সিদ্ধিদাতা গণেশের আশীর্বাদ লাভের শুভ দিন আজ, জানুন তিথি ও ব্রত পালনের নিয়ম
আজ ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, মঙ্গলবার পালিত হচ্ছে অত্যন্ত শুভ আঙ্গারকি সংকষ্টী চতুর্থী। সিদ্ধিদাতা গণেশের আশীর্বাদ লাভের এই পবিত্র দিনে কীভাবে ব্রত পালন করবেন, পূজার শুভ মুহূর্ত ও নিয়মাবলী কী এবং এর বিশেষ তাৎপর্য কী, তা বিস্তারিত জানুন। কলকাতার সময় অনুযায়ী, চতুর্থী তিথি বিকেল ৫টা ০৯ মিনিট থেকে শুরু হয়ে চন্দ্রোদয় হবে সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে। LatestLY বাংলা-তে.
Ganesh Sankashti Chaturthi 2026 আজ ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, মঙ্গলবার, দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে আঙ্গারকি সংকষ্টী চতুর্থী। হিন্দু ধর্মানুসারে, এই দিনটি সিদ্ধিদাতা ভগবান গণেশকে উৎসর্গীকৃত। প্রতি মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্থী তিথিতে সংকষ্টী চতুর্থী পালিত হলেও, মঙ্গলবারে এই তিথি পড়লে তা 'আঙ্গারকি চতুর্থী' নামে পরিচিত হয় এবং এর মাহাত্ম্য বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। মনে করা হয়, এই দিনে নিষ্ঠাভরে ব্রত পালন ও গণেশের আরাধনা করলে সকল বাধা দূর হয় এবং জীবনের সকল ক্ষেত্রে সুখ-সমৃদ্ধি লাভ হয়।
আঙ্গারকি সংকষ্টী চতুর্থী: বিশেষ তাৎপর্য
'সংকষ্টী' শব্দের অর্থ হল বিপদ বা কষ্ট থেকে মুক্তি, আর 'চতুর্থী' হল চতুর্থ তিথি। অর্থাৎ, যে চতুর্থী তিথিতে গণেশের আরাধনা করে সংকট থেকে মুক্তি চাওয়া হয়, তাই সংকষ্টী চতুর্থী। যখন এই পবিত্র তিথি মঙ্গলবারে (অঙ্গারকবার) আসে, তখন তাকে 'আঙ্গারকি চতুর্থী' বলা হয়। পুরাণ মতে, আঙ্গারকি চতুর্থীতে ব্রত পালন করলে সকল মনস্কামনা পূর্ণ হয় এবং গণেশের কৃপায় জীবনে কোনও বাধা থাকে না। অনেক ভক্ত বিশ্বাস করেন যে, এই দিনে উপবাস করলে সারা বছরের সংকষ্টী চতুর্থীর ফল লাভ হয়।
তিথি ও শুভ মুহূর্ত (কলকাতা অনুযায়ী)
২০২৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার, এই বছরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আঙ্গারকি সংকষ্টী চতুর্থী পালিত হচ্ছে।
- চতুর্থী তিথি শুরু: ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, মঙ্গলবার, বিকেল ৫টা ০৯ মিনিট থেকে
- চন্দ্রোদয়ের সময় (কলকাতা): সংকষ্টী চতুর্থীর ব্রত পালনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল চন্দ্র দর্শন এবং চাঁদকে অর্ঘ্য নিবেদন করে ব্রত ভঙ্গ করা। ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, মঙ্গলবার, সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে কলকাতায় চন্দ্রোদয় হবে। চন্দ্রোদয়ের সময় অঞ্চলভেদে ভিন্ন হয়, তাই ভক্তদের নিজ নিজ শহরের স্থানীয় সময় অনুযায়ী চন্দ্রোদয়ের মুহূর্তটি দেখে নেওয়া উচিত।
পূজার নিয়মাবলী ও ব্রত পালন
আঙ্গারকি সংকষ্টী চতুর্থীর দিন ভক্তরা সূর্যোদয় থেকে চন্দ্রোদয় পর্যন্ত কঠোর উপবাস পালন করেন। এই ব্রত পালনের প্রধান নিয়মগুলি নিচে দেওয়া হল:
- স্নান ও সংকল্প: সকালে স্নান সেরে পরিষ্কার বস্ত্র পরিধান করে ব্রত পালনের সংকল্প নিতে হয়।
- গণেশ পূজা: সারাদিন উপবাসের পর সন্ধ্যায় বা দিনের বেলায় ভগবান গণেশের পূজা করা হয়। পূজার স্থানে গণেশের মূর্তি স্থাপন করে ফুল, ফল, ধূপ, প্রদীপ এবং বিশেষত মোদক ও দূর্বা ঘাস নিবেদন করা হয়। 'ওঁ গন গণপতয়ে নমঃ' মন্ত্র জপ করা শুভ বলে মনে করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে শিব ও পার্বতীরও পূজা করা হয়।
- চন্দ্র দর্শন ও অর্ঘ্য: সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা গেলে চন্দ্রদেবকে অর্ঘ্য নিবেদন করা হয়। এটি ব্রত পালনের একটি আবশ্যিক অংশ।
- ব্রত ভঙ্গ: চন্দ্র দর্শন ও অর্ঘ্য নিবেদনের পর ভক্তরা ফল, সাবুদানার খিচুড়ি, আলু ও চিনাবাদাম সহযোগে সাত্ত্বিক আহার গ্রহণ করে উপবাস ভঙ্গ করেন।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সংকষ্টী চতুর্থী
ভারত জুড়ে, বিশেষত পশ্চিম ও দক্ষিণ ভারতে, সংকষ্টী চতুর্থী অত্যন্ত ভক্তি ও উৎসাহের সাথে পালিত হয়। মহারাষ্ট্র ও তামিলনাড়ুতে এর বিশেষ প্রচলন দেখা যায়। তামিল হিন্দুরা এই উৎসবকে 'গণেশ সংকটা হারা' বা 'সংকটা হারা চতুর্থী' নামে জানেন। উত্তর ভারতে মাঘ মাসের সংকষ্টী চতুর্থী 'সঙ্কট চৌথ' নামে পরিচিত। যদিও আজকের আঙ্গারকি চতুর্থী বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, তবে পূজার মূল রীতিনীতি প্রায় একই থাকে।
আঙ্গারকি সংকষ্টী চতুর্থী শুধুমাত্র একটি উপবাস দিবস নয়, এটি ভক্তি, বিশ্বাস এবং আত্মশুদ্ধির প্রতীক। গণেশের আশীর্বাদ লাভের এই পবিত্র দিনে সকল ভক্তের জীবন মঙ্গলময় হয়ে উঠুক, এটাই প্রার্থনা।