জম্মু-কাশ্মীরে কাঠুয়ায় পাকিস্তানি মোবাইল নম্বর লেখা পায়রা উদ্ধার! ভূ স্বর্গে চাঞ্চল্য
ভারত-পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সীমান্তসংলগ্ন জম্মু ও কাশ্মীরের সংবেদনশীল কাঠুয়া জেলায় একটি অস্বাভাবিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। জেলার ছান খাত্রিয়ান এলাকার এক কৃষিজমিতে রহস্যজনকভাবে উদ্ধার হয়েছে একটি বিশেষ আংটি পরিহিত পায়রা।
Pigeon With Pakistani Mobile Number Recovered: ভারত-পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সীমান্তসংলগ্ন জম্মু ও কাশ্মীরের সংবেদনশীল কাঠুয়া জেলায় একটি অস্বাভাবিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। জেলার ছান খাত্রিয়ান এলাকার এক কৃষিজমিতে রহস্যজনকভাবে উদ্ধার হয়েছে একটি বিশেষ আংটি পরিহিত পায়রা। পাখিটির পায়ে থাকা প্লাস্টিকের আংটিতে স্পষ্ট অক্ষরে লেখা রয়েছে একটি পাকিস্তানি মোবাইল নম্বর। এই খবর চাউর হতেই স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র কৌতুহল ও ভীতির সৃষ্টি হয়, এবং তৎক্ষণাৎ খবর দেওয়া হয় স্থানীয় পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থাকে।
ড্রোন তৎপরতা এবং ক্রমাগত অনুপ্রবেশের চেষ্টা
সীমান্তপারের সাম্প্রতিক ড্রোন তৎপরতা এবং ক্রমাগত অনুপ্রবেশের চেষ্টার আবহে এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনী (BSF) ও স্থানীয় পুলিশ। পাখিটিকে ইতিমধ্যেই হেফাজতে নিয়ে যৌথ তদন্ত শুরু হয়েছে। নিরাপত্তা গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখছেন, এটি কেবল সীমান্তপারের কোনো নির্দোষ 'পায়রা ওড়ানো' প্রতিযোগিতার অংশ, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে গোপন বার্তা আদান-প্রদানের কোনো বড় ধরনের সীমান্তপারের ষড়যন্ত্র।
দেখুন ছবিতে
কৃষিজমিতে প্রথম নজরে আসে পাখিটি
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৩০ আগস্ট রবিবার ছান খাত্রিয়ান গ্রামের এক বাসিন্দা তাঁর কৃষিজমিতে কাজটি করার সময় একটি অপরিচিত পায়রা দেখতে পান। পাখিটির চালচলনে সামান্য অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করে তিনি কাছে যান এবং সেটির পায়ে আটকানো একটি ছোট আংটি দেখতে পান। ভালো করে পরীক্ষার পর দেখা যায়, প্লাস্টিকের আংটিটিতে স্পষ্টভাবে একটি পাকিস্তানি মোবাইল নম্বর (০৩০০১৭১৭৬৫২) খোদাই করা রয়েছে। প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, এটি পাকিস্তানের জনপ্রিয় 'জ্যাজ/মোবিলিংক' টেলিকম নেটওয়ার্কের একটি নম্বর। গ্রামবাসী বিলম্ব না করে স্থানীয় পুলিশকে খবর দেন এবং পাখিটিকে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
নিরাপত্তা বাহিনীর যৌথ তদন্ত ও জোড়া সম্ভাবনা
খবর পেয়েই কাঠুয়া থানার পুলিশ এবং সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। নম্বরটির মালিক কে এবং এর পেছনে কোনো উগ্রপন্থী কিংবা গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের হাত রয়েছে কি না, তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে গোয়েন্দারা প্রধানত দুটি সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন:
সীমান্তপারের চক্রান্ত: সংবেদনশীল সীমান্ত এলাকায় পায়রাটিকে ব্যবহার করে কোনো সাংকেতিক বার্তা আদান-প্রদান বা অনুপ্রবেশকারীদের সংকেত দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছিল কি না।
পায়রা রেসিং বা ব্যক্তিগত শখ: পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী গ্রামে সাধারণ 'পায়রা ওড়ানো' প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে হয়তো কোনো মালিক পাখিটির পায়ে নিজের ফোন নম্বর লিখে ছেড়েছিলেন, যা দিক হারিয়ে ভারতের সীমানায় চলে এসেছে।
অতীতেও মিলেছে একই ধরনের সন্দেহভাজন পায়রা
উল্লেখ্য, কাঠুয়া জেলার আন্তর্জাতিক সীমান্ত অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় এই ধরনের ঘটনা প্রথম নয়। এর আগে ২০২০ সালের মে মাসেও কাঠুয়ার হিরানগর সেক্টরে একটি সাংকেতিক কোডযুক্ত আংটি পরা পায়রা আটক করা হয়েছিল। তবে দীর্ঘ তদন্তের পর সেটির পেছনে কোনো দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের প্রমাণ না মেলায় পরবর্তীতে পাখিটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বর্তমান ঘটনাটি নিশ্চিত করতে এবং সীমান্ত নিরাপত্তা সুসংহত রাখতে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ সতর্কতায় পদক্ষেপ নিচ্ছে।