Anna Nicole Smith: ২৬ বছরের বার ডান্সারের সঙ্গে ৮৯ বছরের ধনকুবের তেল ব্যবসায়ীর প্রেমের পর বিয়ে, তারপর!

৬৩ বছরের বড় পাত্রকে অ্যানার দ্বিতীয় বিয়ে করাটা গোটা দুনিয়ার পেজ থ্রি-তে বড় করে কভার করা হয়েছিল। তবে এই বিয়ের পরিণতি দুজনের জন্যই ভাল হয়নি। বিয়ের পর থেকে বয়েসের ভারে ঝুঁকে পড়া হাওয়ার্ড মার্শালের শরীর খারাপটা বাড়ল। তবে অ্যানা দুবেলা নিয়ম করে তাঁকে হাসপাতালে দেখতে যেতেন।

Anna Nicole Smith , J Howard Marshall. (Photo Credits:X)

Anna Nicole Smith: ২৬ বছরের সুন্দরী বার ডান্সারের সঙ্গে ৮৯ বছরের ধনকুবের তেল ব্যবসায়ীর প্রেম। তারপর বিয়ে। ১৯৯৪ সালে টেক্সাসে হওয়া সেই অসম বয়েসের বিয়েটা নিয়ে একটা সময় তোলাপড় পড়ে গিয়েছিল বিশ্বে। ২৬ বছরের অ্যানা নিকোল স্মিথ বিয়ে করেছিলেন তাঁর চেয়ে ৬৩ বছরের ধনকুবের শিল্পপতি জে. হাওয়ার্ড মার্শাল-কে। এর আগে অ্যানার যেমন একটা বিয়ে হয়েছিল, তেমনই ধনকুবের শিল্পপতির এটি ছিল তৃতীয় বিয়ে। সবাই সে সময় অ্যানা স্মিথকে 'গোল্ড ডিগার'বলে রে রে করে উঠেছিলেন। সেই স্বরটা বহু গুণ বেড়ে গিয়েছিল, বিয়ের ১৪ মাস পর ধনকুবের শিল্পপতি হাওয়ার্ড মার্শালের আচমকা মৃত্য়ুর পর। আর এবার হলিউডে এই বিষয় নিয়েই সিনেমা হতে চলেছে।

নাইট ক্লাবে দুজনের দেখা হয়, তারপর ৬৩ বছরের ছোট-বড় দুই মানুষের প্রেম

এটুকু পড়ে মনে করবেন না ২৬ বছরের চোখটানা সুন্দরী অ্যানা স্মিথের জীবনের সবটা জেনে ফেললেন। আগে জেনে রাখুন অ্যানা স্মিথের আসল নাম ভিকি লিন হোগান। টেক্সাসের একেবারে দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসেছিল সে। কোনও রকমে দুবেলা দুমুঠো জুটত অন্ন। পড়াশোনা বেশিদূর করার সুযোগ হয়নি। অসম্ভব সুন্দরী হওয়ায় ১৫ বছর বয়সেই এক ফ্রায়েড চিকেন রেস্তোঁরায় কাজ জুটে যায়। ১৭ বছর বয়সে অ্যানা বিয়ে করে ফেলে বিল্লি উইন স্মিথ নামের এক ব্যক্তিকে। বছরখানেকের মধ্যেই ড্য়ানিয়েল নামে পুত্র সন্তানের জন্ম দিলেন। ছেলেকে ভালভাবে রাখার জন্য অ্যানা যোগ দেন হাউস্টনের এত স্ট্রিপ ক্লাবে। সেখানে নজরে পড়েন হলিউডের এক প্রযোজকের। এরপর মডেলিংয়ের জগতে যোগ দিয়ে ভিকি লিন হোগানের নাম পরিবর্তেন করে রাখে অ্যানা নিকোল স্মিথ। এরপরই এক নাইট ক্লাবে অ্যানার পরিচয় হয় ধনকুবের শিল্পপতি জে. হাওয়ার্ড মার্শালের। সেখান থেকে প্রেম, তারপর বিয়ে। ৬৩ বছরের বড় পাত্রকে অ্যানার দ্বিতীয় বিয়ে করাটা গোটা দুনিয়ার পেজ থ্রি-তে বড় করে কভার করা হয়েছিল। তবে এই বিয়ের পরিণতি দুজনের জন্যই ভাল হয়নি। বিয়ের পর থেকে বয়েসের ভারে ঝুঁকে পড়া হাওয়ার্ড মার্শালের শরীর খারাপটা বাড়ল। তবে অ্যানা দুবেলা নিয়ম করে তাঁকে হাসপাতালে দেখতে যেতেন। বিবাহ বার্ষিকীতে আইসিইউ-তে ভর্তি ছিলেন অ্যানার বৃদ্ধ বর।

