Independence Day 2026 PM Modi Speech: সশস্ত্র নকশালবাদ শেষ, কিন্তু 'বুদ্ধিজীবী নকশাল' চিহ্নিত করার বার্তা: লালকেল্লা থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদীর হুঁশিয়ারি
ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লার প্রাচীর থেকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে বড় বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
Independence Day 2026 PM Modi Speech: ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লার প্রাচীর থেকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে বড় বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, দেশে সশস্ত্র মাওবাদী বা নকশাল হিংসা এখন “শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করছে”। তবে বন্দুকধারী নকশালদের দমন করা গেলেও ‘দিমাগি নকশাল’ বা বুদ্ধিজীবী নকশালদের বিরুদ্ধে দেশকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
দেশের ঐক্যে জোর
তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের ঐক্য, সার্বভৌমত্ব এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতি সুরক্ষিত রাখতে এই ছদ্মবেশী নকশাল সমর্থকদের চিহ্নিত করে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন (isolate) করা অত্যন্ত জরুরি।
"আমরা বনের মধ্যে বন্দুকধারী নকশালদের দমন করতে সফল হয়েছি। কিন্তু যারা মাওবাদী আদর্শ ছড়াচ্ছে, সেই 'দিমাগি নকশালরা' এখনও সুযোগের সন্ধানে রয়েছে। তাদের চিহ্নিত করতে হবে এবং যুবসমাজকে দেশের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনতে হবে।"
— প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (লালকেল্লার ভাষণ থেকে)
দেখুন ভিডিও
সশস্ত্র নকশালবাদ থেকে মানসিক সতর্কতার পরিবর্তন
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে উল্লেখ করেন যে, গত এক দশকে সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের ফলে ছত্তীসগঢ়ের বস্তারের মতো প্রাক্তন নকশাল ঘাঁটিগুলোতে চরমপন্থী নেটওয়ার্ক পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।
চার দশকের হিংসা:প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রায় চার দশক ধরে নকশালবাদ ও মাওবাদ দেশের বহু যুবকের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করেছে। সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে গিয়ে ৩,৫০০-রও বেশি নিরাপত্তা কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন।
প্রতিষ্ঠানে প্রভাব: তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ দিন ধরে মাওবাদী চিন্তাধারার কিছু মানুষ সরকারি কমিটি ও নানা নীতি নির্ধারণী প্রতিষ্ঠানে জায়গা করে নিয়েছিলেন, যা দেশের ক্ষতি করেছে।
'রেড করিডোর' এখন উন্নয়নের 'গ্রিন করিডোর'
২০১৪ সালে সরকারে আসার পর থেকে গৃহীত পদক্ষেপের খতিয়ান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্দুকের শক্তিতে দখল করে রাখা এলাকাগুলোকে যৌথ বাহিনীর সহায়তায় মুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
এক সময়ের পরিচিত 'রেড করিডোর' (নকশাল প্রভাবিত অঞ্চল) অঞ্চলগুলো এখন শিক্ষা, যাতায়াত ব্যবস্থা ও সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্পের মাধ্যমে অর্থনৈতিক 'গ্রিন করিডোরে' রূপান্তরিত হচ্ছে। ওই অঞ্চলের তরুণরা এখন মূল স্রোতে ফিরে ক্রীড়া ও উপজাতি উন্নয়ন কর্মসূচীর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।
'সপ্ত ধারা' ও আত্মনির্ভর ভারতের রূপরেখা
অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার বাইরে ২০৪৭ সালের মধ্যে 'বিকশিত ভারত' গড়ার লক্ষ্যে ‘সপ্ত ধারা’ (সাতটি প্রধান স্তম্ভ)-র রূপরেখা পেশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
উৎপাদন খাত, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন, কৃষি, গতিশক্তি, প্রতিরক্ষা ক্ষমতা, সবুজ অর্থনীতি এবং সফট পাওয়ার— এই সাতটি ধারার ওপর ভিত্তি করে আগামী ৫ থেকে ৭ বছরে দেশের অগ্রগতিকে দ্রুততর করার আহ্বান জানানো হয়। এর পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর নির্মাণ এবং দেশীয় জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে স্বনির্ভর হওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।