Harjit Kaur Deportation: হাতকড়া পরিয়ে দিল্লিতে ফেরত পাঠানো ৭৩ বছরের শিখ বৃদ্ধা জানালেন ট্রাম্প প্রশাসনের অত্য়াচারের কথা
দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ৭৩ বছরে শিখ বৃদ্ধাকে ভারতে পাঠিয়ে দিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। ভারতে ফিরে এসে হরজিত কৌর নামের সেই শিখ বৃদ্ধা জানালেন, তার ওপর ঠিক কী 'অত্যাচার'চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকার। ৩৩ বছর ধরে তিনি শান্তিই আমেরিকায় ছিলেন।
Harjit Kaur Deportation: দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ৭৩ বছরে শিখ বৃদ্ধাকে ভারতে পাঠিয়ে দিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন (Donald Trump Administration)। ভারতে ফিরে এসে হরজিত কৌর (Harjit Kaur) নামের সেই শিখ বৃদ্ধা জানালেন, তার ওপর ঠিক কী 'অত্যাচার'চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকার। ৩৩ বছর ধরে তিনি শান্তিই আমেরিকায় ছিলেন। সে দেশের মানুষের বিপদেআপদে পাশে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরই তাঁকে অবৈধ বসবাসকারী, অবৈধ অনুপ্রবেশকারী, অবৈধ অভিবাসীর তকমা দিয়ে গ্রেফতার করে। মোহালি বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে তিনি জানালেন,"ওদের ব্যবহার খুবই খারাপ ছিল। আমার সঙ্গে খুবই ব্যবহার করে। আমায় ৮ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার করা হয়েছিল। কোনও কথা বলার সুযোগই দেওয়া হয়নি। গ্রেফতারের পর বেকারসফিল্ডে নিয়ে যাওয়ার পর ৮ থেকে ১০ দিন ধরে ফেলে রাখা হয়। আমায় ঠিকমত খেতে দেওয়া হয়নি, মেঝেতেই শুতে দেয়। তারপর আচমকা একদিন আমায় আরিজোয়ানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে বিমানে চড়িয়ে দিল্লিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বিমানে আমার হাতে হাতকড়া পরানো ছিল। আমার সঙ্গে গুরুতর অপরাধীদের মত ব্যবহার করা হয়েছে ওখানে। আমার সন্তানরা ওখানে নিশ্চই কিছু করবে বলে মনে হয়। এখন আর আমার কিছু করার নেই।
স্বামীর মৃত্য়ুর পর ১৯৯২ সালে আমেরিকায় যান, এবং থাকতে শুরু করেন
গতকাল, শুক্রবার দিল্লিতে নেমে মোহালিতে বোনের বাড়িতে ওঠেন হরজিত। তিনি বলেন, “খুব খারাপ ব্যবহার করেছে। এর চেয়ে মরে যাওয়া ভালো। আমার বাচ্চারা ওখানে কিছু করবে। আমি কিছু করতে পারি না।” এই বছরই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২,৪০০-র বেশি ভারতীয় ফেরত পাঠানো হয়েছে। ৭৩ বছরের শিখ বৃদ্ধা হরজিত কৌর পাঞ্জাবের তারনতারন জেলার পাংগোটা গ্রামের বাসিন্দা। গত ৩৩ বছর ধরে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন। ক্যালিফোর্নিয়ার ইস্ট বে অঞ্চলের এক শাড়ির দোকানে সেলাইয়ের কাজ করে দিন কাটাতেন। ১৯৯২ সালে স্বামী সুখবিন্দরসিংয়ের মৃত্যুর পর দুই ছেলেকে নিয়ে একা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসেন তিনি। পাঞ্জাবের রাজনৈতিক অশান্তি থেকে বাঁচতে এবং ছেলেদের ভাল ভবিষ্যৎ গড়তে এই সিদ্ধান্ত নেন।
দেখুন কী জানালেন সেই শিখ বৃদ্ধা
কখনও কোনও অপরাধ করেননি, বিপদে আমেরিকানদের পাশে দাঁড়ান হরজিত কৌর
বহুবার আশ্রয়ের আবেদন করলেও তা মঞ্জুর হয়নি। ২০০৫ সালে অভিবাসন আদালত তাঁকে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেয়। ২০১২ সালের শেষ রায় পর্যন্ত আবেদন খারিজ হয়। অবৈধ অভিবাসী হয়েও তিনি ১৩ বছরের বেশি সময় ধরে প্রতি ছ’মাসে আইসিই-র (ICE) কাছে হাজিরা দিতেন, কর দিতেন, আর কোনও অপরাধে জড়াননি। মার্কিন শিখ সম্প্রদায়ের কাছে তিনি ছিলেন খুব প্রিয় মানুষ।
গত ৮ সেপ্টেম্বর আচমকা তাঁকে গ্রেফতার করা হয়
ক দিন আগে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর সান ফ্রান্সিসকোয় রুটিন চেক-ইনের সময় বিনা নোটিসে তাঁকে আটক করে অভিবাসী দফতরের কর্তারা বা আইসিই (ICE) পুলিশ। তারপর তাঁকে ক্যালিফোর্নিয়ার বেকারসফিল্ডের মেসা ভার্দে প্রসেসিং সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। ৮-১০ দিন বেকারসফিল্ডে আটক থাকার পর তাঁকে অ্যারিজোনা ও তারপর লস অ্যাঞ্জেলেসে সরানো হয়। হাঁটুর দু’টি প্রতিস্থাপন থাকা সত্ত্বেও মেঝেতে ঘুমোতে হয়েছে, স্নানের সুযোগ মেলেনি, নিরামিষ খাবারও ছিল একেবারে কম।
জলের পরিবর্তে বরফ দেওয়া হত ওষুধ খাওয়ার জন্য
সেই বৃদ্ধা জানান, ওষুধ খাওয়ার জন্য জল না দিয়ে বরফের প্লেট দেওয়া হয়েছে, নিয়মিত ওষুধ বন্ধ রাখা হয়েছে। হাতকড়া পরিয়ে ৬০-৭০ ঘণ্টার যাত্রায় জর্জিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫-এ জর্জিয়া থেকে আর্মেনিয়া হয়ে দিল্লিতে নিয়ে আসা হয় চার্টার্ড আইসিই বিমানে। বিমানে আরও ১৩২ জন পাঞ্জাবি ফেরত পাঠানো হয়। বয়সের কারণে তাঁকে শেকল দেওয়া হয়নি, কিন্তু তিনি অসুস্থ ও ভেঙে পড়েছিলেন।
(Social media brings you the latest breaking news, viral news from the world of social media including Twitter, Instagram and YouTube. The above post is embedded directly from the user's social media account. This body of content has not been edited or may not be edited by Latestly staff. Opinions appearing on social media posts and the facts do not reflect the opinions of Latestly, and Latestly assumes no responsibility for the same.)