শারদীয়া নবরাত্রি ২০২৬: ঘটস্থাপনা ও মা শৈলপুত্রী পূজার শুভ সূচনা

শারদীয়া নবরাত্রি ২০২৬ সালের ১১ অক্টোবর, রবিবার থেকে শুরু হচ্ছে। এই উৎসবের প্রথম দিনেই পালিত হবে ঘটস্থাপনা ও নবদুর্গার প্রথম রূপ মা শৈলপুত্রী পূজা। এই বিস্তারিত গাইডটিতে ঘটস্থাপনার শুভ মুহূর্ত, পূজার রীতিনীতি, মা শৈলপুত্রীর তাৎপর্য এবং আঞ্চলিক উদযাপন সম্পর্কে জানুন। স্থানীয় সময় অনুসারে সঠিক মুহূর্ত দেখে নিন এবং এই পবিত্র উৎসবের শুভ সূচনা করুন।.

Sharad Navaratri Day 6 Photo Credit: X@schakrabarti1

Sharadiya Navratri 2026: ভারতের অন্যতম বৃহৎ এবং সবচেয়ে শ্রদ্ধেয় উৎসবগুলির মধ্যে একটি, শারদীয়া নবরাত্রি, এবছর ১১ অক্টোবর, ২০২৬ রবিবার থেকে শুরু হতে চলেছে। নয় দিনব্যাপী এই উৎসব দেবী দুর্গা এবং তাঁর নয়টি রূপকে উৎসর্গীকৃত, যা অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভ শক্তির বিজয়ের প্রতীক। প্রথম দিনেই ঘটে ওঠে ঘটস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ আচার এবং পূজিত হন নবদুর্গার প্রথম রূপ মা শৈলপুত্রী।

শারদীয়া নবরাত্রি ২০২৬: গুরুত্বপূর্ণ তারিখ ও সময়

২০২৬ সালের শারদীয়া নবরাত্রি ১১ অক্টোবর, রবিবার থেকে শুরু হয়ে ১৯ অক্টোবর, সোমবার পর্যন্ত চলবে। এই সময়ের মধ্যে প্রতিটি দিনই দেবীর এক একটি রূপের আরাধনা করা হয়। বিজয়া দশমী বা দশেরা পালিত হবে ২০ অক্টোবর, মঙ্গলবার।

ঘটস্থাপনা ও প্রতিপদা তিথি (প্রথম দিন)

তারিখ দিন তিথি দেবী
১১ অক্টোবর ২০২৬ রবিবার প্রতিপদা মা শৈলপুত্রী

ঘটস্থাপনার শুভ মুহূর্ত (দিল্লি সময় অনুসারে)

মুহূর্তের ধরন সময় (আনুমানিক)
সকালের শুভ মুহূর্ত সকাল ০৬:১৯ থেকে সকাল ১০:১২
অভিজিৎ মুহূর্ত (বিকল্প) সকাল ১১:৪৪ থেকে দুপুর ১২:৩১

দ্রষ্টব্য: স্থানীয় সূর্যোদয় অনুসারে মুহূর্তের সময় বিভিন্ন শহরে পরিবর্তিত হতে পারে। পূজার আগে নিজ নিজ শহরের পঞ্জিকা দেখে সময় নিশ্চিত করা আবশ্যক।

প্রতিপদা তিথি ১০ অক্টোবর, রাত ৯:৩৪ মিনিটে শুরু হয়ে ১১ অক্টোবর, রাত ৯:৩১ মিনিটে শেষ হবে।

ঘটস্থাপনা: উৎসবের পবিত্র সূচনা

নবরাত্রির প্রথম দিনের প্রধান আচার হলো ঘটস্থাপনা, যা কলশ স্থাপন নামেও পরিচিত। এটি একটি পবিত্র কলশ স্থাপন করে দেবী দুর্গার আহ্বান ও নয় দিনের পূজার শুভ সূচনাকে নির্দেশ করে। এই আচারে একটি মাটির পাত্রে মাটি ও বার্লি বপন করা হয় এবং তার উপর জলপূর্ণ কলশ স্থাপন করে তাতে আম পাতা ও নারকেল রাখা হয়। ঘটস্থাপনা ভক্তি, বিশুদ্ধতা এবং স্থায়িত্বের প্রতীক। এই সময় অনেক ভক্ত অখণ্ড জ্যোতি প্রজ্জ্বলিত করেন, যা নয় দিন ধরে অবিরাম জ্বলতে থাকে।