দুজনের বিয়ের সময় ছবি

প্রথম বিবাহ বার্ষিকীর মাস দুয়েক পর হাওয়ার্ড মার্শাল মারা গেলেন। অ্যানা আবার একা হয়ে গেলেন। হাওয়ার্ডের বিপুল সম্পত্তি পাওয়ার দাবিদার হন অ্যানা নিকোল স্মিথ। কিন্তু হাওয়ার্ডের আত্মীয়রা অ্যানার বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার মামলা করেন। তারা দাবি করেন, অ্যানাকে আইনত বিয়ে করেননি হাওয়ার্ড। অ্যানাও পাল্টা আদালতে যান সম্পত্তি পেতে। জে. হাওয়ার্ডের তৃতীয় পক্ষের স্ত্রী অ্যানা নিকোল স্মিথ দাবি করেছিলেন, যে হাওয়ার্ড তাকে মৌখিকভাবে তার সম্পত্তির অর্ধেক দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে, তার উইলে স্মিথের জন্য কোনো উল্লেখ ছিল না, এবং তিনি আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমেও কিছুই পাননি অ্য়ানা।

বারবার মিডিয়া তাঁকে অপমান করে 'গোল্ড ডিকার'বলে

তবে সব কিছুর জন্য এর মাঝে দেশজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে যান অ্যানা। বৃদ্ধ স্বামীকে হারানোর পর হলিউডের কিছু সিনেমায় অভিনয় করার অফার পান। হিট ছবিও উপহার দেন। তাঁকে নিয়ে হয় ডকুমেন্টারি। কিন্তু মন থেকে কোনওদিনই সুখি হতে পারেননি। ২০০৭ সালে সাল লাস ভেগাসের এক হোটেলে একসঙ্গে অনেকগুলো ঘুমের ওষুধ ও অন্যান্য কিছু ওষুধ খেয়ে ৩৯ বছর বয়সে মারা যান অ্যানা নিকোল স্মিথ। ক্লোরাল হাইড্রেটের অতিরিক্ত মাত্রা তার মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়। তার আগের বছর অ্যানার ছেলে ড্য়ানিয়েল ড্রাগ সেবন করে গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যান। ছেলের মৃত্যুর পর থেকে রম মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন অ্যানা। কিন্তু মরেও শান্তি পাননি আনা। তাঁর মরদেহ কোথায় শায়িত থাকবে, বা কোথায় শেষকৃত্য হবে তা নিয়ে আনার মা ও তার ছোট্ট মেয়ে ড্যানিয়েলিন হোপ মার্শাল বার্কহেডের আত্মীয়রা আদালতে যান। ২০০৬ সালে আনা দ্বিতীয়বারের জন্য মা হন।

ছবিতে অ্যানা স্মিথ

এক ফোটোগ্রাফারের সঙ্গে অতি গোপন প্রেম। যার টের কেউ পায়নি। ছোট্ট সন্তানটির নাম ছিল ড্যানিয়েলিন হোপ। আনার মা ভার্জি আর্থার চেয়েছিলেন, তার মেয়ের শেষকৃত্য ও শায়িত করা হোক তার বাড়ি ফ্লোরিডায়। আর ড্যানিয়েলেনের পরিবার, আনার দেহ তার ইচ্ছা অনুযায়ী বাহামাসে তার ছেলে ড্যানিয়েলের পাশে শায়িত রাখা হোক। শেষ পর্যন্ত আদালতে সব দিক বিবেচনা করে আনার দেহ বাহামাসে শায়িত করার পক্ষেই রায় দিয়েছিল।

Share Now
Advertisement


Advertisement
Share Now
Advertisement