India Post Drone Delivery: হিমালয়ের দুর্গম পাহাড়ে উড়ল 'ড্রোন ডাক', হিমাচল প্রদেশে প্রথমবার ড্রোনে উড়ে বাড়ি পৌঁছল জাতীয় পতাকা
দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে ঐতিহাসিক মাইলফলক ছুঁল ভারতীয় ডাক বিভাগ (India Post)। এই প্রথমবার আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে জাতীয় পতাকা 'তেরঙ্গা' পৌঁছে দেওয়া হলো পাহাড়ি রাজ্যের এক প্রত্যন্ত কোণে।
India Post Drone Delivery: দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে ঐতিহাসিক মাইলফলক ছুঁল ভারতীয় ডাক বিভাগ (India Post)। এই প্রথমবার আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে জাতীয় পতাকা 'তেরঙ্গা' পৌঁছে দেওয়া হলো পাহাড়ি রাজ্যের এক প্রত্যন্ত কোণে। হিমাচল প্রদেশের মান্ডি প্রধান ডাকঘর থেকে আকাশপথে উড়ে গিয়ে ড্রোনটি নিরাপদে জাতীয় পতাকাটি পৌঁছে দেয় দুর্গম রেহারধার শাখা ডাকঘরে।
শুক্রবার, ১৪ আগস্ট এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের ভার্চুয়াল উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় যোগাযোগ ও উত্তর-পূর্ব অঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া।
মান্ডি থেকে রেহারধার: কীভাবে উড়ল তেরঙ্গা?
মান্ডি হেড পোস্ট অফিস থেকে লাইভ ড্রোন উড্ডয়ন সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। সে সময় তিনি ডাক বিভাগের কর্মকর্তা এবং ড্রোন পরিচালনাকারী দলের সাথে কথা বলেন।
অবতরণ ও হস্তান্তর: ড্রোনটি সাফল্যজনকভাবে পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে রেহারধার শাখা পোস্ট অফিসে অবতরণ করে। সেখানে উপস্থিত ডাককর্মীরা তেরঙ্গার পার্সেলটি গ্রহণ করেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা বীরের (সেনাবাহিনীর সাবেক সুবেদার মেজর কার্তার সিং) হাতে তুলে দেন।
সময়ের বিশাল সাশ্রয়:সড়কপথে মান্ডি থেকে রেহারধার পৌঁছাতে আগে যেখানে সময় লাগত প্রায় ২ ঘণ্টার বেশি, সেখানে ড্রোনের মাধ্যমে সময় লেগেছে মাত্র ৭ মিনিট।
"হিমাচল প্রদেশের আকাশে তেরঙ্গার এই যাত্রা এক নতুন ভারতের প্রতীক, যা ভৌগোলিক সমস্ত বাধাকে অতিক্রম করে দেশের প্রতিটি নাগরিকের কাছে পৌঁছে যেতে সংকল্পবদ্ধ।"
-জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া, কেন্দ্রীয় যোগাযোগ মন্ত্রী
'হর ঘর তেরঙ্গা' ও ডাক বিভাগের পরিষেবা
দেশজুড়ে পালিত হতে যাওয়া 'হর ঘর তেরঙ্গা' (Har Ghar Tiranga) অভিযানের অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করছে ইন্ডিয়া পোস্ট। দেশের প্রতি প্রান্তে নাগরিকদের কাছে জাতীয় পতাকা পৌঁছে দিচ্ছে ডাক বিভাগ।
দুর্গম ও পাহাড়ি অঞ্চলে যেখানে স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যবস্থা বেশ কঠিন, সেখানে ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে ডাক বিভাগ তাদের দৈনন্দিন পরিষেবা পৌঁছানোর এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল।
হিমাচল ও অসমে ১৫০টি ড্রোন রুটের পরিকল্পনা
দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল এবং উত্তর-পূর্বের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও দ্রুত ও সুগম করতে এক বিশাল রূপরেখা তৈরি করেছে ডাক বিভাগ।
১৫০টি ড্রোন রুট: হিমাচল প্রদেশ এবং আসামের মতো কঠিন ভূপ্রকৃতির রাজ্যে চিহ্নিত প্রায় ১৫০টি রুটে ড্রোনের মাধ্যমে চিঠিপত্র ও পার্সেল পরিবহনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
ডাক সেবা, জন সেবা: প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনকে কাজে লাগিয়ে প্রতিটি নাগরিককে দেশের মূল স্রোতের সঙ্গে যুক্ত করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।