মা শৈলপুত্রী: নবদুর্গার প্রথম রূপ

নবরাত্রির প্রথম দিনে পূজিত হন দেবী দুর্গার প্রথম রূপ মা শৈলপুত্রী। ‘শৈল’ অর্থ পর্বত এবং ‘পুত্রী’ অর্থ কন্যা, তাই তিনি পর্বতরাজ হিমালয়ের কন্যা হিসেবে পরিচিত। তিনি দেবী সতীর পুনর্জন্ম এবং ভগবান শিবের স্ত্রী। মা শৈলপুত্রী সাদা বৃষ (নন্দী) এর উপর আসীন, তাঁর ডান হাতে ত্রিশূল এবং বাম হাতে পদ্ম ধারণ করে থাকেন। দেবী শৈলপুত্রী স্থিতি, ধৈর্য, পবিত্রতা এবং আধ্যাত্মিক জাগরণের প্রতীক। তাঁকে আরাধনা করলে সংসারে স্থিতি, ধৈর্য এবং গৃহস্থ জীবনের সমৃদ্ধি আসে বলে বিশ্বাস করা হয়।

পূজার রীতিনীতি ও তাৎপর্য

মা শৈলপুত্রীর পূজায় ভক্তরা মুলধারা চক্রে তাঁর উপস্থিতি অনুভব করেন, যা আধ্যাত্মিকতার ভিত্তি স্থাপন করে। এই দিনে ভক্তরা ব্রত পালন করেন, শৈলপুত্রী মন্ত্র জপ করেন এবং তাঁর কথা পাঠ করেন। কলা এবং ঘি দিয়ে দেবীর পূজা করা হয়। মনে করা হয়, মা শৈলপুত্রীর আরাধনা করলে চন্দ্রের খারাপ প্রভাব থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

আঞ্চলিক উদযাপন

যদিও ঘটস্থাপনা এবং মা শৈলপুত্রী পূজা ভারতজুড়ে পালিত হয়, তবে এর উদযাপনে আঞ্চলিক ভিন্নতা দেখা যায়। গুজরাট, মহারাষ্ট্র এবং রাজস্থানের মতো রাজ্যগুলিতে গর্ভা ও ডান্ডিয়া রাসের মাধ্যমে এই উৎসবকে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদযাপন করা হয়। তবে, বাংলা ও পূর্ব ভারতে দুর্গাপূজার মূল পর্ব ষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।

শারদীয়া নবরাত্রি শুধু একটি উৎসব নয়, এটি ভক্তি, আত্মশুদ্ধি এবং নারীশক্তির আরাধনার এক মহৎ সময়। মা শৈলপুত্রীর পূজার মধ্য দিয়ে এই নয় দিনব্যাপী পবিত্র উৎসবের সূচনা হয়, যা ভক্তদের জীবনে শান্তি, শক্তি ও সমৃদ্ধি নিয়ে আসে।

৬: ঘটস্থাপনা ও মা শৈলপুত্রী পূজার শুভ সূচনা

ভারতের অন্যতম বৃহৎ এবং সবচেয়ে শ্রদ্ধেয় উৎসবগুলির মধ্যে একটি, শারদীয়া নবরাত্রি, এবছর ১১ অক্টোবর, ২০২৬ রবিবার থেকে শুরু হতে চলেছে। নয় দিনব্যাপী এই উৎসব দেবী দুর্গা এবং তাঁর নয়টি রূপকে উৎসর্গীকৃত, যা অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভ শক্তির বিজয়ের প্রতীক। প্রথম দিনেই ঘটে ওঠে ঘটস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ আচার এবং পূজিত হন নবদুর্গার প্রথম রূপ মা শৈলপুত্রী।

শারদীয়া নবরাত্রি ২০২৬: গুরুত্বপূর্ণ তারিখ ও সময়

২০২৬ সালের শারদীয়া নবরাত্রি ১১ অক্টোবর, রবিবার থেকে শুরু হয়ে ১৯ অক্টোবর, সোমবার পর্যন্ত চলবে। এই সময়ের মধ্যে প্রতিটি দিনই দেবীর এক একটি রূপের আরাধনা করা হয়। বিজয়া দশমী বা দশেরা পালিত হবে ২০ অক্টোবর, মঙ্গলবার।

ঘটস্থাপনা ও প্রতিপদা তিথি (প্রথম দিন)

তারিখ দিন তিথি দেবী
১১ অক্টোবর ২০২৬ রবিবার প্রতিপদা মা শৈলপুত্রী

ঘটস্থাপনার শুভ মুহূর্ত (দিল্লি সময় অনুসারে)

মুহূর্তের ধরন সময় (আনুমানিক)
সকালের শুভ মুহূর্ত সকাল ০৬:১৯ থেকে সকাল ১০:১২
অভিজিৎ মুহূর্ত (বিকল্প) সকাল ১১:৪৪ থেকে দুপুর ১২:৩১

