পাইলটদের জন্য নজিরবিহীন নির্দেশ DGCA-র! এবার সব বিমানচালকের হবে ডোপ টেস্ট

দেশের সমস্ত বিমানসংস্থার পাইলটদের জন্য এককালীন 'সাইকোঅ্যাক্টিভ সাবস্ট্যান্স' বা মাদক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আগামী বছরের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে পাইলটদের এই বিশেষ ডোপ টেস্ট সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Representational Photo

Air India Pilot Drug Test Shock: ভারতীয় বিমান চালনার ইতিহাসে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল অসামরিক বিমান পরিবহন নিয়ামক সংস্থা (DGCA)। দেশের সমস্ত বিমানসংস্থার পাইলটদের জন্য এককালীন 'সাইকোঅ্যাক্টিভ সাবস্ট্যান্স' বা মাদক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে খবর, আগামী বছরের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে পাইলটদের এই বিশেষ ডোপ টেস্ট সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ৪ আগস্ট ফুকেত থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমানের ক্যাপ্টেন ইন কমান্ড (PIC)-এর রিপোর্ট ‘নন-নেগেটিভ’ (মাদক উপাদানের উপস্থিতি ইঙ্গিতবাহী) আসার পরপরই এই কঠোর পদক্ষেপ নিল নিয়ামক সংস্থা। উল্লেখ্য, এতদিন পর্যন্ত বার্ষিক মাত্র ১০ শতাংশ ক্রু সদস্য ও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারকে দৈবচয়ন (Random) পদ্ধতিতে এই টেস্টের আওতায় আনা হতো। তবে নতুন নির্দেশে সব পাইলটকে পরীক্ষার বাধ্যতামূলক আওতায় আনা হয়েছে।

সমস্ত সংস্থায় শুরু পরীক্ষা প্রক্রিয়া

অসামরিক বিমান পরিবহন দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই বিভিন্ন এয়ারলাইন্সে পাইলটদের এই পরীক্ষা শুরু হয়ে গিয়েছে। গত মাস থেকেই পরীক্ষা প্রক্রিয়া চালুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অন্য এক শীর্ষ আধিকারিক। প্রসঙ্গত, গত মাসেই এই র‍্যান্ডম টেস্টের পরিধি বাড়িয়ে বার্ষিক ১০০ শতাংশ পাইলটকে পরীক্ষার আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা জানা গিয়েছিল। সরকার বর্তমানে এই সংক্রান্ত নিয়মে সংশোধনী আনার কাজ করছে।

চলতি মাসেই নতুন নির্দেশিকা: মন্ত্রী রামমোহন নাইডু

বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী রামমোহন নাইডু জানান, শীঘ্রই এই নতুন সংশোধিত নিয়ম চূড়ান্ত করা হবে। তিনি বলেন, "ডিজিসিএ অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, এই মাসের শেষের আগেই পাইলটদের পরীক্ষার নতুন নির্দেশিকা চূড়ান্ত রূপ পাবে।" ফুকেত-দিল্লি ফ্লাইটের অভিযুক্ত কমান্ডিং পাইলটের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী জানান, বিষয়টি ডিজিসিএ-র একতিয়ারভুক্ত। সিভিল এভিয়েশন রিকোয়ারমেন্টস (CAR)-এর নিয়ম অনুযায়ী তদন্তের পর উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যে ঘটনার পর নড়েচড়ে বসল প্রশাসন

ঘটনার সূত্রপাত গত ৪ আগস্ট। ফুকেত থেকে দিল্লি আসার পথে ৩৬ হাজার ফুট উঁচুতে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানটির তিনটি হাইড্রোলিক সিস্টেমই কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে বিকল হয়ে পড়ে। এর ফলে মারাত্মক 'অ্যাল্টিটিউড আপসেট' বা উচ্চতার ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয় এবং বিমানে থাকা ২৪ জন যাত্রী জখম হন। পরবর্তীকালে ১৩ আগস্ট থেকে এয়ার ইন্ডিয়া স্বতঃপ্রণোদিতভাবে তাদের সমস্ত পাইলটের মাদক পরীক্ষা শুরু করে। তবে দ্য এয়ারক্রাফট অ্যাকসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB)-র প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে জানানো হয়েছে, বিমানটির প্রধান নিয়ন্ত্রণে অভিযুক্ত পাইলট ছিলেন না, ছিলেন তাঁর সহ-পাইলট। সহ-পাইলটের ডোপ টেস্ট রিপোর্ট নেগেটিভ আসে এবং তিনি দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে বিমানটি নিরাপদে দিল্লিতে অবতরণ করান।

এএআইবি তাদের রিপোর্টে স্পষ্ট করেছে যে, বিমানে তৈরি হওয়া কারিগরি গোলযোগের সঙ্গে ড্রাগ টেস্টে পজিটিভ আসার কোনো প্রত্যক্ষ যোগসূত্র এখনও পাওয়া যায়নি। তবে পাইলটদের মধ্যে সাইকোঅ্যাক্টিভ বা মাদক পদার্থের ব্যবহারকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে চিহ্নিত করে ডিজিসিএ-কে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

পাইলটদের জন্য নজিরবিহীন নির্দেশ DGCA-র! এবার সব বিমানচালকের হবে ডোপ টেস্ট

Share Now
Advertisement


Advertisement
Advertisement
Share Now
Advertisement