Gatari Amavasya 2026: বুধবার বিশেষ অমবস্যা, শ্রাবণে শেষবেলায় জানুন কেন লএর তাৎপর্য ও রীতিনীতি
গাটারি অমাবস্যা ২০২৬-এর বিস্তারিত তথ্য জানুন, যা শ্রাবণ মাসের পবিত্র সংযম শুরুর আগে ভোজনরসিকদের জন্য একটি বিশেষ উৎসব। আগামী ১২ই আগস্ট পালিত হতে চলা এই দিনে ঐতিহ্যবাহী ভোজন ও রীতিনীতি পালনের মাধ্যমে পরিবার ও বন্ধুরা একত্রিত হন। এর গভীর তাৎপর্য, প্রধান উদযাপন পদ্ধতি এবং ভারতজুড়ে এর আঞ্চলিক বৈচিত্র্য সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা লাভ করুন। এটি পূর্বপুরুষদের.
Gatari Amavasya 2026: ভারত উৎসবের দেশ, আর এই উৎসবের ধারাতেই এক অনন্য স্থান অধিকার করে আছে ‘গাটারি অমাবস্যা’। প্রতি বছর শ্রাবণ মাস শেষের ঠিক আগে এই তিথি পালিত হয়। ২০২৬ সালে, বুধবার, ১২ই আগস্ট পালিত হবে এই বিশেষ দিনটি। এই দিনটি মূলত মহারাষ্ট্র ও গোয়ার মানুষের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে ভোজনরসিকরা শ্রাবণ মাসের সংযম শুরুর আগে নিজেদের পছন্দের খাবার ও পানীয় উপভোগ করেন।
গাটারি অমাবস্যা কী ও কেন এর উদযাপন?
গাটারি অমাবস্যাকে আক্ষরিক অর্থে শ্রাবণের আগে 'শেষ ভোজের দিন' বলা যেতে পারে। হিন্দু ক্যালেন্ডার অনুসারে, শ্রাবণ মাস ভগবান শিবের আরাধনার জন্য অত্যন্ত পবিত্র মাস হিসেবে বিবেচিত হয়। এই মাসে অনেকেই আমিষ খাবার, অ্যালকোহল ও অন্যান্য ভোগ-বিলাস ত্যাগ করে আধ্যাত্মিক জীবনযাপন, উপবাস ও প্রার্থনায় মনোনিবেশ করেন। গাটারি অমাবস্যা হল সেই সংযমের মাস শুরু হওয়ার আগে পরিবার ও বন্ধুদের সাথে একত্রিত হয়ে আনন্দ করার, নানা ধরনের সুস্বাদু খাবার উপভোগ করার এবং মাসের পর মাস ধরে যে খাদ্যতালিকা অনুসরণ করা হয়, তার সঙ্গে সাময়িকভাবে বিদায় জানানোর একটি সুযোগ। এই দিনটি মানসিক ও আধ্যাত্মিকভাবে শ্রাবণ মাসের শৃঙ্খলার জন্য প্রস্তুত হওয়ার প্রতীক।
নামের উৎপত্তি নিয়ে বিভিন্ন মত প্রচলিত থাকলেও, অনেক গবেষক মনে করেন 'গাটারি' শব্দটি 'গতাহারি' থেকে এসেছে, যেখানে 'গত' মানে 'চলে যাওয়া' এবং 'আহারি' মানে 'খাদ্য'। অর্থাৎ, এটি এমন এক খাদ্যতালিকার কথা বলে যা সাময়িকভাবে ত্যাগ করা হবে। যদিও কিছু জনপ্রিয় ধারণায় এই দিনটিকে অতিরিক্ত মদ্যপান এবং 'নর্দমা' (গাটর) এর সাথে যুক্ত করা হয়, তবে এর প্রকৃত অর্থ একটি ভিন্ন তাৎপর্য বহন করে এবং এটি সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় প্রস্তুতিকে নির্দেশ করে।
প্রধান রীতিনীতি ও ঐতিহ্য
