When Is Karam Puja 2026: প্রকৃতি ও ভ্রাতৃত্বের এক বর্ণিল উৎসব - তারিখ, তাৎপর্য ও রীতিনীতি
করম পূজা ২০২৬ সালের ২২শে সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার, ভাদ্র মাসের শুক্ল একাদশী তিথিতে পালিত হবে। আদিবাসী জনজাতির এই প্রধান ফসল উৎসবটি করম দেবতার প্রতি উৎসর্গীকৃত, যিনি যৌবন, শক্তি ও সমৃদ্ধির প্রতীক। এই উৎসবের বিশেষ তাৎপর্য, জাওয়া পাতা তৈরি, করম ডাল স্থাপন, উপবাস, ঐতিহ্যবাহী নাচ-গান ও করম ডোর বিনিময়ের মতো প্রধান রীতিনীতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন। এটি ঝাড়খণ্ড.
ভারতের আদিবাসী জনজাতিগুলির এক সুপ্রাচীন এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উৎসব হলো করম পূজা, যা প্রতি বছর ভাদ্র মাসের শুক্ল একাদশী তিথিতে পালিত হয়। কৃষি ও প্রকৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত এই উৎসব ফসল কাটার আনন্দ, উর্বরতা এবং তারুণ্যের প্রতীক। ২০২৬ সালে করম পূজা আগামী ২২শে সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার পালিত হবে। এটি কেবল একটি ধর্মীয় আরাধনা নয়, বরং একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলন উৎসব, যেখানে সম্প্রদায় একত্রিত হয়ে তাদের ঐতিহ্যকে সজীব রাখে।
করম পূজার তাৎপর্য
করম পূজা মূলত করম দেবতার উপাসনা। করম দেবতাকে যৌবন, শক্তি, উর্বরতা এবং সৃষ্টির দেবতা হিসেবে মানা হয়। এটি একটি ফসল উৎসব, যেখানে ভালো ফলন এবং শস্যকে অশুভ শক্তি থেকে রক্ষার জন্য প্রার্থনা করা হয়। এই উৎসবের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভাই-বোনের সম্পর্ককে শ্রদ্ধা জানানো। অবিবাহিত বোনেরা তাদের ভাইদের দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধি কামনায় উপবাস পালন করেন। করম গাছকে (নিওলামার্কিয়া কদম্বর) এই উৎসবের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়, যা উর্বরতা ও সমৃদ্ধির প্রতীক।
প্রধান রীতিনীতি ও উদযাপন
করম পূজার প্রস্তুতি সাধারণত উৎসবের সাত থেকে নয় দিন আগে শুরু হয়। এর কিছু প্রধান রীতিনীতি নিচে উল্লেখ করা হলো:
- জাওয়া পাতা তৈরি: অবিবাহিত মেয়েরা বাঁশের ছোট ডালায় বা ঝুড়িতে বালি ভরে তাতে সাত থেকে নয় প্রকারের শস্য (যেমন – ধান, গম, মুগ, ছোলা, তিল, কড়াই, ভুট্টা) বীজ বপন করে এবং প্রতিদিন জল দিয়ে সেগুলিকে অঙ্কুরিত করে তোলে। এই অঙ্কুরিত শস্যকে 'জাওয়া' বলা হয়।
- করম ডাল স্থাপন: পূজার দিনে গ্রামের যুবকেরা জঙ্গল থেকে করম গাছের একটি শাখা কেটে নিয়ে আসে। এই ডালটিকে গ্রামের নির্ধারিত স্থানে বা উঠোনে স্থাপন করা হয় এবং এটি করম দেবতার প্রতীক রূপে পূজিত হয়।
- উপবাস ও আরাধনা: মূলত নারীরা, বিশেষ করে অবিবাহিত মেয়েরা, ভাইদের মঙ্গল কামনায় উপবাস পালন করেন। পূজার উপকরণ হিসাবে ফুল, ফল, মিষ্টি এবং পিঠাপুলির মতো ঐতিহ্যবাহী খাবার নিবেদন করা হয়। করম দেবতার কাহিনি বা কিংবদন্তি শ্রবণ করা হয়।
- নাচ-গান: উৎসবের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো সারা রাত ধরে দলবদ্ধ নাচ-গান। মাদল, ঢোল ও নাগাড়ার তালে তালে 'ভাদরিয়া ঝুমুর' এবং 'করম নাচ' পরিবেশিত হয়। এই আনন্দময় পরিবেশে সকলে একত্রিত হয়ে উৎসবে মেতে ওঠে।
- করম ডোর বিনিময়: পূজার শেষে মেয়েরা একে অপরকে 'করম ডোর' বা রাখী পরিয়ে দেয়, যা বন্ধুত্বের প্রতীক।
- বিসর্জন: পরের দিন সকালে করম ডালটিকে সম্মানের সঙ্গে জলে ভাসিয়ে দেওয়া হয়।
আঞ্চলিক বৈচিত্র্য ও বর্তমান উদযাপন
করম পূজা ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে যেমন ঝাড়খণ্ড, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ এবং ওড়িশায় মহা ধুমধামে পালিত হয়। এছাড়া প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ ও নেপালের কিছু অংশেও এর প্রচলন রয়েছে। ঝাড়খণ্ডে এটি একটি সরকারি ছুটি হিসেবে পালিত হয়। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারও ২০২৬ সালের ২২শে সেপ্টেম্বর করম পূজা উপলক্ষে সরকারি অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং চা বাগানের আদিবাসী শ্রমিকদের জন্য পূর্ণদিবসের ছুটি ঘোষণা করেছে। তবে এই দিনে ব্যাঙ্ক খোলা থাকবে। এই উৎসব কড়মি, সাঁওতাল, মুন্ডা, ওঁরাও সহ বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের পাশাপাশি অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীও পালন করে থাকে।
করম পূজা আমাদের সংস্কৃতিতে প্রকৃতি, কৃষি এবং সামাজিক বন্ধনের গুরুত্বকে তুলে ধরে। এটি আধুনিক জীবনেও তার প্রাসঙ্গিকতা বজায় রেখেছে, যেখানে মানুষ তার শিকড়ের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে এই ঐতিহ্যবাহী উৎসবগুলিকে সযত্ন লালন করে চলেছে।