Uber Layoffs: উবার-এ গণছাঁটাই, ৩৩০০ কর্মীর কাজ যাচ্ছে, বড়সড় প্রশাসনিক পরিবর্তনের নেপথ্যে কী

প্রশাসনিক জটিলতা দূর করে কাজের গতি বাড়াতে বড় ধরনের কর্মী ছাঁটাই ও সাংগঠনিক পুনর্গঠনের পথে হাঁটল আন্তর্জাতিক রাইড শেয়ারিং টেক জায়ান্ট উবার টেকনোলজিস।

Layoffs-Representative-Image-3-Pixabay-380x214

Uber Layoffs: প্রশাসনিক জটিলতা দূর করে কাজের গতি বাড়াতে বড় ধরনের কর্মী ছাঁটাই ও সাংগঠনিক পুনর্গঠনের পথে হাঁটল আন্তর্জাতিক রাইড শেয়ারিং টেক জায়ান্ট উবার টেকনোলজিস। সংস্থাটি বিশ্বব্যাপী প্রায় ৩,৩০০ কর্মী ছাঁটাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা তাদের মোট কর্মী বাহিনীর প্রায় ১০ শতাংশ। গত বছরের শেষ হিসাব অনুযায়ী সংস্থায় প্রায় ৩৪ হাজার কর্মচারী কর্মরত ছিলেন। এই ছাঁটাই প্রক্রিয়ার পর উবারের মোট কর্মী সংখ্যা কমে ৩০ হাজারের নিচে নেমে আসবে। ২০২০ সালের মে মাসে মহামারীর সময়ে ৬ হাজার ৭০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের পর এটিই উবারের সবচেয়ে বড় ছাঁটাই প্রক্রিয়া।

পুনর্গঠনের মূল উদ্দেশ্য

সংস্থার সিইও দারা খসরোশাহী কর্মচারীদের পাঠানো এক অভ্যন্তরীণ ইমেইলে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পরিবর্তনের কথা জানান, যা প্রথম প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ। খসরোশাহী উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে কোম্পানির ব্যবসায়িক বৃদ্ধির ফলে প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতরে অতিরিক্ত মধ্যবর্তী স্তর, জটিল সমন্বয় ঝামেলা এবং অস্পষ্ট দায়িত্ববোধ তৈরি হয়েছিল। যখন ব্যবসা ছোট ছিল, তখনকার তৈরি অনেক প্রশাসনিক মডেল উবারের বর্তমান বিশাল পরিধির সঙ্গে আর সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই সংস্থাকে আরও "সহজ, সরল ও দ্রুতগতির" করে তোলাই এই পুনর্গঠনের মূল উদ্দেশ্য।

কাদের চাকরি যাচ্ছে

এই ছাঁটাইয়ের বড় প্রভাব পড়তে চলেছে ম্যানেজমেন্ট লেভেলে। সংস্থাটি তাদের মোট ম্যানেজারের পদ প্রায় ২০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে বেশ কিছু ম্যানেজারকে চাকরিচ্যুত না করে সাধারণ কর্মী (Individual Contributor) হিসেবে পুনর্নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি, যেসব পদের মূল কাজ ছিল কেবল বিভিন্ন দলের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা, সেগুলোকে ছেঁটে ফেলা হচ্ছে এবং অবশিষ্ট ম্যানেজারদের দায়িত্ব ও কাজের পরিধি বাড়ানো হচ্ছে। সিইও-এর সাত স্তর বা তার নিচে থাকা কর্মীদের সংখ্যাও ২০ শতাংশ কমানো হবে।

স্বয়ংক্রিয় গাড়ি (AV) প্রজেক্টে বড় বিনিয়োগ

সাংগঠনিক এই ওভারহলিংয়ের অংশ হিসেবে উবার তাদের প্রায় অর্ধেক 'মাইক্রো-টিম' (এক বা দুইজন সদস্য বিশিষ্ট দল) বন্ধ করে দিচ্ছে। পাশাপাশি কোর ইঞ্জিনিয়ারিং, ডেটা সায়েন্স ও ডেলিভারি অপারেশন টিমগুলোকে এক ছাতার তলায় আনা হচ্ছে। বিশেষ করে রেস্তোরাঁ, রিটেইল ও ডিরেক্ট সার্ভিসেসের ডেলিভারি টিমগুলোকে একীভূত করা হয়েছে। এই ছাঁটাই ও কাঠামোগত পরিবর্তনের ফলে যে অর্থ সাশ্রয় হবে, তা ড্রাইভার, কুরিয়ার, উদ্ভাবনী প্রযুক্তি এবং বিশেষ করে রোবোট্যাক্সি ও স্বয়ংক্রিয় গাড়ি (AV) প্রজেক্টে পুনর্বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

রিমোট কাজের সুবিধায় বদল

কাজের পরিবেশেও উবার বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে। সংস্থাটি দূরবর্তী কাজ বা 'রিমোট ওয়ার্ক'-এর সুবিধা সীমিত করে এনেছে, যেখানে মাত্র ১ শতাংশ কর্মী পূর্ণাঙ্গ রিমোট কাজের সুবিধা পাবেন। বাকি কর্মীদেরকে নিউ ইয়র্ক বা সান ফ্রান্সিসকোর মতো উবারের প্রধান অফিস হাবগুলোতে স্থানান্তরিত হতে বলা হয়েছে এবং সপ্তাহে তিন দিন সশরীরে অফিসে আসার নিয়ম বহাল রাখা হয়েছে।

ছাঁটাইয়ের প্রভাব শেয়ার বাজারে

এই ছাঁটাইয়ের খবরের প্রভাব পড়ে শেয়ার বাজারেও, ঘোষণার পরপরই উবারের শেয়ারের দাম প্রায় ২ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। সিইও সরাসরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-কে দায়ী না করলেও, কার্যক্রমে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধিই যে এর নেপথ্য কারণ, তা স্পষ্ট। স্থানীয় আইনি জটিলতা থাকা অঞ্চলগুলো ছাড়া, বিশ্বজুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত অধিকাংশ কর্মীদের ইতিমধ্যেই এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

Share Now
Advertisement


Advertisement
Advertisement
Share Now
Advertisement