Mars: মঙ্গলগ্রহে মৌচাকের মতো রহস্যময় জ্যামিতিক কাঠামোর সন্ধান, দেখুন নাসার রোভার 'কিউরিওসিটি'র ছবি
লালগ্রহ মঙ্গলের প্রাচীন ইতিহাস ও আবহাওয়া সংক্রান্ত গবেষণায় এবার এক যুগান্তকারী সাফল্য পেল মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার (NASA) রোভার 'কিউরিওসিটি'।
Mars: লালগ্রহ মঙ্গলের প্রাচীন ইতিহাস ও আবহাওয়া সংক্রান্ত গবেষণায় এবার এক যুগান্তকারী সাফল্য পেল মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার (NASA) রোভার 'কিউরিওসিটি'। মঙ্গলের 'গেলে ক্রেটার' অঞ্চলের 'মাউন্ট শার্প'-এর পাদদেশে অনুসন্ধান চালানোর সময় এক সুবিশাল এলাকা জুড়ে মৌচাকের মতো ছড়ানো জ্যামিতিক বা বহুজাতিক (polygon) ফ্র্যাকচার বা ফাটলের সন্ধান পেয়েছে এই রোভার। গ্রহটিতে প্রাচীনকালে জলের অস্তিত্ব ও পরিবেশ কেমন ছিল, তা বোঝার ক্ষেত্রে এই আবিষ্কার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
মঙ্গলে দেখা সবচেয়ে বড় আকারের ‘পলিগন ফিল্ড’
মাউন্ট শার্পের 'ভালে গ্র্যান্ডে' (Valle Grande) নামক একটি উপত্যকায় কিউরিওসিটি তার ৪,৯৩০ এবং ৪,৯৩১তম মঙ্গল-দিবসে (sols) তোলা ৩৬০-ডিগ্রি প্যানোরামা ছবিতে এই অদ্ভুত প্রাকৃতিক রূপ ফুটিয়ে তুলেছে। আশপাশের পাহাড় ও উপত্যকার চারপাশজুড়ে বিস্তৃত এই জ্যামিতিক কাঠামোটি এ যাবৎ মঙ্গলে দেখা সবচেয়ে বড় আকারের ‘পলিগন ফিল্ড’।
দেখুন ছবিতে
প্রাচীন জল ও জলবায়ু পরিবর্তনের নতুন ইঙ্গিত
বিজ্ঞানীদের ধারণা, কোটি কোটি বছর আগে মঙ্গলের বুকে যখন জল ছিল, তখন কাদা শুকিয়ে যাওয়ার ফলে গঠিত ফাটল (mud cracks) থেকে এই ধরনের মৌচাকসদৃশ টেক্সচার বা আকৃতি তৈরি হতে পারে। তবে তাপমাত্রার ধারাবাহিক পরিবর্তন কিংবা পাললিক শিলার চাপের কারণেও এটি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না গবেষকরা। মাউন্ট শার্পের যে অঞ্চলে এই কাঠামোটি পাওয়া গেছে, সেখানে বহু বছর আগে নদী ও হ্রদের অস্তিত্ব ছিল বলে ইতিমধ্যেই প্রমাণ মিলেছে। ফলে এই জ্যামিতিক ফাটলগুলো যদি প্রাচীন জলপ্রবাহের সাথে সম্পর্কিত হয়, তবে মঙ্গল কীভাবে একসময়ের আর্দ্র ও বসবাসযোগ্য পরিবেশ থেকে আজকের মতো ঠান্ডা ও শুষ্ক লালগ্রহে পরিণত হলো, তা অনুধাবন করা আরও সহজ হবে।
১৪ বছরের দীর্ঘ অভিযাত্রা
২০১২ সালের আগস্টে মঙ্গলের মাউন্ট শার্প ও গেলে ক্রাটারে অবতরণ করে কিউরিওসিটি। মঙ্গলে কোনো সময় অণুজীব বা প্রাণের অস্তিত্ব ছিল কি না, তা খুঁজে বের করাই ছিল এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। গত প্রায় ১৪ বছর ধরে দুর্গম পথ অতিক্রম করে কিউরিওসিটি নিয়মিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাঠাচ্ছে। নাসার বিজ্ঞানীরা আপাতত কিউরিওসিটির কাছে থাকা আধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে এই বহুজাতিক শিলার খনিজ উপাদান বিশ্লেষণ ও গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে আরও বিশদ গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।