Home made rose water: রূপচর্চায় গোলাপজল অপরিহার্য। এইভাবে ঘরেই তৈরি করে ফেলুন গোলাপ জল।
রূপচর্চায় গোলাপ জল বা রোজ ওয়াটার কতটা প্রয়োজনীয়, তা আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না। একদিকে যেমন এটি ত্বককে হাইড্রেট করে, অন্যদিকে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতেও সাহায্য করে। বাজারে নানা ব্র্যান্ডের গোলাপ জল সহজলভ্য হলেও অনেক সময়ই তার সঙ্গে কেমিক্যাল বা কৃত্রিম সুগন্ধি মিশিয়ে দেওয়া হয়। তাই আজকাল অনেকেই প্রাকৃতিক ও নিরাপদ বিকল্প খুঁজছেন। এই কারণেই ঘরোয়া উপায়ে গোলাপ জল তৈরি করার প্রবণতা বাড়ছে।
সহজ উপায়ে ঘরেই বানিয়ে নেওয়া যায় খাঁটি গোলাপ জল। কেন গোলাপ জল ব্যবহার করবেন?
গোলাপ জলের ব্যবহার বহু প্রাচীন। আয়ুর্বেদে এর গুরুত্ব অপরিসীম। গোলাপ পাপড়ির মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান ত্বকের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
গোলাপ জলের উপকারিতা: ত্বকের প্রাকৃতিক পিএইচ ব্যালেন্স বজায় রাখে, রোদে পোড়া ত্বক ঠান্ডা করে, ব্রণ বা র্যাশে আরাম দেয়, ফেস টোনার হিসেবে কাজ করে, চোখের ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে, মেকআপ সেটিং স্প্রে হিসেবেও ব্যবহারযোগ্য
ঘরে গোলাপ জল তৈরির উপকরণ:
টাটকা লাল বা গোলাপি রঙের সুগন্ধী গোলাপ (যতটা সম্ভব কেমিক্যাল-মুক্ত হওয়া উচিত) – ৫-৬টি ফুল, পরিষ্কার জল – ২ কাপ, একটি সসপ্যান বা পাত্র, ঢাকনা, ছাঁকনি বা কাপড়, একটি কাঁচের বোতল (স্টোর করার জন্য)
তৈরির পদ্ধতি :
১. প্রথমে গোলাপ ফুলগুলোর পাপড়ি ছাড়িয়ে নিন। ধুয়ে পরিষ্কার করে রাখুন।
২. একটি পরিষ্কার সসপ্যানে এই পাপড়িগুলো নিয়ে তাতে ২ কাপ জল দিন।
৩. পাত্রটি ঢেকে দিন এবং খুব ধীরে আঁচে জ্বাল দিন।
৪. জল ফুটে উঠলে আঁচ কমিয়ে দিন এবং ২০-২৫ মিনিট সেদ্ধ হতে দিন, যতক্ষণ না পাপড়ির রঙ ফিকে হয়ে আসে।
৫. চুলা বন্ধ করে ঠান্ডা হতে দিন।
৬. ছাঁকনি বা সুতির কাপড় দিয়ে গোলাপ জল ছেঁকে একটি পরিষ্কার বোতলে ঢেলে রাখুন।
৭. রোজ ওয়াটারটি ফ্রিজে রেখে ৭-১০ দিন ব্যবহার করতে পারবেন।
অন্য এক সহজ পদ্ধতি – ইনফিউশন মেথড
১. গোলাপের পাপড়িগুলো পরিষ্কার করে একটি জার বা গ্লাস পাত্রে নিন।
২. তার মধ্যে ফুটানো ঠান্ডা জল (filtered water) ঢালুন, যাতে পাপড়িগুলো পুরো ডুবে যায়।
3. ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিন এবং রোদ না পাওয়া এমন স্থানে ২৪ ঘণ্টা রেখে দিন।
4. পরদিন ছেঁকে বোতলে ভরে ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন।
তবে মনে রাখবেন: ফুটিয়ে তৈরি করা গোলাপ জল তুলনামূলক বেশি সময় সংরক্ষণ করা যায়।
গোলাপ জল ব্যবহারের কিছু উপায়: ফেস টোনার হিসেবে, ক্লিনজারের পরে তুলোয় করে লাগান, মেকআপ ফিক্সার হিসেবে: একটি স্প্রে বোতলে ভরে মুখে ছিটিয়ে দিন, চোখের আরাম: তুলোয় করে চোখের ওপর রাখুন কয়েক মিনিট, হেয়ার রিন্স: চুল ধোয়ার পর, গোলাপ জল দিয়ে চুলে ছিটিয়ে দিন, ফেস প্যাক: মুলতানি মাটি বা স্যান্ডালউড পাউডারের সঙ্গে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন।
সতর্কতা ও সংরক্ষণ: গোলাপ পাপড়ি যেন কীটনাশকমুক্ত হয়, তাই সম্ভব হলে বাড়ির বাগানের গোলাপ ব্যবহার করুন।ব্যবহার করার আগে প্যাচ টেস্ট করুন, যদি ত্বক সংবেদনশীল হয়।রোজ ওয়াটার সবসময় ফ্রিজে রেখে ব্যবহার করুন, এতে এটি বেশি দিন ভালো থাকবে।কাঁচের বা গাঢ় রঙের বোতলে সংরক্ষণ করা শ্রেয়।
রূপচর্চায় যেমন গোলাপ জল একটি অপরিহার্য উপাদান, তেমনই ঘরে বসে এটি তৈরি করা একদিকে স্বাস্থ্যকর, অন্যদিকে খরচও বাঁচায়। কোনো কেমিক্যাল ছাড়াই নিজের হাতে বানানো রোজ ওয়াটার আপনার ত্বকের প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ফেরাতে সাহায্য করবে। তাহলে আর দেরি কেন? এখনই কিছু তাজা গোলাপ সংগ্রহ করুন, আর বানিয়ে ফেলুন আপনার নিজস্ব ঘরোয়া রোজ ওয়াটার!