Bluevine Layoffs: মাত্র ৫ মিনিটের গুগল মিট কলে চাকরি ছাঁটাই! ইউএস সংস্থার ৮০ জন ভারতীয় কর্মীকে একযোগে বরখাস্তের অভিযোগ
মাত্র ৫ মিনিটের এক ভার্চুয়াল কলে ছাঁটাই করা হলো আস্ত একটি টিমকে! একটি আমেরিকান ফিনটেক কোম্পানির বিরুদ্ধে এমনই গুরুতর অভিযোগ এনেছেন এক ভারতীয় কর্মী।
Bluevine Layoffs: মাত্র ৫ মিনিটের এক ভার্চুয়াল কলে ছাঁটাই করা হলো আস্ত একটি টিমকে! একটি আমেরিকান ফিনটেক কোম্পানির বিরুদ্ধে এমনই গুরুতর অভিযোগ এনেছেন এক ভারতীয় কর্মী। তার দাবি, গুগল মিটের (Google Meet) মাধ্যমে মাত্র পাঁচ মিনিটের এক সংক্ষিপ্ত বৈঠকে ভারতের কাস্টমার সাপোর্ট টিমের সমস্ত কর্মী, প্রায় ৮০ জন ভারতীয় কর্মচারীকে একযোগে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
'লেড অফ ওভার আ গুগল মিট'
'লেড অফ ওভার আ গুগল মিট' (Laid off over a Google Meet) শীর্ষক একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ওই কর্মী তাদের ওপর ঘটে যাওয়া এই চরম অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেছেন। পোস্টটি ভাইরাল হতেই বহুজাতিক সংস্থাগুলির কাজের সংস্কৃতি ও কর্মীদের নিরাপত্তার অভাব নিয়ে নেটপাড়ায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
কার্যনির্বাহী কারণ দেখিয়ে 'ওয়ার্ক ফ্রম হোম'-এর নির্দেশ
আক্রান্ত কর্মীর বিবরণ অনুযায়ী, ঘটনার দিন 'অপারেশনাল রিজন' বা কার্যনির্বাহী কারণ দেখিয়ে পুরো টিমকে বাড়ি থেকে কাজ (Work From Home) করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সন্ধ্যার শিফটে কাজ শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নেমে আসে আসল আঘাত।
কী বললেন কর্মীরা
সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে কর্মীটি লেখেন, "আমি ৬:৩০টার শিফটে কাজ করছিলাম। রাত ৯:৩০টা নাগাদ হঠাৎ আমাদের একটি গুগল মিট লিঙ্কে যোগ দিতে বলা হয়। আর সেই পাঁচ মিনিটের বৈঠকেই জানিয়ে দেওয়া হয় যে, ভারতের গোটা কাস্টমার সার্ভিস টিমকে বরখাস্ত করা হয়েছে! মাত্র একটি সংক্ষিপ্ত কলে ৮০ জন কর্মী একলপ্তে কাজ হারালেন, প্রভাব পড়ল ৮০টি পরিবারের ওপর।"
আমেরিকান সংস্থা 'ব্লুভাইন'-এর দিকে আঙুল
পোস্টটি ঘিরে শোরগোল তৈরি হতেই নেটিজেনরা সংশ্লিষ্ট সংস্থার নাম জানতে চান। জবাবে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মী জানান, অভিযুক্ত সংস্থাটির নাম 'ব্লুভাইন' (Bluevine)। এটি মূলত ছোট ব্যবসাগুলির জন্য ডিজিটাল ব্যাংকিং, অনলাইন বিজনেস অ্যাকাউন্ট এবং ক্রেডিট সুবিধা প্রদানকারী একটি মার্কিন ফিনটেক প্ল্যাটফর্ম।
পারফরম্যান্সের অজুহাত উড়িয়ে ক্ষোভ প্রকাশ
সংস্থার ম্যানেজমেন্ট ছাঁটাইয়ের কারণ হিসেবে ভারতীয় টিমের প্রত্যাশিত 'আউটপুট' না পাওয়ার অজুহাত দিয়েছে। তবে এই দাবি পুরোপুরি খারিজ করে দিয়েছেন প্রাক্তন ওই কর্মী।
পোস্টে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি লিখেছেন, "ওদের দাবি আমরা নাকি সঠিক আউটপুট দিচ্ছিলাম না, যা একদম বাজে কথা! আসলে মার্কিন টিমের দিকেই কাজের গাফিলতি এবং চাকরি ছাড়ার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি ছিল। অন্যদিকে, আমরা চাকরির নিরাপত্তার ভয়ে দিনরাত এক করে কাজ করে গিয়েছি।" তিনি আরও যোগ করেন, "যে করপোরেট সংস্থাগুলি যখন খুশি মানুষকে ছুড়ে ফেলে দিতে পারে, তাদের জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছিলাম ভেবে আজ আফসোস হচ্ছে।"
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের ঝড়
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই ইন্টারনেটে সমবেদনা ও ক্ষোভের আবহ তৈরি হয়েছে। অনেকেই এই জাতীয় গণছাঁটাইকে 'অমানবিক' ও 'হতাশাজনক' বলে মন্তব্য করেছেন। আকস্মিক কোনো নোটিশ ছাড়া কীভাবে একটি সংস্থায় বছরের পর বছর ধরে খেটে আসা কর্মীদের এক নিমেষে বের করে দেওয়া হলো, তা নিয়েও উঠছে বড় প্রশ্ন। ঘটনাটি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও, সংশ্লিষ্ট কোম্পানির পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক স্পষ্টীকরণ বা বিবৃতি সামনে আসেনি।