Mahalaya 2026 Date: মহালয়া এবার কত তারিখে পড়েছে? দেবীপক্ষের সূচনা ও গুরুত্ব: রইল সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
গনেশ পুজো এবং বিশ্বকর্মা পুজোর আমেজ কাটতে না কাটতেই বাঙালির মনে সুর বেজে ওঠে আগমনীর। বর্ষার আকাশ মেঘমুক্ত হয়ে যখন পেঁজা তুলোর মতো মেঘ আকাশে ভাসতে শুরু করে, আর শিউলি ফুলের গন্ধে বাতাস ভরপুর হয়ে ওঠে, তখনই বুঝে নেওয়া যায় মা দুর্গার আগমন আর বেশি দূরে নয়।
Mahalaya 2026 Date: গনেশ পুজো এবং বিশ্বকর্মা পুজোর আমেজ কাটতে না কাটতেই বাঙালির মনে সুর বেজে ওঠে আগমনীর। বর্ষার আকাশ মেঘমুক্ত হয়ে যখন পেঁজা তুলোর মতো মেঘ আকাশে ভাসতে শুরু করে, আর শিউলি ফুলের গন্ধে বাতাস ভরপুর হয়ে ওঠে, তখনই বুঝে নেওয়া যায় মা দুর্গার আগমন আর বেশি দূরে নয়। পিতৃপক্ষের অবসান ঘটিয়ে দেবীপক্ষের সূচনাই হলো ‘মহালয়া’। কিন্তু আপনারা কি জানেন, ২০২৬ সালে ঠিক কোন তারিখে মহালয়া পড়েছে?
২০২৬ সালের মহালয়া কবে
পঞ্জিকা ও তারিখ গণনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে মহালয়া পালিত হবে ১০ অক্টোবর, শনিবার(বাংলা ২৩ আশ্বিন, ১৪৩৩)। এই দিনেই কৃষ্ণপক্ষের অমাবস্যা তিথিতে তর্পণ শেষ হবে এবং সূচিত হবে মহালয়ার শুভ আগমন। প্রতিবছরই মহালয়ার এই দিনটির জন্য সাগ্রহে অপেক্ষা করেন কোটি কোটি বাঙালি। ২০২৬ সালেও এর ব্যতিক্রম নয়। ১০ অক্টোবর ভোরে দেবীপক্ষের আহ্বানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে যাবে উমা আরাধনার কাউন্টডাউন।
মহালয়া কেন পালিত হয়
'মহালয়া' শব্দটির অর্থ হলো ‘মহৎ আলয়’ বা ঈশ্বরের স্থান। পৌরাণিক ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, মহালয়ার অমাবস্যা তিথিতে মর্ত্যে আসেন আমাদের পিতৃপুরুষরা। তাই এই বিশেষ দিনে নদী বা জলাশয়ের ঘাটে তর্পণ করা হয়, তিল ও জল নিবেদন করে পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনা করা হয়।
অন্যদিকে, শাস্ত্রীয় মতে মহালয়া হলো অসুর বিনাশের জন্য মহাশক্তি সৃষ্টির দিন। মহিষাসুরের অত্যাচারে যখন দেবতারা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন, তখন ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের তেজ থেকে জন্ম নেন দেবী দুর্গা। দেবতাদের প্রদান করা বিভিন্ন অস্ত্র ও শক্তিতে ভূষিত হয়ে দেবী মহিষাসুরমর্দিনী রূপ ধারণ করেন। তাই মহালয়া মানেই অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভ শক্তির বিজয়ের সূচনা।
মহালয়ার দিন সকালে কী হয়? রেডিও ও টিভিতে বিশেষ আয়োজন
বাঙালির কাছে মহালয়ার ভোর মানেই এক অপরিবর্তনীয় অনুভূতি ও নস্টালজিয়া।
ভোর ৪টের রেডিও ও ‘মহিষাসুরমর্দিনী’:
ভোর চারটে বাজলেই ঘরে ঘরে বেজে ওঠে আকাশবাণীর বিখ্যাত ‘মহিষাসুরমর্দিনী’। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের চণ্ডীপাঠ, পঙ্কজ কুমার মল্লিকের সুরারোপিত এই অমর সৃষ্টি ছাড়া বাঙালির মহালয়া একেবারে অসম্পূর্ণ। রেডিওর সেই সুমধুর সুর ও মন্ত্রোচ্চারণ প্রতিটি বাঙালিকে এক অলৌকিক আবেগে ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
গঙ্গাতীরে তর্পণ:
ভোর থেকেই গঙ্গার ঘাট বা স্থানীয় জলাশয়গুলিতে ভিড় জমান হাজার হাজার মানুষ। ধুতি পরে পূর্বপুরুষদের স্মরণে জল ও তিল অর্পণ (তর্পণ) করার দৃশ্য সব জায়গাতেই দেখা যায়।
টিভির বিশেষ অনুষ্ঠান:
সকাল হতেই প্রতিটি বাংলা স্যাটেলাইট চ্যানেলে শুরু হয়ে যায় মহালয়া কেন্দ্রিক বিশেষ নৃত্যানাঠ্য ও পৌরাণিক ধরাবাহিক। ছোট থেকে বড়,সবাই টিভির পর্দার সামনে বসে দেবী দুর্গার অসুর বধের গল্প ও বিভিন্ন রূপের আখ্যান উপভোগ করেন।
দেবীর চক্ষুদান করা হয়
এছাড়াও মহালয়ার এই শুভ দিনেই প্রতিমা শিল্পীরা প্রতিমার চোখে রঙ দিয়ে 'চক্ষুদান' করেন, যার পর থেকে মণ্ডপে মণ্ডপে পুজো মণ্ডপ তৈরির প্রস্তুতি চূড়ান্ত রূপ নেয়। গণেশ পুজো ও বিশ্বকর্মা পুজো শেষ মানেই পুজোর ঢ্যাকের বাদ্যি বাজতে শুরু করা। তাই ক্যালেন্ডারে ১০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখটি দাগ দিয়ে রাখুন এবং প্রস্তুত হয়ে যান দেবীপক্ষকে স্বাগত জানাতে!