E-Challan Rules: বকেয়া চালান মেটানো না হলে আটকে যাবে গাড়ির RC, লাইসেন্স নবায়ন, কড়া সুপ্রিম নির্দেশ

ট্রাফিক আইন অমান্য করে জরিমানা না দেওয়ার অভ্যাস যাদের রয়েছে, তাদের জন্য চরম বার্তা দিল দেশের শীর্ষ আদালত। ট্রাফিক ই-চালানের বকেয়া অর্থ আদায় করতে এবার এক অভূতপূর্ব ও অত্যন্ত কঠোর নির্দেশ জারি করল সুপ্রিম কোর্ট।

ট্রাফিক আইন অমান্য করে জরিমানা না দেওয়ার অভ্যাস যাদের রয়েছে, তাদের জন্য চরম বার্তা দিল দেশের শীর্ষ আদালত। ট্রাফিক ই-চালানের বকেয়া অর্থ আদায় করতে এবার এক অভূতপূর্ব ও অত্যন্ত কঠোর নির্দেশ জারি করল সুপ্রিম কোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বকেয়া চালান পরিশোধ না করা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট গাড়ি বা চালক সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হবে।

আদালতের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, বকেয়া জরিমানা বাকি থাকলে রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (RC) নবায়ন, ডুপ্লিকেট আরসি ইস্যু, মালিকানার ঠিকানা পরিবর্তন, ফিটনেস সার্টিফিকেট এবং এমনকি দূষণ নিয়ন্ত্রণ বা পিইউসি (PUC) সার্টিফিকেটও পাওয়া যাবে না।

আদালতের নির্দেশনায় কী বলা হয়েছে?

গত ২৮ সেপ্টেম্বর 'এস. রাজাশেখরণ বনাম ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া' সংক্রান্ত সড়ক সুরক্ষা মামলায় শীর্ষ আদালতের বেঞ্চ নির্দেশ জারি করে বলে যে, শুধু চালান ইস্যু করলেই প্রশাসনের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না; জরিমানার অর্থ আদায় ও আইনি বাধ্যবাধকতা সুনিশ্চিত করাই আসল লক্ষ্য।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যেসব গাড়ির ক্ষেত্রে ট্রাফিক ই-চালান বকেয়া রয়েছে, সেগুলির একাধিক অনলাইন পরিষেবা কেন্দ্রীয় পরিবহণ পোর্টালে সাময়িকভাবে ফ্রিজ বা স্থগিত করা হবে। কোনো কেন্দ্র থেকেই বকেয়া চালান থাকা গাড়ির জন্য নতুন Pollution Under Control (PUC) সার্টিফিকেট ইস্যু করা যাবে না। পরিবহণ পোর্টালে গাড়িটিকে 'ব্ল্যাকলিস্ট' করা হবে, ফলে চালান পরিশোধ না করা পর্যন্ত কোনো গাড়ি বিক্রি বা মালিকানা হস্তান্তর করা সম্ভব হবে না।

বারবার আইন ভঙ্গকারীদের জন্য কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই বছরে ৫ বা তার বেশি বার ট্রাফিক নিয়ম ভাঙলে তা জনউপদ্রব হিসেবে গণ্য করা হবে। এই ধরনের চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন আটকানো হবে এবং চালকের লাইসেন্স স্থগিত করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। এ ছাড়াও, রাস্তায় সারপ্রাইজ বা র্যান্ডম চেকিং করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। তল্লাশির সময় বকেয়া চালান ধরা পড়লে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সরাসরি গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করতে পারবে।

তবে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছে যে, ট্রাফিক জরিমানার টাকা বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে যুক্ত করে আদায় করার কোনো চূড়ান্ত নির্দেশ দেওয়া হয়নি। এটি কেবল রাজ্যগুলির মূল্যায়নের জন্য একটি প্রস্তাব বা পরামর্শ মাত্র।

কেন এই সিদ্ধান্ত?

ভারতে ই-চালান ব্যবস্থা চালুর মূল উদ্দেশ্য ছিল স্বচ্ছতা আনা ও দুর্নীতি কমানো। সিসিটিভি ক্যামেরা ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মাধ্যমে ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীদের সহজেই চিহ্নিত করা হলেও, জরিমানার অর্থ আদায়ের হার ছিল অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। সারা দেশে আনুমানিক ৪৯,১৯৪.০৫ কোটি টাকার ই-চালান বকেয়া রয়েছে, যার মধ্যে মাত্র ২৬,১৭৫.০৫ কোটি টাকা আদায় সম্ভব হয়েছে।

সাধারণত ৬০ থেকে ৯০ দিন জরিমানা না দিলে মামলা ভার্চুয়াল কোর্টে পাঠাতে হতো, কিন্তু সেখান থেকে জরিমানার অর্থ আদায়ের কার্যকর উপায় ছিল না। জরিমানা না দিয়ে বছরের পর বছর গাড়ি চালানোর এই প্রবণতা বন্ধ করতেই সুপ্রিম কোর্ট বকেয়া চালানের সঙ্গে গাড়ির মৌলিক নথিপত্র ও পরিষেবাকে সরাসরি যুক্ত করার পথ বেছে নিয়েছে।

সড়ক সুরক্ষায় সম্ভাব্য প্রভাব ও পরবর্তী পদক্ষেপ

সড়ক সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ ও সমাজকর্মীরা সুপ্রিম কোর্টের এই কড়া অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, জরিমানা কেবল কাগুজে কলমে সীমাবদ্ধ থাকলে চালকদের মধ্যে নিয়ম মানার প্রবণতা তৈরি হয় না। পরিবহণ দপ্তর ও পুলিশ প্রশাসন এখন এই আইনি আদেশের ফলে অনেক বেশি ক্ষমতা পেল। কেন্দ্রীয় VAHAN এবং SARATHI ডেটাবেসের সঙ্গে ই-চালান ব্যবস্থার এই নিবিড় সংহতি দীর্ঘদিনের বকেয়া আদায়ে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা নেবে।

আগামী দিনে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রক একটি পাবলিক ড্যাশবোর্ড চালু করবে, যেখানে প্রতি মাসে রাজ্যভিত্তিক ই-চালান, নজরদারি প্রযুক্তি এবং জরিমানা সংগ্রহের তথ্য আপডেট করা হবে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত ক্যামেরা চালুর দিকে জোর দেওয়া হচ্ছে, যা ১২ ধরনের ট্রাফিক লঙ্ঘন সরাসরি শনাক্ত করতে পারবে। সুপ্রিম কোর্টের এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ ভারতের সড়ক পরিবহণ ও ট্রাফিক ব্যবস্থার ইতিহাসকে ঢেলে সাজাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Share Now
Advertisement


Advertisement
Share Now
Advertisement