আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলে জয় দিয়ে অভিযান শুরু ম্যানচেস্টার সিটির

ইউইএফএ চ্যাম্পিয়নস লিগ ২০২৬-২৭ মৌসুমের শুরুতেই নিজেদের শক্তিমত্তা ও আধিপত্যের প্রমাণ দিল ইংলিশ জায়ান্ট ম্যানচেস্টার সিটি। মঙ্গলবার রাতে পর্তুগালের পোর্তোয় অবস্থিত এস্তাদিও দো দ্রাগাও স্টেডিয়ামে এক নাটকীয় ও তীব্র প্রতিদ্বন্দিতাপূর্ণ ম্যাচে স্বাগতিক এফসি পোর্তোকে ২-০ গোলে হারিয়ে দিয়েছে তারা।

Erling Haaland scored two goals for Man City (Photo X@ManCity)

UCL 2026-27: ইউইএফএ চ্যাম্পিয়নস লিগ ২০২৬-২৭ মৌসুমের শুরুতেই নিজেদের শক্তিমত্তা ও আধিপত্যের প্রমাণ দিল ইংলিশ জায়ান্ট ম্যানচেস্টার সিটি। মঙ্গলবার রাতে পর্তুগালের পোর্তোয় অবস্থিত এস্তাদিও দো দ্রাগাও স্টেডিয়ামে এক নাটকীয় ও তীব্র প্রতিদ্বন্দিতাপূর্ণ ম্যাচে স্বাগতিক এফসি পোর্তোকে ২-০ গোলে হারিয়ে দিয়েছে তারা। দলপতি ও নতুন কোচ এঞ্জো মারেস্কার অধীনে ইউরোপ সেরার মঞ্চে এই জয় সিটির জন্য এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। পুরো ম্যাচে ম্যানচেস্টার সিটির জয়ের নায়ক ছিলেন দলের সেরা তারকা ও প্রফেশনাল গোলমেশিন আর্লিং হালান্ড, যার দুর্দান্ত জোড়া গোল পর্তুগিজ ক্লাবটিকে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে দেয়।

বৃষ্টিভেজা রাতে সিটির দাপট

ম্যাচের শুরু থেকেই আবহাওয়া খুব একটা অনুকূলে ছিল না। পর্তুগালের বৃষ্টিভেজা রাতে পিচ ছিল কিছুটা পিচ্ছিল, যার ফলে মাঠের স্বাভাবিক গতিময় ফুটবল খেলে ওঠা উভয় দলের জন্যই বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছিল। ম্যাচের প্রথম থেকেই ঘরের মাঠের দর্শকদের সমর্থনে পোর্তো বেশ আক্রমণাত্মক মনোভাব নিয়ে খেলা শুরু করে। শুরুতেই সিটির রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছিল তারা। তবে এঞ্জো মারেস্কার সুসংগঠিত ডিফেন্স লাইন প্রতিপক্ষের সব প্রাথমিক আক্রমণ অত্যন্ত দক্ষতার সাথে প্রতিহত করে দেয়। সিটির রক্ষণভাগ ভেঙে গোলমুখে বল পৌঁছানো পোর্তোর স্ট্রাইকারদের জন্য একরকম অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।

কীভাবে জিতল সিটি

ম্যাচের ধারার বিপরীতে গিয়ে প্রথমার্ধেই ম্যানচেস্টার সিটিকে কাঙ্ক্ষিত লিড এনে দেন ২৬ বছর বয়সী নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। প্রতিপক্ষের বক্সে প্রতি আক্রমণ থেকে আসা একটি সূক্ষ্ম সুযোগের পূর্ণ ব্যবহার করে দুর্দান্ত এক ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান তিনি। ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর পোর্তো সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে, কিন্তু সিটির আত্মবিশ্বাসী ফুটবলের সামনে তাদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

দ্বিতীয়ার্ধে ভাল খেলেন সিটির ডিফেন্ডাররা

দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু হলে আবারও সিটির আক্রমণের ধার স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখে মাঠের প্রতিটা বিভাগে আধিপত্য বিস্তার করতে থাকে মারেস্কার শিষ্যরা। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের শেষভাগে গিয়ে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন হালান্ড। তার এই দ্বিতীয় গোলটি ম্যানচেস্টার সিটির ২-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে এবং নিশ্চিত ৩ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইংলিশ ক্লাবটি।

কী বলছেন সিটি কোচ মারেস্কা

এই জয়টি ম্যানচেস্টার সিটির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে অ্যাওয়ে ম্যাচে তাদের পারফরম্যান্স নিয়ে যেসব সমালোচনা হচ্ছিল তা উড়িয়ে দেওয়ার জন্য। সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন টুর্নামেন্টে নিজেদের মাঠের বাইরে খেলা শেষ ৯টি ম্যাচের মধ্যে ৬টিতেই হেরেছিল সিটি। সেই কঠিন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে ইউরোপিয়ান ফুটবলের অন্যতম কঠিন অ্যাওয়ে গ্রাউন্ডে গিয়ে এমন জয় পাওয়া নিঃসন্দেহে দলের মানসিক শক্তি অনেক বাড়িয়ে দেবে। কোচ এঞ্জো মারেস্কা ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে দলের বাইরের ফর্ম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও, তার খেলোয়াড়েরা মাঠের পারফরম্যান্সে কোচের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন।

পরিসংখ্যান

এছাড়া এই ফলাফলের ফলে এফসি পোর্তোর বিরুদ্ধে সিটির অপরাজিত থাকার ইতিহাস আরও দীর্ঘায়িত হলো। ইউরোপীয় টুর্নামেন্টে দু’দলের মোট ৬টি মুখোমুখি লড়াইয়ের মধ্যে ম্যানচেস্টার সিটি জয় পেয়েছে ৫টিতে এবং বাকি ১টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। পোর্তোর বিপক্ষে সিটি মোট ১১টি গোল করেছে, যার বিপরীতে পর্তুগিজ দলটি মাত্র ২টি গোল করতে সক্ষম হয়েছে। champions league-এর এই দুর্দান্ত শুরু মারেস্কার দলকে পরবর্তী কঠিন ম্যাচগুলোর জন্য মানসিকভাবে অনেক এগিয়ে রাখবে।

Share Now
Advertisement


Advertisement
Advertisement
Share Now
Advertisement