Lionel Messi Farewell Match: আতসবাজি, চোখের জল আর শেষ একটি গোল, শেষ ম্যাচে মেসি কাঁদলেন, কাঁদালেন

একেবারে আবেগের বিস্ফোরণ। বিস্ফোরণ বললে কম বলা হবে হয়তো। দেশের জার্সিতে শেষ ম্যাচে লিওনেল মেসি শুধু নিজে কাঁদালেন না, কাঁদালেন গোটা বিশ্বের লক্ষ-লক্ষ ভক্তদেরও। একটা দিন হয়ে গেল মেসি দিবস।

Lionel Messi. (Photo Credits:X)

Lionel Messi Farewell Match: একেবারে আবেগের বিস্ফোরণ। বিস্ফোরণ বললে কম বলা হবে হয়তো। দেশের জার্সিতে শেষ ম্যাচে লিওনেল মেসি শুধু নিজে কাঁদালেন না, কাঁদালেন গোটা বিশ্বের লক্ষ-লক্ষ ভক্তদেরও। একটা দিন হয়ে গেল মেসি দিবস। মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে লিওনেল মেসির বিদায়ী রাতটি ছিল আতশবাজি, কান্না এবং আবেগের এক স্মরণীয় মুহূর্ত। ঘরের মাঠে প্রিয় ভক্তদের সামনে নিজের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচে পেনাল্টি থেকে গোল করে বিখ্যাত ১০ নম্বর জার্সিধারীকে চোখের জলে বিদায় জানাল আর্জেন্টিনা।

পুরনো সতীর্থ অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া, যিনি আগের কোপা আমেরিকার পরই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছিলেন, তিনিও এদিন দলের সাথে মাঠে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া গ্যালারিতে হাজির ছিলেন ফরাসি কিংবদন্তি স্ট্রাইকার ডেভিড ট্রেজেগে, যিনি মেয়ের সঙ্গে দাঁড়িয়ে মেসির শেষবার দেশের জার্সিতে নেমে উপভোগ করছিলেন।

দেখুন মেসির গোল

এক স্মরণীয় রাত

ম্যাচ শুরুর আগেই শুরু হয় শ্রদ্ধাজ্ঞাপন। মনুমেন্টালের মাঝে টাঙানো হয় একটি বিশাল ১০ নম্বর জার্সি, যাতে লেখা ছিল একটিমাত্র শব্দ—"গ্রাসিয়াস" (ধন্যবাদ)। পুরো স্টেডিয়াম ঢেকে যায় আর্জেন্টিনার জাতীয় পতাকার রঙে। এরপর মাঠে প্রবেশ করেন মেসি। আতশবাজির ঝলকানির মাঝে তিন ছেলে থিয়াগো, মাতেও এবং চিরোকে নিয়ে জাতীয় সংগীতের জন্য দাঁড়ান তিনি। জাতীয় সংগীত শেষ হতেই কেঁদে ফেলেন মেসি। আবেগ ধরে রাখতে পারেননি কোচ লিওনেল স্কালোনি এবং দীর্ঘদিনের সতীর্থ নিকোলাস ওতামেন্দিও। টসের আগে বেনিনের অধিনায়ক মেসির হাতে তুলে দেন একটি বিশেষ স্মারক ও চিঠি।

দেখুন ভিডিও

শুরু হলো শেষ লড়াই

ম্যাচের সপ্তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে প্রথম শট নেন মেসি, তবে বেনিন গোলরক্ষক তা আটকে দেন। ম্যাচের দশম মিনিটে পুরো স্টেডিয়াম হাততালিতে ফেটে পড়ে। আতসবাজির আলোয় ধন্য করা হয় অধিনায়ককে। ম্যাচের প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা একের পর এক আক্রমণ করলেও গোল মুখ খুলতে পারেনি। প্রথমার্ধ শেষ হয় ০-০ সমতায়।

দেখুন ছবিতে

নিয়ন্ত্রণ নিল আর্জেন্টিনা

দ্বিতীয় সেগমেন্টের শুরুতেই আর্জেন্টিনার হয়ে গোলের খাতা খোলেন ওতামেন্দি। মেসির বাড়ানো ক্রস থেকে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। ওতামেন্দির জন্যও এটি ছিল জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ ম্যাচ। গোল করার কিছু পরেই মাঠ ছাড়েন তিনি। এরপর দূরপাল্লার দারুণ এক শটে ব্যবধান ২-০ করেন নিকো পাজ।

শেষ ম্যাচে জয়, গোল, আবেগ, কান্না

সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত

ম্যাচের ৬৯তম মিনিটে আসে সেই বহুল প্রতিক্ষীত মুহূর্ত। বক্সে ফাউল করা হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। মেসি বল নিয়ে স্পটে দাঁড়াতেই নীরব হয়ে যায় পুরো মনুমেন্টাল। শটটি নিখুঁতভাবে গোলকিপারকে পরাস্ত করে ডান কোণ দিয়ে জালে জড়িয়ে যায়! উল্লাসে ফেটে পড়ে পুরো দল। সবাই এসে জড়িয়ে ধরেন তাদের অধিনায়ককে। এটি কেবল একটি সাধারণ গোল ছিল না, প্রায় দুই দশক ধরে আর্জেন্টাইন ফুটবলকে বহন করে চলা এক মহানায়কের শেষ অর্ঘ্য।

শেষ মুহূর্তগুলো

ম্যাচের শেষদিকে আরও কয়েকটি সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন মেসি। একবার তাঁর শট গোলরক্ষকের গায়ে লেগে পোস্টে আঘাত করে। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে প্রায় ২১ মিটার দূর থেকে ফ্রি-কিক পান তিনি। পুরো স্টেডিয়াম তখন ফোনে রেকর্ড করতে ব্যস্ত, সবাই চেয়েছিলেন আরেকটি ট্রেডমার্ক ফ্রি-কিক গোল। কিন্তু মেসির শটটি বারের ওপর দিয়ে বাইরে চলে যায়। শেষ বাঁশি বাজতেই আকাশে ভেসে ওঠে আতসবাজি। কান্না, গান আর ত্যাগের এক মহাকাব্যিক সমাপ্তি ঘটল বুয়েনস আইরেসে। শেষবারের মতো মনুমেন্টালের মাঠে দেশের জার্সিতে খেলে বিদায় নিলেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি।

Share Now
Advertisement


Advertisement
Share Now
Advertisement