Air India Flight: ইমিগ্রেশন ছাড়াই মিউনিখগামী বিমানে ৩ ইতালি নাগরিক! এয়ার ইন্ডিয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিস
দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক (IGI) বিমানবন্দরে বড়সড় নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক গাফিলতি! বাধ্যতামূলক ডিপার্চার ইমিগ্রেশন চেক বা অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না করেই আন্তর্জাতিক বিমানে উঠে পড়লেন তিন ইতালীয় নাগরিক।
Air India Flight: দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক (IGI) বিমানবন্দরে বড়সড় নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক গাফিলতি! বাধ্যতামূলক ডিপার্চার ইমিগ্রেশন চেক বা অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না করেই আন্তর্জাতিক বিমানে উঠে পড়লেন তিন ইতালীয় নাগরিক। দিল্লি থেকে জার্মানির মিউনিখগামী বিমানে চাপেন তাঁরা। এই মারাত্মক নিরাপত্তা ত্রুটির ঘটনায় জাতীয় বিমান সংস্থা 'এয়ার ইন্ডিয়া'কে কড়া কারণ দর্শানোর (Show-cause) নোটিস পাঠাল কেন্দ্রীয় বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক।
দিল্লি বিমানবন্দরে ঠিক কী ঘটেছিল?
ঘটনাটি ঘটেছে গত ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬-এর ভোরে। অমৃতসর থেকে এয়ার ইন্ডিয়ার 'AI-1115' বিমানে চেপে রাত প্রায় ১২টা ৫০ মিনিটে দিল্লির আইজিআই বিমানবন্দরে নামেন ওই তিন ইতালীয় যাত্রী।
এরপর মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে, রাত ১টা ৪৫ মিনিটে তাঁরা বিমানবন্দর থেকে মিউনিখগামী লফথানসা-র (Lufthansa) 'LH-763' বিমানে উঠে পড়েন। নিয়ম অনুযায়ী, ভারতের মাটি ছেড়ে অন্য দেশে যাওয়ার আগে আন্তর্জাতিক যাত্রীদের ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু মন্ত্রকের নোটিসে বলা হয়েছে, ওই তিন যাত্রী প্রক্রিয়াটি না পেরিয়েই আন্তর্জাতিক বিমানে উঠে পড়েন।
রিপোর্ট অনুযায়ী, অমৃতসর বিমানবন্দর থেকে তাঁদের 'D' বা ডমেস্টিক ক্যাটাগরির বোর্ডিং পাস দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে দেওয়া হয়েছিল মিউনিখ যাওয়ার অনওয়ার্ড বোর্ডিং পাসও। কিন্তু দিল্লিতে পৌঁছানোর পর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা তাঁদের নির্ধারিত ইমিগ্রেশন কাউন্টারে না পাঠিয়ে ভুলবশত 'ইন্টারন্যাশনাল-টু-ইন্টারন্যাশনাল' (I-to-I) ট্রান্সফার এরিয়ার দিকে নিয়ে যান। আর তাতেই ঘটে চরম বিপত্তি।
এসওপি (SOP) লঙ্ঘনের মুখে এয়ার ইন্ডিয়া
বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক এয়ার ইন্ডিয়ার অনুমোদনপ্রাপ্ত ডোমেস্টিক-ইন্টারন্যাশনাল (DI) নির্দেশিকা লঙ্ঘন নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছে:
যাত্রীদের পৃথকীকরণ: নিয়ম অনুসারে, অভ্যন্তরীণ বিমান থেকে আসা আন্তর্জাতিক রুটের যাত্রীদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করে ইমিগ্রেশনে পাঠানো বাধ্যতামূলক। কিন্তু কেন ডোমেস্টিক ও আন্তর্জাতিক যাত্রীদের আলাদা রাখা গেল না?
I-to-I এরিয়ায় প্রবেশের অনুমিত: অভ্যন্তরীণ বা 'D' ক্যাটাগরির বোর্ডিং পাস থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তাঁরা 'ইন্টারন্যাশনাল-টু-ইন্টারন্যাশনাল' ট্রান্সফার এরিয়ায় প্রবেশ করলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
বোর্ডিং পাস ইস্যু ও কর্মীদের ভূমিকা: অমৃতসরে লফথানসার অনওয়ার্ড বোর্ডিং পাস ইস্যু করা এবং দিল্লিতে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সংস্থা 'Air India SATS'-এর কর্মীদের দায়িত্ব নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নজরদারি ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন
পরবর্তীকালে ম্যানুয়াল প্যাসেঞ্জার রিকনসিলিয়েশনের সময় এই চরম গাফিলতিটি ধরা পড়ে। প্রশ্ন উঠছে, বিমান ছাড়ার আগে এয়ারলাইন্সের অভ্যন্তরীণ নজরদারি ব্যবস্থায় কেন এই ভুলটি ধরা পড়ল না? তৎকালীন নোডাল অফিসার এবং বিমানবন্দরের তদারকি দলের ভূমিকা নিয়েও সমস্ত তথ্য চেয়েছে কেন্দ্র। ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যাত্রী সংক্রান্ত সঠিক তথ্য (API-PNR) আদান-প্রদান করা হয়েছিল কি না, তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে।
জবাব দেওয়ার জন্য ৭ দিনের সময়সীমা
গত ১২ সেপ্টেম্বর জারি করা এই কারণ দর্শানোর নোটিসে এয়ার ইন্ডিয়াকে স্পষ্ট করে জানাতে বলা হয়েছে, কেন তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক বা নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে না। নোটিস পাওয়ার ৭ দিনের মধ্যে এয়ার ইন্ডিয়াকে সমস্ত নথি ও তথ্য সহ লিখিত জবাব জমা দিতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উত্তর না মিললে উপলব্ধ তথ্যের ভিত্তিতেই সরকার পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
হাব-অ্যান্ড-স্পোক মডেলে দেশীয় বিমানবন্দর থেকে আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ভ্রমণের সময় নিরাপত্তা সংক্রান্ত এই গাফিলতি ভারতের প্রধান বিমানবন্দরগুলির ইমিগ্রেশন ও সিকিউরিটি প্রোটোকলকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে ফেলে দিল।