Kajari Teej 2026: স্বামীর মঙ্গল কামনায় পালিত হচ্ছে ভাদ্র মাসের এই বিশেষ উৎসব, জানুন তারিখ, শুভ মুহুর্ত ও রীতিনীতি

কাজরি তীজ ২০২৬ সালের ৩১শে আগস্ট, সোমবার উদযাপিত হবে। এই হিন্দু উৎসবটি বিবাহিত মহিলারা স্বামীর দীর্ঘায়ু ও দাম্পত্য সুখের জন্য নির্জলা উপবাসের মাধ্যমে পালন করেন, এবং অবিবাহিত নারীরা সুপাত্রের কামনায় ব্রত রাখেন। নিবন্ধে উৎসবের তারিখ, শুভ মুহুর্ত, নিম মাতা ও শিব-পার্বতী পূজা বিধি, ব্রত কথা শ্রবণ এবং চন্দ্র দর্শনের পর উপবাস ভঙ্গের রীতিনীতি সম্পর্কে বিস্তারিত.

Kajari Teej 2026.

Kajari Teej 2026: প্রতি বছর ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের তৃতীয়া তিথিতে উত্তর ভারতে পালিত হয় কাজরি তীজ। বিবাহিত মহিলারা তাঁদের স্বামীর দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধি কামনায় এই নির্জলা ব্রত পালন করেন। অবিবাহিত মেয়েরা ভালো জীবনসঙ্গী পাওয়ার আশায় এই দিনে উপবাস রাখেন। এই বছর কাজরি তীজ উৎসবটি ৩১শে আগস্ট, ২০২৬, সোমবার উদযাপিত হবে।

এই উৎসব নারী হৃদয়ের বিশ্বাস, ভক্তি এবং ঐতিহ্যের এক অপূর্ব মিশেল। লোককথায় একে 'বড়ি তীজ' বা 'সাতুড়ি তীজ' নামেও অভিহিত করা হয়। এটি হরিয়ালি তীজের প্রায় পনেরো দিন পর এবং হরতালিকা তীজের আগে আসে।

কাজরি তীজ ২০২৬: তারিখ ও শুভ মুহুর্ত

হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে, কাজরি তীজ ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের তৃতীয়া তিথিতে উদযাপিত হয়। এই বছর তৃতীয়া তিথি শুরু হচ্ছে ৩০শে আগস্ট, ২০২৬, সকাল ৯:৩৬ মিনিটে এবং শেষ হচ্ছে ৩১শে আগস্ট, ২০২৬, সকাল ৮:৫০ মিনিটে।

উদয়া তিথি নিয়ম অনুযায়ী, যেহেতু ৩১শে আগস্ট সূর্যোদয়কালে তৃতীয়া তিথি বিদ্যমান থাকবে, তাই এই দিনেই কাজরি তীজ ব্রত পালন করা হবে। চন্দ্রোদয়ের পর চাঁদকে অর্ঘ্য নিবেদন করে উপবাস ভঙ্গ করার প্রথা রয়েছে। ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ তারিখে চন্দ্রোদয়ের আনুমানিক সময় রাত ৮:৩৬ মিনিট। তবে, স্থানীয় পঞ্চাঙ্গ অনুসারে এই সময় কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে।

বিবরণ তারিখ ও সময় (IST)
কাজরি তীজ পালন ৩১শে আগস্ট, ২০২৬, সোমবার
তৃতীয়া তিথি শুরু ৩০শে আগস্ট, ২০২৬, সকাল ৯:৩৬ মিনিট
তৃতীয়া তিথি শেষ ৩১শে আগস্ট, ২০২৬, সকাল ৮:৫০ মিনিট
চন্দ্রোদয় (আনুমানিক) ৩১শে আগস্ট, ২০২৬, রাত ৮:৩৬ মিনিট

কাজরি তীজের তাৎপর্য ও প্রচলিত রীতিনীতি

কাজরি তীজ প্রধানত মা পার্বতী ও ভগবান শিবের প্রতি উৎসর্গীকৃত। বিশ্বাস করা হয়, এই ব্রত পালনে দাম্পত্য জীবনে সুখ ও সমৃদ্ধি আসে এবং পরিবারে মঙ্গল হয়। এই দিনে মহিলারা কঠোর নির্জলা উপবাস পালন করেন, অর্থাৎ সারাদিন জল বা খাদ্য গ্রহণ করেন না।

পূজা বিধির অংশ হিসেবে মহিলারা সূর্যোদয়ের আগে স্নান সেরে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন বস্ত্র পরিধান করেন। এরপর নিম মাতা (নিম গাছ), ভগবান শিব এবং মা পার্বতীর আরাধনা করা হয়। নিম পাতায় চন্দন, রোলি, অক্ষত, ফুল, মেহেন্দি, সিঁদুর ও অন্যান্য শৃঙ্গারের সামগ্রী নিবেদন করা হয়। অনেকে হাতে মেহেন্দি পরেন, চুড়ি পরেন এবং ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধান করে ষোল শৃঙ্গার করেন, যা সৌভাগ্যের প্রতীক। পূজার সময় কাজরি তীজ ব্রত কথা পাঠ বা শ্রবণ করা হয়।

সন্ধ্যায় মহিলারা চাঁদের পূজা করেন এবং চন্দ্রোদয় হলে চাঁদকে অর্ঘ্য নিবেদন করে উপবাস ভঙ্গ করেন। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ছাতু (ভাজা ছোলার গুঁড়ো) দিয়ে উপবাস ভঙ্গ করার প্রথা রয়েছে, তাই এর আরেক নাম 'সাতুড়ি তীজ'।

আঞ্চলিক বৈচিত্র্য ও বর্তমান উদযাপন

কাজরি তীজ মূলত রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ এবং বিহার-সহ উত্তর ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে অত্যন্ত উৎসাহ ও উদ্দীপনার সাথে পালিত হয়। এই উৎসবে ঐতিহ্যবাহী কাজরি গান গাওয়া হয়, যা বর্ষাকালের এক বিশেষ সুর বহন করে। কিছু অঞ্চলে সাজানো দোলনায় মহিলারা কাজরি গান গাইতে গাইতে আনন্দ করেন।

বর্তমানেও এই উৎসব পারিবারিক বন্ধন এবং ঐতিহ্যকে দৃঢ় করার এক বিশেষ সুযোগ এনে দেয়। আধুনিক জীবনে কর্মব্যস্ততা থাকলেও, মহিলারা নিষ্ঠা সহকারে এই ব্রত পালন করেন, যা তাঁদের সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাকে প্রতিফলিত করে।

Share Now
Advertisement


Advertisement
Advertisement
Share Now
Advertisement