Cyclone Arnab: ঘূর্ণিঝড় অর্ণব আসলে গুজব! বঙ্গোপসাগরের আবহাওয়া ব্যবস্থা কেন আসলে একটি গভীর নিম্নচাপ

সোশ্যাল মিডিয়ায় বঙ্গোপসাগরে ধেয়ে আসা এক আবহাওয়া ব্যবস্থাকে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব নামে অভিহিত করে আতঙ্ক ছড়ানো হলেও, ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ (IMD) বিষয়টিতে স্পষ্ট ধারণা দিয়েছে।

Cyclone.

Cyclone Arnab:  সোশ্যাল মিডিয়ায় বঙ্গোপসাগরে ধেয়ে আসা এক আবহাওয়া ব্যবস্থাকে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব নামে অভিহিত করে আতঙ্ক ছড়ানো হলেও, ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ (IMD) বিষয়টিতে স্পষ্ট ধারণা দিয়েছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া এই ব্যবস্থাটি আদতে একটি গভীর নিম্নচাপ (Deep Depression) এবং এটি এখনো ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়নি। বাতাসের গতিবেগ ঘূর্ণিঝড়ের নির্ধারিত সীমা অতিক্রম না করায় এটিকে এখনই কোনো আনুষ্ঠানিক নাম দেওয়া হয়নি।

ডব্লিউএমও/এসক্যাপ (WMO/ESCAP) প্যানেলের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার পূর্বাভাস তালিকায় ‘অর্ণব’ নামটি পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়ের জন্য নির্ধারিত থাকলেও, বর্তমান নিম্নচাপটি সেই তালিকায় স্থান পাওয়ার মতো তীব্র নয়।

ঘূর্ণিঝড় অর্ণব কেন কোনো অস্তিত্ব পায়নি?

উপকূলীয় অঞ্চলে ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে আনলেও এটি বৈজ্ঞানিক নিয়ম মেনে 'সাইক্লোন' বা ঘূর্ণিঝড়ের রূপ লাভ করেনি। IMD-র সংজ্ঞা অনুযায়ী, বাতাসের গতিবেগের ওপর ভিত্তি করে নিম্নচাপের শ্রেণিবিভাগ করা হয়:

নিম্নচাপ (Depression): ঘণ্টায় ৩১ থেকে ৫০ কিমি বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ।

গভীর নিম্নচাপ (Deep Depression): ঘণ্টায় ৫২ থেকে ৬১ কিমি বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ।

ঘূর্ণিঝড় (Cyclonic Storm): বাতাসের গতিবেগ অবশ্যই অন্তত ৬৩ কিমি/ঘণ্টা (৩৪ নট) বা তার বেশি হতে হবে এবং কমপক্ষে চারটি বন্ধ আইসোবার (Isobar) থাকতে হবে।

বিশাখাপত্তনম এবং গোপালপুরের মধ্যবর্তী কলিঙ্গপত্তনমের কাছে স্থলভাগে প্রবেশ করার সময়ও এই ব্যবস্থার গতিবেগ ‘গভীর নিম্নচাপ’-এর সীমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে একে কোনো নাম দেওয়া সম্ভব হয়নি।

বাংলায় ‘অর্ণব’ শব্দের অর্থ “সমুদ্র”। বাংলাদেশের প্রস্তাবিত এই নামটি বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরের ট্রপিক্যাল সাইক্লোন তালিকার পরবর্তী সারিতে বহাল থাকবে এবং ভবিষ্যতে কোনো ব্যবস্থা ঘূর্ণিঝড়ের মাত্রা অতিক্রম করলে এই নামটি ব্যবহার করা হবে।

মাঠপর্যায়ের প্রভাব ও আঞ্চলিক সতর্কতা

ঘূর্ণিঝড় নাম না পেলেও, এই গভীর নিম্নচাপের কারণে অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে প্রবল বৃষ্টিপাত ও ঝোড়ো হাওয়ার প্রভাব দেখা গেছে। প্রশাসন নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বেশ কিছু জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে:

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ: পরিস্থিতির তীব্রতা বিবেচনা করে ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশের ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে স্কুল, কলেজ এবং অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর: নিচু এলাকা এবং ধসপ্রবণ ঢালু অঞ্চল থেকে হাজার হাজার মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

জরুরি দল মোতায়েন: সম্ভাব্য ফ্ল্যাশ ফ্লাড, জলাবদ্ধতা এবং যাতায়াত ব্যবস্থার বিপর্যয় সামলাতে রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (SDRF) এবং জেলা প্রশাসন পূর্ণ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

আবহাওয়া দফতর থেকে সাধারণ মানুষকে সোশ্যাল মিডিয়ার যেকোনো অনুমাননির্ভর গুজব এড়িয়ে সতর্কবার্তা ও আনুষ্ঠানিক তথ্যের ওপর ভরসা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

Share Now
Advertisement


Advertisement
Advertisement
Share Now
Advertisement