসানো হয়েছে ব্যারিকেড। শনিবার প্রতিবাদস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা করা বহু দলীয় নেতা, কর্মী এবং বিক্ষোভকারীকে পুলিশ আটক করার ঠিক একদিন পরেই এই নতুন বিক্ষোভের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
জাতীয় রাজধানীতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কড়া বিধিনিষেধের কারণে শনিবার সিজেপির পূর্বনির্ধারিত বিক্ষোভ কর্মসূচি পণ্ড হয়ে যাওয়ার পর, দলটির পক্ষ থেকে সমর্থকদের ফের যন্তর মন্তরের দিকে মার্চ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর ফলে আটক নেতাদের বর্তমান অবস্থা এবং নির্ধারিত ভেন্যুতে দলটি জড়ো হতে পারবে কিনা, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে।
যন্তর মন্তরে কঠোর নিরাপত্তা ও ব্যারিকেড
এএনআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিকল্পিত বিক্ষোভের আগে যন্তর মন্তর ও তার আশেপাশের এলাকায় ভারী পুলিশ বাহিনী এবং নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। গত শনিবার বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর ব্যবস্থার পর থেকেই মধ্য দিল্লিতে এই বাড়তি সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে দিল্লি পুলিশ সিজেপির আগের বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি। বড় ধরনের জমায়েত এড়াতে কর্তৃপক্ষ শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং অতিরিক্ত কর্মী মোতায়েন করেছিল। রবিবার এই নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে যন্তর মন্তরে পৌঁছাতে চাওয়া সমর্থকদের আরও বেশি বাধার মুখে পড়তে হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
শনিবারের আটকের পর সিজেপির নতুন মার্চের ডাক
ভোটার তালিকার বিশেষ নীবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া সংক্রান্ত ত্রুটিসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপি রবিবার ফের যন্তর মন্তরে মার্চের ডাক দিয়েছে। শনিবার দিল্লি জুড়ে নজিরবিহীন কড়াকড়ির মধ্যেই প্রতিবাদস্থল ও যাতায়াত মাধ্যমগুলোর কাছ থেকে বহু বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ। রাজধানীজুড়ে মানুষের চলাচল এবং গণপরিবহনের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল।
আটক হলেন অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রঙ্কা
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুম্বই থেকে বিমানযোগে দিল্লি পৌঁছানোর পর শনিবার ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং দলের নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রঙ্কাকে আটক করা হয়। ককরোচদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, এই আটকের মূল উদ্দেশ্য ছিল দলীয় নেতাদের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখা। এমনকি দীর্ঘক্ষণ ধরে ওই তিন নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি এবং তারা কোথায় আছেন সে বিষয়েও দল অন্ধকারে ছিল বলে সিজেপি প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের যন্তর মন্তরে পৌঁছানো ঠেকাতে তৎপর প্রশাসন ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীসহ বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী ও কর্মীকেও আটক করেছে।
সিজেপি নেতাদের স্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ
সিজেপির নতুন মার্চকে কেন্দ্র করে আটক দলীয় নেতাদের বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ এখন সবথেকে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। শনিবারের পুলিশি পদক্ষেপের পর দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, আটক নেতারা আইনি সহায়তা এবং তারা কোথায় বন্দি আছেন সেই তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যার মুখে পড়েছেন। যদিও শনিবারের অভিযানে আটক অনেক বিক্ষোভকারীকে পরবর্তীতে ছেড়ে দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে, তবে তিন শীর্ষ সিজেপির নেতার পরিস্থিতি নিয়ে এখনও স্পষ্ট নিশ্চিতকরণের অপেক্ষা রয়েছে। তাদের মুক্তি মিলল নাকি আটক রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে দিল্লি পুলিশের আনুষ্ঠানিক বিবৃতির জন্য নজর রাখা হচ্ছে।
তীব্র উত্তেজনা দিল্লিতে
নিরাপত্তার কঠিন বেড়াজাল এবং সরকারি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও সিজেপি তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করায় যন্তর মন্তরের পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত উত্তপ্ত রয়েছে। পুলিশ পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখায় এবং সমর্থকরা দলের ডাকে সাড়া দেওয়ায় আগামী সময়ে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।