বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ভারতে তৈরি হল প্রথম এলএইচবি কোচের রেক, শুরু আজ থেকে
ভারত ও বাংলাদেশের বন্ধুত্বের সম্পর্ক এবং রেল সংযোগকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ করল ভারতের রেল কোচ ফ্যাক্টরি (আরসিএফ)। পঞ্জাবের কাপুড়থলায় অবস্থিত এই রেল কারখানা বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য তৈরি তাদের প্রথম লিঙ্ক অফম্যান বুশ (এলএইচবি) কোচের একটি সম্পূর্ণ রেক প্রস্তুত করেছে।
ভারত ও বাংলাদেশের বন্ধুত্বের সম্পর্ক এবং রেল সংযোগকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ করল ভারতের রেল কোচ ফ্যাক্টরি (আরসিএফ)। পঞ্জাবের কাপুড়থলায় অবস্থিত এই রেল কারখানা বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য তৈরি তাদের প্রথম লিঙ্ক অফম্যান বুশ (এলএইচবি) কোচের একটি সম্পূর্ণ রেক প্রস্তুত করেছে। ১১ আগস্ট প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে কাপুড়থলা কারখানা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ট্রেন রেকটি রোল আউট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রেকের গঠন ও আধুনিক যাত্রী সুবিধা
বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য বিশেষ ভাবে ডিজাইন করা এই নতুন রেকে থাকছে মোট ১৯টি ব্রডগেজ প্যাসেঞ্জার কোচ। আধুনিক ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণের কথা মাথায় রেখে তৈরি এই রেকে থাকছে:
৩টি এসি স্লিপার কার
৩টি এসি চেয়ার কার
১১টি নন-এসি চেয়ার কার
২টি পাওয়ার কার
বিশেষ কী থাকছে
বাংলাদেশ রেলওয়ের নিজস্ব পরিচালনা পদ্ধতি এবং যাত্রীদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে এই কোচগুলিতে বেশ কিছু নজিরবিহীন পরিবর্তন আনা হয়েছে। যাত্রীদের আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য কোচগুলিতে বিশেষ রিক্লাইনিং সিটের ব্যবস্থা রয়েছে, যাতে স্টেইনলেস স্টিলের আর্মরেস্ট এবং অ্যাডজাস্টেবল ফুটরেস্ট যুক্ত করা হয়েছে। তা ছাড়া এসি কামরাগুলিতে পাখা রাখা হয়েছে। যাত্রীদের সুরক্ষায় রয়েছে সমন্বিত সিসিটিভি সার্ভেলেন্স সিস্টেম ও বিশেষ প্যাসেঞ্জার অ্যালার্ম ব্যবস্থা। এ ছাড়া ট্রেনে রাখা হয়েছে বেবি কেয়ার রুম, বিশেষ প্রার্থনা কক্ষ এবং আংশিক খোলা যায় এমন জানালার বন্দোবস্ত। বাংলাদেশের ঈদের মতো বিশেষ উৎসবে যাত্রীদের ছাদ চাপার প্রবণতা মাথায় রেখে কোচের ছাদের কাঠামোকে বাড়তি ওজন সহ্য করার মতো শক্তপোক্ত করে পুনর্নিমাণ করা হয়েছে।
ইউরোপীয় প্রযুক্তির নিরাপত্তা ও বৈদ্যুতিক পরিবর্তন
নিরাপত্তার স্বার্থে ইউরোপীয় স্ট্যান্ডার্ড (EN 15227) মেনে সম্পূর্ণ ক্র্যাশওয়ার্থি (ধাক্কা সহ্য করতে সক্ষম) প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়েছে কোচের বডি শেল। এর ফলে ট্রেন দুর্ঘটনা বা মুখোমুখি ধাক্কার সময়েও যাত্রীদের সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে। ভারতীয় রেলওয়ে সাধারণত ৭৫০ ভোল্টের ইলেকট্রিক্যাল সিস্টেম ব্যবহার করলেও, বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রযুক্তিগত বাধ্যবাধকতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই কোচগুলিতে ৪১৫ ভোল্টের বিশেষ ইলেকট্রিক্যাল সিস্টেম সেটআপ ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে।
ভারত-বাংলাদেশ রেল সহযোগিতা ও প্রেক্ষাপট
কাপুড়থলা রেল কোচ ফ্যাক্টরির সঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের এই মেলবন্ধন বেশ কয়েক বছরের পুরোনো। এর আগে ২০১৫-১৬ অর্থবর্ষে আরসিএফ সফল ভাবে ১২০টি এলএইচবি ব্রডগেজ প্যাসেঞ্জার কোচ পাঠায় বাংলাদেশে। সেই সফল সরবরাহের পর, ২০২৪ সালে ‘রাইটস’ (RITES)-এর মাধ্যমে বাংলাদেশ রেলওয়ে আরও ২০০টি আধুনিক ব্রডগেজ কোচের অর্ডার দেয়। সাতটি বিভিন্ন ডিজাইনের সেই বিশাল অর্ডারের অংশ হিসেবেই ১২ আগস্ট এই প্রথম ১৯টি কোচের আধুনিক রেকটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হচ্ছে। এটি দুই দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও যাত্রী পরিষেবায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
(The above story first appeared on LatestLY on Jan 01, 1970 05:30 AM IST. For more news and updates on politics, world, sports, entertainment and lifestyle, log on to our website latestly.com).