দ্রষ্টব্য: স্থানীয় সূর্যোদয় অনুসারে মুহূর্তের সময় বিভিন্ন শহরে পরিবর্তিত হতে পারে। পূজার আগে নিজ নিজ শহরের পঞ্জিকা দেখে সময় নিশ্চিত করা আবশ্যক।

প্রতিপদা তিথি ১০ অক্টোবর, রাত ৯:৩৪ মিনিটে শুরু হয়ে ১১ অক্টোবর, রাত ৯:৩১ মিনিটে শেষ হবে।

ঘটস্থাপনা: উৎসবের পবিত্র সূচনা

নবরাত্রির প্রথম দিনের প্রধান আচার হলো ঘটস্থাপনা, যা কলশ স্থাপন নামেও পরিচিত। এটি একটি পবিত্র কলশ স্থাপন করে দেবী দুর্গার আহ্বান ও নয় দিনের পূজার শুভ সূচনাকে নির্দেশ করে। এই আচারে একটি মাটির পাত্রে মাটি ও বার্লি বপন করা হয় এবং তার উপর জলপূর্ণ কলশ স্থাপন করে তাতে আম পাতা ও নারকেল রাখা হয়। ঘটস্থাপনা ভক্তি, বিশুদ্ধতা এবং স্থায়িত্বের প্রতীক। এই সময় অনেক ভক্ত অখণ্ড জ্যোতি প্রজ্জ্বলিত করেন, যা নয় দিন ধরে অবিরাম জ্বলতে থাকে।

মা শৈলপুত্রী: নবদুর্গার প্রথম রূপ

নবরাত্রির প্রথম দিনে পূজিত হন দেবী দুর্গার প্রথম রূপ মা শৈলপুত্রী। ‘শৈল’ অর্থ পর্বত এবং ‘পুত্রী’ অর্থ কন্যা, তাই তিনি পর্বতরাজ হিমালয়ের কন্যা হিসেবে পরিচিত। তিনি দেবী সতীর পুনর্জন্ম এবং ভগবান শিবের স্ত্রী। মা শৈলপুত্রী সাদা বৃষ (নন্দী) এর উপর আসীন, তাঁর ডান হাতে ত্রিশূল এবং বাম হাতে পদ্ম ধারণ করে থাকেন। দেবী শৈলপুত্রী স্থিতি, ধৈর্য, পবিত্রতা এবং আধ্যাত্মিক জাগরণের প্রতীক। তাঁকে আরাধনা করলে সংসারে স্থিতি, ধৈর্য এবং গৃহস্থ জীবনের সমৃদ্ধি আসে বলে বিশ্বাস করা হয়।

পূজার রীতিনীতি ও তাৎপর্য

মা শৈলপুত্রীর পূজায় ভক্তরা মুলধারা চক্রে তাঁর উপস্থিতি অনুভব করেন, যা আধ্যাত্মিকতার ভিত্তি স্থাপন করে। এই দিনে ভক্তরা ব্রত পালন করেন, শৈলপুত্রী মন্ত্র জপ করেন এবং তাঁর কথা পাঠ করেন। কলা এবং ঘি দিয়ে দেবীর পূজা করা হয়। মনে করা হয়, মা শৈলপুত্রীর আরাধনা করলে চন্দ্রের খারাপ প্রভাব থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

আঞ্চলিক উদযাপন

যদিও ঘটস্থাপনা এবং মা শৈলপুত্রী পূজা ভারতজুড়ে পালিত হয়, তবে এর উদযাপনে আঞ্চলিক ভিন্নতা দেখা যায়। গুজরাট, মহারাষ্ট্র এবং রাজস্থানের মতো রাজ্যগুলিতে গর্ভা ও ডান্ডিয়া রাসের মাধ্যমে এই উৎসবকে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদযাপন করা হয়। তবে, বাংলা ও পূর্ব ভারতে দুর্গাপূজার মূল পর্ব ষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।

শারদীয়া নবরাত্রি শুধু একটি উৎসব নয়, এটি ভক্তি, আত্মশুদ্ধি এবং নারীশক্তির আরাধনার এক মহৎ সময়। মা শৈলপুত্রীর পূজার মধ্য দিয়ে এই নয় দিনব্যাপী পবিত্র উৎসবের সূচনা হয়, যা ভক্তদের জীবনে শান্তি, শক্তি ও সমৃদ্ধি নিয়ে আসে।

Share Now
Advertisement


Advertisement
Share Now
Advertisement