সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে গত কয়েকদিন ধরে '১৯ মিনিট ৩৪ সেকেন্ডের ভিডিও' (19 Minute 34 Second Viral Video) কিওয়ার্ডটি ট্রেন্ড করছে. একটি কাপলের ব্যক্তিগত ভিডিও দাবি করে নেটিজেনদের একাংশ এর লিঙ্ক খুঁজছেন এবং শেয়ার করছেন. তবে সাইবার অপরাধ শাখা ও পুলিশ বিভাগের তদন্ত অনুযায়ী, এই ট্রেন্ডের আড়ালে ইন্টারনেটে ব্যাপক গুজব, ডিপফেক (Deepfake AI) ভিডিও এবং আর্থিক জালিয়াতি করার জন্য ভুয়ো লিঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে. এই ধরণের আপত্তিকর উপাদান ডাউনলোড বা শেয়ার করা একটি গুরুতর আইনি অপরাধ এবং এর ফলে ব্যবহারকারীরা বড় বিপদে পড়তে পারেন.
এআই এবং ডিপফেকের অপব্যবহার
সাইবার পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, আসল ব্যক্তিগত ভিডিওটি লিক হওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ার বহু ব্যবহারকারী ও ট্রোলাররা সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য এই বিষয়ের অপব্যবহার শুরু করেছেন. ইন্টারনেটে এই ভিডিওর 'সিজন ২', 'পার্ট ২' বা 'পার্ট ৩' নামে যে সমস্ত ভিডিও পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলি সম্পূর্ণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে. এর মাধ্যমে অনেক নিরীহ মেয়ে এবং সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের মুখ মর্ফ (Morph) করে তাঁদের অযথা হেনস্থা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে.
লিঙ্কের আড়ালে সাইবার স্ক্যামের ফাঁদ
এই ট্রেন্ডের সুযোগ নিয়ে সাইবার অপরাধীরা ইন্টারনেটে জালিয়াতির বড় ফাঁদ পেতেছে. টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ এবং ইনস্টাগ্রামে 'অরিজিনাল ভিডিও লিঙ্ক' (Original Link) দেওয়ার বাহানায় যে লিঙ্কগুলি শেয়ার করা হচ্ছে, সেগুলি আসলে ম্যালওয়্যার (Malware) বা ফিশিং লিঙ্ক. এই ধরণের সন্দেহজনক লিঙ্কে ক্লিক করলে ব্যবহারকারীদের মোবাইলের নিয়ন্ত্রণ সাইবার অপরাধীদের হাতে চলে যেতে পারে. পাশাপাশি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা চুরির বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে. ইতিমধ্যে বহু ব্যবহারকারীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খালি হয়ে যাওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে.
কড়া আইনি পদক্ষেপ ও জেল হেফাজত
ভারতীয় আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া তাঁর ব্যক্তিগত বা আপত্তিকর ভিডিও দেখা, ডাউনলোড করা বা অন্যদের ফরোয়ার্ড করা তথ্যপ্রযুক্তি আইনের (IT Act) অধীনে অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ বলে গণ্য হয়.
তথ্যপ্রযুক্তি আইন (IT Act) ধারা ৬৭ এ: এই ধারার অধীনে যেকোনো আপত্তিকর বা যৌন উদ্দীপক উপাদান ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্রচার করলে প্রথমবার অপরাধের জন্য ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে.
ধারা ৬৬ ই: কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি বা ভিডিও তাঁর সম্মতি ছাড়া জনসমক্ষে আনলে ৩ বছরের জেল হতে পারে.
ডিজিটাল দুনিয়ায় যেকোনো মানুষের ব্যক্তিগত জীবন এবং গোপনীয়তার (Privacy) প্রতি শ্রদ্ধা রাখা প্রত্যেকের দায়িত্ব. সোশ্যাল মিডিয়ার কমেন্ট সেকশনে "লিঙ্ক প্লিজ" (Link Please) লেখা বা এই ধরণের পোস্ট নিয়ে মিম তৈরি করাও অপরাধকে প্রশ্রয় দেওয়ার সামিল. সাইবার পুলিশ নাগরিকদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, এই ধরণের কোনো সন্দেহজনক লিঙ্কে ক্লিক করবেন না এবং গ্রুপে এই ভিডিও ফরোয়ার্ড করা অবিলম্বে বন্ধ করুন, অন্যথায় সরাসরি আইনি পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে হবে.