Sara Tendulkar:ক্রিকেটের ঈশ্বর সচিন তেন্ডুলকরের-কন্যার ট্যাগ তো রয়েছেই, তার পাশাপাশি নিজের স্বতন্ত্র পরিচয়েও তিনি বেশ জনপ্রিয়। তবে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বরাবরই কিছুটা আড়ালে থাকতেই পছন্দ করেন সারা তেন্ডুলকর। সম্প্রতি 'ভোগ ইন্ডিয়া'কে দেওয়া এক খোলামেলা সাক্ষাৎকারে নিজের শৈশব, তারকা বাবা সচিন তেন্ডুলকরের ছায়ায় বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা এবং তাঁর ভবিষ্যতের জীবনসঙ্গী কেমন হওয়া উচিত, তা নিয়ে মুখ খুলেছেন ২৮ বছর বয়সী সারা। পাশাপাশি ভাই অর্জুন তেন্ডুলকরের সাম্প্রতিক বিয়ে এবং বাবা-মায়ের সুন্দর সম্পর্কের রসায়ন নিয়েও নিজের মতামত ব্যক্ত করেছেন তিনি।
বান্দ্রার তেন্ডুলকর বাসভবনে বসে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে সারা জানান, ছোটবেলায় বাবার তারকা দ্যুতি বা জনপ্রিয়তা সম্পর্কে খুব একটা ধারণা ছিল না তাঁর। হাসতে হাসতে শৈশবের এক মজার স্মৃতি ভাগ করে নিয়ে তিনি বলেন, "আমি তখন বেশ ছোট। ক্লাসে যখন সবাই সচিনের সেঞ্চুরি নিয়ে কথা বলত, আমি সহপাঠীদের সাধারণ ভঙ্গিতে বলতাম, আমার বাবার নামও কিন্তু একই!"
নজরদারি ও ব্যক্তিগত জীবনের সীমানা
সচিন ও অঞ্জলি তেন্ডুলকরের সন্তান হিসেবে খুব অল্প বয়সেই সারা বুঝে গিয়েছিলেন, এই পদবীর গুরুত্ব কতখানি। সবসময় পাপারাজ্জিদের ক্যামেরার নজরদারিতে থাকা সত্ত্বেও এতকাল নিজের ব্যক্তিগত জীবন গোপন রাখতে পেরেছেন তিনি। কিন্তু সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর একটি এয়ারপোর্ট ভিডিও ঘিরে যেভাবে বডি-শেইমিং করা হয়েছে, তা নিয়ে বেশ সোচ্চার সারা। তিনি বলেন, “সাংবাদিকতা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত খবর তৈরির মধ্যে একটি সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে। ওই ঘটনার পর আমি সিদ্ধান্ত নিই যে এবার মুখ খোলা প্রয়োজন। যে বিষয়গুলো আগে এড়িয়ে যেতাম, এখন আর তা না করে কড়া জবাব দেওয়ার সময় এসেছে।”
ভাই অর্জুনের বিয়ে ও সারার বিয়ের ভাবনা
গত ৫ মার্চ ২০২৬-এ মুম্বাইতে দীর্ঘদিনের বান্ধবী সানিয়া চান্ধকের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন সারার ছোট ভাই অর্জুন তেন্ডুলকর। পাঞ্জাবি ও মারাঠি রীতি মেনে আয়োজিত এই বিয়ের সম্পূর্ণ দায়িত্ব ছিল সারা ও সানিয়ার কাঁধে। বিয়ে প্রসঙ্গে নিজের ভাবনার পরিবর্তনের কথাও স্বীকার করেছেন ১৯৯৭ সালের ১২ অক্টোবর জন্ম নেওয়া সারা।
বিয়ের অনুষ্ঠান কেমন চান
তিনি জানান, আগে ভাবতেন রূপকথার মতো বড় মাপের অনুষ্ঠান করবেন, কিন্তু এখন তিনি মনে করেন ব্যক্তিগত ও ঘনিষ্ঠ পরিমণ্ডলেই এই ধরনের অনুষ্ঠান হওয়া উচিত। বিয়ের পোশাক নিয়েও তাঁর উত্তর বেশ মজার, “তুলা রাশির জাতিকা হওয়ায় সিদ্ধান্ত নিতে একটু সময় লাগে। আজ হয়তো লাল পোশাক ভাবছি, কাল সবুজও হতে পারে!” বর্তমান প্রজন্মের সম্পর্ক ভাঙা বা গড়ার স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসাও করেন তিনি।
কেমন জীবনসঙ্গী পছন্দ?
জীবনসঙ্গী নির্বাচনে নিজের বাবা-মায়ের দাম্পত্যকেই আদর্শ মনে করেন সারা। সচিন ও অঞ্জলির সম্পর্কের সমীকরণ টেনে তিনি জানান, তাঁদের মূল শক্তি হলো বন্ধুত্ব। “আমার বাবা-মা একে অপরের সবচেয়ে ভালো বন্ধু। ঘরে তাঁদের মধ্যকার রসায়ন ও খুনসুটি দেখতেই বেশ লাগে। আমার ভবিষ্যৎ জীবনসঙ্গীর মধ্যেও এই বন্ধুত্বের বিষয়টি নিশ্চিতভাবেই দেখতে চাইব,” বলেন সারা। সেই সঙ্গে তিনি যোগ করেন, তাঁদের সম্পর্কের মধ্যে কোনো ক্ষমতার লড়াই (Power Dynamic) নেই, যা তাঁর কাছে অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক।
'সোলমেট' ধারণায় বিশ্বাসী সারা
আত্মিক সঙ্গী বা 'সোলেমেট' ধারণায় বিশ্বাস করলেও, বন্ধুদের জীবনের সবচেয়ে বড় সোলেমেট বলে মনে করেন সচিন-কন্যা। পেশাদার জীবনের গণ্ডি পেরিয়ে ফ্যাশন ও নিজের মতো করে বাঁচার মধ্যে এক অন্যরকম আনন্দ খুঁজে পান তিনি। সাক্ষাৎকারে উঠে আসা সারার এই আধুনিক, বাস্তববাদী ও আত্মবিশ্বাসী রূপ নজর কেড়েছে অনুগামীদের।