ফের ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার, কিমের পদক্ষেপে উদ্বেগে দক্ষিণ কোরিয়া

কোরীয় উপদ্বীপে সামরিক উত্তেজনা বাড়িয়ে আবার একাধিক ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া। সোমবার, ১২ অক্টোবর সকালে রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের কাছে একটি অঞ্চল থেকে পূর্ব সাগরের (জাপান সাগর) দিকে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলি উৎক্ষেপণ করা হয়।

Missile (Photo Credit: File Photo)

কোরীয় উপদ্বীপে সামরিক উত্তেজনা বাড়িয়ে আবার একাধিক ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া। সোমবার, ১২ অক্টোবর সকালে রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের কাছে একটি অঞ্চল থেকে পূর্ব সাগরের (জাপান সাগর) দিকে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলি উৎক্ষেপণ করা হয়। স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ৯টা ২০ মিনিট (গ্রিনিচ মান সময় ০০:২০) নাগাদ এই পরীক্ষা চালিয়েছে কিম জং উনের দেশ। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেই প্রতিবেশীদের আশঙ্কায় ফেলে এই ঘটনা নতুন করে ভূ-রাজনৈতিক অস্বস্তি তৈরি করেছে।

কী বলছে দক্ষিণ কোরিয়া

দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ (জেসিএস) এবং জাপানের উপকূল রক্ষী বা কোস্ট গার্ড উভয় সামরিক সংস্থা উত্তর কোরিয়ার এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, কিমের বাহিনী সম্ভবত বিভিন্ন ধরণের একাধিক ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এর মধ্যে অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্র ৯০০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ অতিক্রম করে জাপানের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনের (ইইজেড) বাইরে সমুদ্রে গিয়ে পড়ে। ফলে স্থলভাগে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি।

জরুরি বৈঠক ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

ঘটনার পরপরই দক্ষিণ কোরিয়া তাদের সামরিক নজরদারি ও সতর্কতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য তড়িঘড়ি জরুরি বৈঠকে বসে দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা অফিস। যৌথভাবে গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ ও আদান-প্রদান শুরু করেছে সিউল, ওয়াশিংটন ও টোকিও। রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব লঙ্ঘন করে এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানো হয়েছে উল্লেখ করে পিয়ংইয়ংয়ের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সিউল। দক্ষিণ কোরীয় প্রশাসন উত্তর কোরিয়াকে এই ধরণের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।

শক্তি প্রদর্শনী ও পারস্পরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা

বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তর কোরিয়ার এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা মূলত দক্ষিণ কোরিয়ার সাম্প্রতিক সামরিক অগ্রগতির জবাবে শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা। মাত্র কয়েকদিন আগেই দক্ষিণ কোরিয়া সফলভাবে তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি প্রথম হাইপারসনিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপতি লি জে মিয়াং নিজে উপস্থিত থেকে সেই ঐতিহাসিক পরীক্ষার তদারকি করেছিলেন। এর পরই পিয়ংইয়ংয়ের এই পাল্টা পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। চলতি বছরের ৩ অক্টোবরও উত্তর কোরিয়া একটি মধ্যম পাল্লার হাইপারসনিক মিসাইল পরীক্ষা করেছিল, যা কিম জং উন নিজে পর্যবেক্ষণ করেন। সোমবারের এটি ধরে ২০২৬ সালে অন্তত ১৬তম বারের মতো ব্যালাস্টিক মিসাইলের মহড়া চালাল পিয়ংইয়ং।

সীমান্ত উত্তেজনা ও স্তব্ধ কূটনীতি

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই দেশের সীমান্তে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। সেপ্টেম্বর মাসে ডিমিলিটারাইজড জোনে (ডিএমজেড) ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা জওয়ান মারাত্মক জখম হন। সিউল ও জাতিসংঘ কমান্ড এর জন্য উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করে ল্যান্ডমাইন পুঁতে রাখার অভিযোগ তুললেও পিয়ংইয়ং তা অস্বীকার করেছে। বর্তমানে দুই কোরিয়ার মধ্যে সমস্ত রকম কূটনৈতিক আলোচনা পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে রয়েছে। কূটনৈতিক অচলাবস্থার মাঝেই একের পর এক উন্নত অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়ে নিজেদের সামরিক ক্ষমতা প্রদর্শন করে চলেছে উত্তর কোরিয়া, যা সমগ্র পূর্ব এশীয় অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Share Now
Advertisement


Advertisement
Share Now
Advertisement