Pitru Paksha 2026: আজ থেকে শুরু পিতৃপক্ষ, জানুন তর্পণ ও শ্রদ্ধার পবিত্র লগ্ন
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে পালিত হচ্ছে ভাদ্রপদ পূর্ণিমা, যা পিতৃপক্ষের সূচনা করে। জেনে নিন এই পবিত্র তিথির সঠিক সময়সূচি, এর গুরুত্ব, পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তির জন্য তর্পণ, শ্রাদ্ধ ও পিণ্ডদানের নিয়মাবলী এবং এই সময়ে পালিত অন্যান্য ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পর্কে। পরিবারে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় এই দিনটির মাহাত্ম্য অপরিসীম।.
Pitru Paksha 2026: ভারতবর্ষের সনাতন ঐতিহ্যে ভাদ্রপদ মাসের পূর্ণিমা তিথি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধুমাত্র দেবী লক্ষ্মী ও ভগবান সত্যনারায়ণের পূজার জন্য নয়, বরং পিতৃপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তাঁদের আত্মার শান্তি কামনার এক পবিত্র সময়। এই পূর্ণিমা তিথির পরেই শুরু হয় পিতৃপক্ষ, যা পূর্বপুরুষদের স্মরণে উৎসর্গীকৃত একটি বিশেষ পক্ষকাল। এ বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে, ভাদ্রপদ পূর্ণিমা এবং পিতৃপক্ষের সূচনা একই দিনে, ২৬ সেপ্টেম্বর, শনিবার পালিত হচ্ছে।
কবে পালিত হচ্ছে ভাদ্রপদ পূর্ণিমা ও পিতৃপক্ষ?
পঞ্জিকা মতে, ২০২৬ সালের ভাদ্রপদ পূর্ণিমা ২৬ সেপ্টেম্বর, শনিবার পালিত হবে। এই পবিত্র তিথি ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ১১টা ০৬ মিনিট (কলকাতা সময় অনুযায়ী) থেকে শুরু হয়ে ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ১০টা ১৮ মিনিট (কলকাতা সময় অনুযায়ী) পর্যন্ত স্থায়ী হবে। উদয় তিথির মান্যতা অনুযায়ী, ২৬ সেপ্টেম্বর সারা দিনই ব্রত, পূজা ও অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের জন্য শুভ।
এই ভাদ্রপদ পূর্ণিমার দিন থেকেই শুরু হচ্ছে পিতৃপক্ষ, যা ১০ অক্টোবর, শনিবার সর্বপিতৃ অমাবস্যা বা মহালয়া পর্যন্ত চলবে। এই পনেরো দিন পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ, শ্রাদ্ধ ও পিণ্ডদান করা হয়। পিতৃপক্ষ ১০ অক্টোবর, রাত ৮টা ৩২ মিনিটে শেষ হবে।
তিথি ও সময়সূচি (কলকাতা সময় অনুযায়ী):
| ইভেন্ট | তারিখ | শুরু | শেষ |
|---|---|---|---|
| ভাদ্রপদ পূর্ণিমা তিথি | ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ২৫ সেপ্টেম্বর, রাত ১১:০৬ | ২৬ সেপ্টেম্বর, রাত ১০:১৮ |
| পিতৃপক্ষ শুরু | ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ২৬ সেপ্টেম্বর, রাত ১০:২০ | - |
| পিতৃপক্ষ শেষ | ১০ অক্টোবর, ২০২৬ | - | ১০ অক্টোবর, রাত ৮:৩২ |
ভাদ্রপদ পূর্ণিমা ও পিতৃপক্ষের গুরুত্ব ও তাৎপর্য
সনাতন বিশ্বাস অনুসারে, ভাদ্রপদ পূর্ণিমা তিথিতে সত্যনারায়ণ পূজা ও দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা করলে পরিবারে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি আসে। এই দিনটিকে 'শ্রাদ্ধ পূর্ণিমা', 'ইন্দ্র পূর্ণিমা' বা 'মধু পূর্ণিমা' নামেও অভিহিত করা হয়।
তবে এই পূর্ণিমার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এটি পিতৃপক্ষের সূচনা করে। পিতৃপক্ষ হলো সেই ১৫ দিনের সময়কাল যখন প্রয়াত পূর্বপুরুষদের আত্মা মর্ত্যে তাঁদের বংশধরদের গৃহে আসেন বলে বিশ্বাস করা হয়। এই সময়ে তাঁদের উদ্দেশ্যে তর্পণ ও শ্রাদ্ধকর্ম করলে পূর্বপুরুষরা তুষ্ট হন এবং তাঁদের আশীর্বাদে পরিবারে দীর্ঘায়ু, সন্তান, ধন-সম্পত্তি ও শান্তি লাভ হয়। যদি কোনও পূর্বপুরুষের শ্রাদ্ধের নির্দিষ্ট তিথি জানা না থাকে, তবে সর্বপিতৃ অমাবস্যার দিনে শ্রাদ্ধ ও তর্পণ করার বিধান রয়েছে।
প্রধান আচার-অনুষ্ঠান ও পালনীয় বিধি
ভাদ্রপদ পূর্ণিমা এবং পিতৃপক্ষে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালিত হয়:
- তর্পণ: পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে জল নিবেদন করাকে তর্পণ বলে। এতে কুশ, তিল, চাল ও জল ব্যবহার করা হয়।
- শ্রাদ্ধ ও পিণ্ডদান: পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তির জন্য তাঁদের প্রিয় খাদ্যদ্রব্য, অন্ন ও পিণ্ড (চাল ও তিল দিয়ে তৈরি বল) নিবেদন করা হয়।
- ব্রাহ্মণ ভোজন ও দান: এই সময়ে ব্রাহ্মণ এবং অভাবী ও দরিদ্রদের অন্ন-বস্ত্র দান করা অত্যন্ত পুণ্যের কাজ বলে বিবেচিত।
- জীব-জন্তুকে ভোজন: গরু, কাক, কুকুর ও অন্যান্য প্রাণীকে খাদ্য প্রদান করা হয়। বিশেষত কাককে পিতৃপুরুষদের বার্তাবাহক মনে করে ভোজন করানোর রীতি প্রচলিত।
- সাত্ত্বিক জীবনযাপন: পিতৃপক্ষের সময় সংযম ও সাত্ত্বিক জীবনযাপন করার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। এই সময়ে কোনো শুভ কাজ, যেমন বিবাহ, গৃহপ্রবেশ ইত্যাদি করা থেকে বিরত থাকা হয়।
ভাদ্রপদ পূর্ণিমা ও পিতৃপক্ষ আমাদের শিকড়কে স্মরণ করিয়ে দেয় এবং পূর্বপুরুষদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা প্রদর্শনের এক অনন্য সুযোগ এনে দেয়। এই পবিত্র দিনগুলিতে যথাযথ ভক্তি ও নিষ্ঠার সঙ্গে আচার-অনুষ্ঠান পালন করলে পিতৃপুরুষের আশীর্বাদে পরিবারে সুখ ও সমৃদ্ধি বজায় থাকে।