গাটারি অমাবস্যা উদযাপনের মূল আকর্ষণ হল জমজমাট ভোজ। সেদিন অনেক পরিবারে বাড়িতে বিশেষ করে আমিষ পদ তৈরি করা হয়। মাছ, মাংস, এবং অন্যান্য স্থানীয় পছন্দের খাবার প্রস্তুত করা হয়, যা পরের এক মাস তাদের পাতে উঠবে না। বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়-স্বজন একত্রিত হয়ে এই ভোজ উৎসবে সামিল হন। রেস্তোরাঁগুলোতেও এই দিনে ভিড় দেখা যায়।
শুধুমাত্র ভোজন নয়, এই দিনে কিছু আধ্যাত্মিক রীতিনীতিও পালন করা হয়:
- পিতৃ তর্পণ: অনেকে এই দিনে পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তির জন্য তর্পণ করেন। জল, কালো তিল ও মন্ত্র সহকারে পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়, যা পারিবারিক কর্মফল থেকে মুক্তি দিতে সহায়ক বলে মনে করা হয়। আষাঢ় অমাবস্যা পিতৃ তর্পণ ও পিন্ডদানের জন্য অত্যন্ত শুভ বলে বিবেচিত।
- আধ্যাত্মিক প্রস্তুতি: শ্রাবণ মাসের আধ্যাত্মিক শৃঙ্খলার জন্য মানসিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়। পুরনো অভ্যাস ত্যাগ করে একটি অনুशासित জীবনযাপনের প্রতি সংকল্প করা হয়।
- মন্দির দর্শন ও দান: অনেকে এই দিনে মন্দিরে গিয়ে ঈশ্বরের আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন। অভাবী মানুষকে খাদ্য, বস্ত্র বা অর্থ দান করাও শুভ বলে মনে করা হয়।
- গৃহ ও রান্নাঘর পরিষ্কার: শ্রাবণ মাস শুরু হওয়ার আগে অনেক পরিবার ঘর ও মন্দিরের স্থান পরিষ্কার পরিছন্ন করে নতুন করে সাজিয়ে তোলে। বিশেষ করে রান্নাঘর থেকে আমিষ খাবার ও পানীয়ের সমস্ত চিহ্ন মুছে ফেলা হয়।
আঞ্চলিক বৈচিত্র্য
যদিও গাটারি অমাবস্যা মূলত মহারাষ্ট্র ও গোয়ায় পালিত হয়, এই একই অমাবস্যা তিথি ভারতের অন্যান্য অঞ্চলেও ভিন্ন নামে এবং ভিন্ন রীতিনীতিতে উদযাপিত হয়। যেমন: রাজস্থান ও গুজরাটে এটিকে 'হরিয়ালী অমাবস্যা', তামিলনাড়ুতে 'আদি অমাবাসাই', এবং অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা ও কর্ণাটকে 'ভীমানা অমাবস্যা' নামে জানা যায়। প্রত্যেক অঞ্চলের নিজস্ব সংস্কৃতি ও বিশ্বাস অনুযায়ী এই দিনটি পালন করা হয়।
গাটারি অমাবস্যা কেবল একটি ভোজনের দিন নয়, এটি ভারতীয় সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ সেতু, যা উৎসব ও সংযমের মধ্যে একটি ভারসাম্য তৈরি করে। শ্রাবণ মাসের পবিত্রতার জন্য প্রস্তুত হওয়ার এটি একটি সুন্দর প্রথা, যা পরিবার, সংস্কৃতি এবং আধ্যাত্মিকতার গভীর মূল্যবোধকে একত্রিত করে।
(The above story first appeared on LatestLY on Jan 01, 1970 05:30 AM IST. For more news and updates on politics, world, sports, entertainment and lifestyle, log on to our website latestly.com).

