Gazi Nazrul Islam Viral Video Row: এক মহিলার সঙ্গে বিতর্কিত দৃশ্য ও সিসিটিভি ফুটেজ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম (জিএম নজরুল ইসলাম)। এই ঘটনার জেরে নৈতিক স্খলনের অভিযোগে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সম্প্রতি একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ এবং গোপন ভিডিও অনলাইনে ভাইরাল হওয়ার পর দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ইন্টারনেট দুনিয়ায় "গাজী নজরুল ইসলাম ভাইরাল ভিডিও" বা "সাতক্ষীরা ৪ সাবেক এমপি ভাইরাল ভিডিও" লিখে অনুসন্ধানের ঝড় উঠেছে।
ফাঁস হওয়া ভিডিওতে যা দেখা গেছে
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সাম্প্রতিক সিসিটিভি ফুটেজে সাবেক এই সংসদ সদস্যকে এক নারীর সাথে একটি বাণিজ্যিক হোটেল ভবনে প্রবেশ করতে দেখা যায়। অন্য একটি লবি সিকিউরিটি ফুটেজে তাকে ওই নারীর সাথে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখা গেছে। ভিডিওগুলো দ্রুত নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে তোলপাড় শুরু হয়।
দেখুন ভিডিও
সামনে এলো গাজী নজরুলের আরেক ভিডিও, নারীসহ আবাসিক হোটেলে
এরা ইসলামি শাসন চাই? pic.twitter.com/T9g2ssGkdy
— Taher mia (@mia_taher60782) July 23, 2026
‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ দাবি ও তথ্যের অসঙ্গতি
প্রথম ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর গাজী নজরুল ইসলাম একটি ভিডিও বার্তা দিয়ে বিষয়টির ব্যাখ্যা দেন। তার দাবি, ভিডিওতে থাকা নারী মরিয়ম বেগম তার দ্বিতীয় স্ত্রী এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতেই ২০২৬ সালের ১৭ জুন তাদের বিয়ে হয়। তিনি অভিযোগ করেন, তার রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত সহযোগীরা অনৈতিকভাবে ভিডিওটি সংগ্রহ করে তার কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করে এবং ব্যর্থ হয়ে ফাঁস করে দেয়। তার পরিবারের সদস্যরাও তাকে সমর্থন করে বক্তব্য দেন।
তবে স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী তার এই দাবিতে একাধিক প্রশাসনিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। জানা গেছে, কথিত বিয়ের তারিখের (১৭ জুন) পাঁচ দিন পর, অর্থাৎ ২২ জুন ওই নারীর একটি চাকরির আবেদনপত্রে সুপারিশ করেন নজরুল ইসলাম। কিন্তু সেই আবেদনপত্রে নারীর বৈবাহিক অবস্থা তখনও 'অবিবাহিত' হিসেবে উল্লেখ করা ছিল, যা এই দাবির সত্যতা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন তোলে।
দলীয় সিদ্ধান্ত ও বহিষ্কার
সিসিটিভি ফুটেজ ফাঁস ও বিতর্কের মুখে দ্রুত ব্যবস্থা নেয় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। গত ২১ জুলাই দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আহসানুল মাহবুব জুবায়ের বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনার কথা জানান। এর পরদিনই (২২ জুলাই) জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়। দলটির দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় গঠনতন্ত্রের ৬২ ধারা (নৈতিক আচরণবিধি ও শৃঙ্খলা লঙ্ঘন) অনুযায়ী গাজী নজরুল ইসলামকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এদিকে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরার স্থানীয় সামাজিক ও নাগরিক সংগঠনগুলো বিক্ষোভ সভা করেছে এবং পুরো বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে।