আজ গণেশ চতুর্থী, জানুন সিদ্ধিদাতার আরাধনার সম্পূর্ণ গাইড, পূজা বিধি ও শুভ মুহূর্ত

গণেশ চতুর্থী ২০২৬ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পালিত হবে। এই বিশদ গাইডে ভগবান গণেশের জন্মোৎসবের তাৎপর্য, শুভ পূজা মুহূর্ত, গুরুত্বপূর্ণ আচার-অনুষ্ঠান, মোদক নিবেদন এবং আঞ্চলিক উদযাপন সম্পর্কে জানুন। সিদ্ধিদাতা গণেশের কৃপায় জীবনে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি আনুন।.

Ganesha Idols (Photo Credit: X)

Ganesh Chaturthi 2026: গণেশ চতুর্থী, যা বিনায়ক চতুর্থী বা গণেশোৎসব নামেও পরিচিত, হিন্দুদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসবগুলির মধ্যে একটি। এই ১০ দিনব্যাপী উৎসবটি জ্ঞান, সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্যের দেবতা ভগবান গণেশের জন্মদিন উদযাপন করে। ২০২৬ সালে, ১৪ সেপ্টেম্বর, সোমবার থেকে শুরু হয়ে ২৫ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার অনন্ত চতুর্দশীর দিন এই উৎসবের সমাপ্তি হবে।

ভগবান গণেশকে বিঘ্নহর্তা বা বাধা দূরকারী এবং সিদ্ধিদাতা বা সাফল্য প্রদানকারী হিসেবে পূজা করা হয়। যেকোনো শুভ কাজ শুরুর আগে তাঁর পূজা করলে কাজে সাফল্য আসে বলে বিশ্বাস করা হয়।

২০২৬ সালের গণেশ চতুর্থীর শুভ মুহূর্ত ও তারিখ

গণেশ চতুর্থী তিথি সাধারণত ভাদ্রপদ মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্থী তিথিতে পালিত হয়। এই বছর ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখে গণেশ চতুর্থী উদযাপিত হবে। উৎসবের মূল অংশ অর্থাৎ গণপতি স্থাপন ও প্রধান পূজা এই দিনেই করা হবে।

তিথি শুরু ও শেষ:

  • চতুর্থী তিথি শুরু: ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সকাল ৭:০৬ মিনিট
  • চতুর্থী তিথি শেষ: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সকাল ৭:৪৪ মিনিট

মধ্যাহ্ন গণেশ পূজা মুহূর্ত (ভারতীয় প্রমাণ সময়, IST):

ভগবান গণেশের জন্ম মধ্যাহ্নকালে হয়েছিল বলে বিশ্বাস করা হয়, তাই এই সময়টি পূজার জন্য অত্যন্ত শুভ।

শহর পূজার সময় (IST)
কলকাতা সকাল ১০:১৮ থেকে দুপুর ১২:৪৬
মুম্বাই সকাল ১১:২০ থেকে দুপুর ১:৪৮
নতুন দিল্লি সকাল ১১:০২ থেকে দুপুর ১:৩১
পুনে সকাল ১১:১৬ থেকে দুপুর ১:৪৪
চেন্নাই সকাল ১০:৫১ থেকে দুপুর ১:১৮
হায়দ্রাবাদ সকাল ১০:৫৮ থেকে দুপুর ১:২৫
জয়পুর সকাল ১১:০৮ থেকে দুপুর ১:৩৬
বেঙ্গালুরু সকাল ১১:০২ থেকে দুপুর ১:২৮
আহমেদাবাদ সকাল ১১:২১ থেকে দুপুর ১:৪৯

গণেশ চতুর্থীর তাৎপর্য

গণেশ চতুর্থী হলো ভগবান শিব ও দেবী পার্বতীর পুত্র গণেশের মর্ত্যে আগমনকে স্মরণ করার উৎসব। হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, গণেশকে নতুন শুরু, জ্ঞান, সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে মানা হয়। এই উৎসবটি জন্ম, জীবন ও মৃত্যুর চক্রকেও তুলে ধরে, যা বিসর্জন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়।

প্রধান আচার-অনুষ্ঠান ও প্রথা

গণেশ চতুর্থী ১০ দিন ধরে নানা আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালিত হয়:

  • গণপতি স্থাপন (প্রাণ প্রতিষ্ঠা): উৎসবের শুরুতে ভক্তরা বাড়িতে বা সর্বজনীন মণ্ডপে গণেশের প্রতিমা স্থাপন করেন। মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে প্রতিমার মধ্যে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
  • পূজা ও আরতি: প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় গণেশের পূজা ও আরতি করা হয়। এই সময় বৈদিক স্তোত্র ও মন্ত্র জপ করা হয়, যেমন "ওঁ গং গণপতয়ে নমঃ"।
  • নৈবেদ্য: গণেশের প্রিয় খাবার মোদক, লাড্ডু, দুর্বা ঘাস, লাল জবা ফুল, ফল, নারকেল ও সিঁদুর নিবেদন করা হয়।
  • চন্দ্র দর্শন এড়ানো: গণেশ চতুর্থীর দিনে চাঁদ দেখা এড়িয়ে চলার প্রথা রয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, এই দিনে চাঁদ দেখলে 'মিথ্যা দোষ' বা মিথ্যা অপবাদের শিকার হতে হয়।
  • গণেশ বিসর্জন: উৎসবের দশম দিনে, অর্থাৎ ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখে অনন্ত চতুর্দশীর দিনে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। শোভাযাত্রা ও বাদ্যযন্ত্র সহকারে ভক্তরা গণেশের প্রতিমা নদী বা সমুদ্রে বিসর্জন দেন, যা তাঁর কৈলাস পর্বতে প্রত্যাবর্তনকে প্রতীকী করে। অনেক পরিবার ১.৫, ৩, ৫ বা ৭ দিনের মাথায়ও বিসর্জন দিতে পারেন।

আঞ্চলিক বৈচিত্র্য ও আধুনিক উদযাপন

গণেশ চতুর্থী ভারতজুড়ে পালিত হলেও মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, গোয়া, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানায় এটি বিশেষভাবে জনপ্রিয়। মুম্বাইয়ের লালবাগচা রাজা বা পুনের মণ্ডপগুলি তাদের বিশাল প্রতিমা ও জমকালো আয়োজনের জন্য বিখ্যাত। ১৮৯৩ সালে লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলক এই উৎসবকে পারিবারিক পরিসর থেকে সর্বজনীন উৎসবে রূপান্তরিত করেন, যা ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে সাহায্য করেছিল।

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে পরিবেশ-বান্ধব প্রতিমা ব্যবহার ও বিসর্জন প্রক্রিয়ায় পরিবেশ সচেতনতার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এটি উৎসবের আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ বজায় রেখে প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধাবোধকেও তুলে ধরে। এই উৎসবে মানুষজন একত্রিত হয়ে ভক্তি ও আনন্দের সাথে সিদ্ধিদাতার আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন।

গণেশ চতুর্থী কেবলমাত্র একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি সংস্কৃতি, সম্প্রদায় ও ঐক্যের এক বর্ণিল উদযাপন। সিদ্ধিদাতা গণেশের আশীর্বাদে সকলের জীবন সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধিতে ভরে উঠুক।

Share Now
Advertisement


Advertisement
Advertisement
Share Now
Advertisement