শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমী ২০২৬: ব্রতের খাবার, কী করা নিষেধ ও পূজার সময়সূচি
ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি উপলক্ষে পালিত হতে যাচ্ছে পবিত্র জন্মাষ্টমী। ভক্তরা সারাদিন উপবাস থেকে বাল গোপালের পূজা ও আরাধনায় মগ্ন থাকেন। ২০২৬ সালের জন্মাষ্টমী ব্রত পালনের নিয়ম, কী খাবেন, কী এড়িয়ে চলবেন এবং উপবাস ভঙ্গের সঠিক সময় জেনে নিন।
2026 Vrat Guide: ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি উপলক্ষে পালিত হতে যাচ্ছে পবিত্র জন্মাষ্টমী। ভক্তরা সারাদিন উপবাস থেকে বাল গোপালের পূজা ও আরাধনায় মগ্ন থাকেন। ২০২৬ সালের জন্মাষ্টমী ব্রত পালনের নিয়ম, কী খাবেন, কী এড়িয়ে চলবেন এবং উপবাস ভঙ্গের সঠিক সময় জেনে নিন।
কবে শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমী ২০২৬?
এই বছর জন্মাষ্টমী পালিত হবে শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬। পঞ্জিকা অনুযায়ী অষ্টমী তিথি এবং রোহিণী নক্ষত্রের শুভ যোগে এই দিনটি নির্ধারিত হয়েছে।
অষ্টমী তিথি: ৪ সেপ্টেম্বর রাত ২:২৫ মিনিটে শুরু হয়ে শেষ হবে ৫ সেপ্টেম্বর রাত ১২:১৩ মিনিটে।
রোহিণী নক্ষত্র:৪ সেপ্টেম্বর রাত ১২:২৯ মিনিটে শুরু হয়ে শেষ হবে ৪ সেপ্টেম্বর রাত ১১:০৪ মিনিটে।
নিশীথ পূজা মুহূর্ত (কলকাতা): ৪ সেপ্টেম্বর রাত ১১:১৩ মিনিট থেকে রাত ১১:৫৯ মিনিট পর্যন্ত।
নিশীথ পূজা মুহূর্ত (নয়াদিল্লি): ৪ সেপ্টেম্বর রাত ১১:৫৭ মিনিট থেকে ৫ সেপ্টেম্বর রাত ১২:৪৩ মিনিট পর্যন্ত।
নিশীথ পূজা মুহূর্ত (মুম্বই): ৫ সেপ্টেম্বর রাত ১২:১৪ মিনিট থেকে ৫ সেপ্টেম্বর রাত ১:০১ মিনিট পর্যন্ত।
কলকাতার জন্য ২০২৬ সালের শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমীর নিশীথ পূজার সময়সূচি:
নিশীথ পূজা মুহূর্ত: ৪ সেপ্টেম্বর রাত ১১:১৩ মিনিট থেকে রাত ১১:৫৯ মিনিট পর্যন্ত। (এই ৪৬ মিনিটের শুভ সময়ের মধ্যে প্রধান জন্মোৎসব ও পূজা অনুষ্ঠিত হবে)। মধ্যরাতের মুহূর্ত (কৃষ্ণ জন্মক্ষণ): রাত ১১:৩৬ মিনিট। পারণের সময় (সূর্যোদয়ের পর): ৫ সেপ্টেম্বর ভোর ৫:২০ মিনিটের পর।
উপবাসে কী খাবেন?
ফল ও ড্রাই ফ্রুটস: কলা, আপেল, আঙুর, বেদানা, জাম এবং কাঠবাদাম ও আখরোট।
দুগ্ধজাত দ্রব্য: দুধ, দই, ছানা, পনির, বাটারমিল্ক এবং ঘি।
ব্রতের খাবার: বিশেষ আটা ও চাল আটা, সিঙাড়ার আটা, রাজগিরা আটা এবং সামাক চাল।
কন্দজাতীয় খাদ্য:আলু ও মিষ্টি আলু।
অন্যান্য: সাবুদানা, মাখানা, নারকেল এবং রান্নায় সাধারণ লবণের বদলে সৈন্ধব লবণ।
পানীয়: সারাদিন শরীর আর্দ্র রাখতে পর্যাপ্ত জল, ফলের রস ও ডাবের জল পান করতে পারেন।
কী খাবেন না?
শস্য ও ডাল: চাল, গম, মসুর ডাল সহ সব ধরণের শস্য ও ডাল একেবারেই নিষিদ্ধ।
আমীষ খাবার: মাছ, মাংস ও ডিম কঠোরভাবে বর্জনীয়।
পেঁয়াজ ও রসুন: উপবাসের খাবারে পেঁয়াজ ও রসুনের ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ।
অন্যান্য: সাধারণ নুন, হিং এবং হলুদ অনেক প্রথায় এড়িয়ে চলা হয়।
উপবাস ভঙ্গের নিয়ম
মধ্যরাতের পূজার পর: অধিকাংশ ভক্ত রাত ১২:৪৩ মিনিটে (স্থানভেদে রাত ১:০১ মিনিট) নিশীথ পূজা শেষ হওয়ার পর মাখন-মিছরি বা পঞ্চামৃত গ্রহণ করে উপবাস ভঙ্গ করেন।
সূর্যোদয়ের পর (শাস্ত্রীয় নিয়ম):ধর্মসিন্ধু অনুযায়ী, পরের দিন অর্থাৎ ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার সকালে সূর্যোদয়ের পর পারণ করা অতি শুভ। নয়াদিল্লিতে ভোর ৬:০১ মিনিট এবং মুম্বইতে ভোর ৬:২৪ মিনিটের পর উপবাস ভঙ্গ করা যেতে পারে।
(শিশু, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, গর্ভবতী মহিলা এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের শারীরিক সামর্থ্য অনুযায়ী নিয়ম শিথিল রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।)