Devshayani Ekadashi 2026: হিন্দু ধর্মে প্রতিটি একাদশী তিথির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে, তবে আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের একাদশী অর্থাৎ 'দেবশয়নী একাদশী' (Devshayani Ekadashi)-র মাহাত্ম্য অত্যন্ত অপরিসীম। লোকবিশ্বাস ও পৌরাণিক মান্যতা অনুসারে, এই দিন থেকেই ভগবান শ্রীহরি বিষ্ণু চার মাসের জন্য ক্ষীরসাগরে যোগনিদ্রায় মগ্ন হন। এই সময়কালকে বলা হয় ‘চাতুর্মাস’ (Chaturmas)।
দেবশয়নী একাদশী ২০২৬-এর তারিখ ও তিথির সময়সূচী
পঞ্জিকা অনুসারে, ২০২৬ সালে দেবশয়নী একাদশী পালিত হবে আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষে।
একাদশীর তারিখ: ২৫ জুলাই, ২০২৬ (শনিবার)
একাদশী তিথি শুরু: ২৪ জুলাই, ২০২৬ (শুক্রবার)
একাদশী তিথি সমাপ্তি: ২৫ জুলাই, ২০২৬ (শনিবার)
পারণের শুভ সময়: ২৬ জুলাই, ২০২৬ (রবিবার) সকালে শ্রীবিষ্ণুর পূজা ও নৈবেদ্য নিবেদনের পর ব্রত ভঙ্গ বা পারণ করার সময়।
(দ্রষ্টব্য: উদয় তিথি মান্য করে ২৫ জুলাই শনিবারই দেবশয়নী একাদশীর মূল ব্রত ও পূজা পালিত হবে।)
চাতুর্মাসের সূচনা ও শুভ কাজের বিরতি
দেবশয়নী একাদশীর দিন থেকে শুরু হয় চাতুর্মাস (শ্রাবণ, ভাদ্র, আশ্বিন ও কার্তিক—এই চার মাস)। প্রচলিত পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, শ্রীবিষ্ণু নিদ্রায় মগ্ন থাকায় এই চার মাস ধরে বিশ্ব সংসার পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন দেবাদিদেব মহাদেব। এই চার মাসে সমস্ত প্রকার শুভ ও মাঙ্গলিক কাজ যেমন-বিবাহ, উপনয়ন, গৃহপ্রবেশ, নতুন ব্যবসার সূচনা বা মস্তক মুণ্ডন ইত্যাদি মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান স্থগিত রাখা হয়। কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের ‘দেবউত্থান একাদশী’ বা ‘দেবপ্রবোধিনী একাদশী’-তে ভগবান বিষ্ণু নিদ্রা থেকে জেগে উঠলে পুনরায় শুভ কাজের সূচনা হয়।
দেবশয়নী একাদশীর মাহাত্ম্য
স্কন্দ পুরাণ ও পদ্ম পুরাণ অনুসারে, দেবশয়নী একাদশীর ব্রত পালন করলে সমস্ত পাপক্ষয় হয় এবং অক্ষয় পুণ্য লাভ হয়। রাজা মান্ধাতা এবং বিশ্বামিত্রের পৌরাণিক কাহিনীতেও এই একাদশীর বিশেষ গুরুত্ব উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্বাস করা হয় যে, পরম নিষ্ঠা ভরে এই ব্রত পালন করলে ঘরে সুখ-শান্তি বজায় থাকে, আর্থিক অনটন দূর হয় এবং মৃত্যুর পর মোক্ষ লাভ ঘটে।
পূজাবিধি ও পালনের নিয়ম
১. প্রাতঃ স্নান ও সংকল্প:একাদশীর দিন ভোরে উঠে প্রাতঃকৃত্য সেরে পবিত্র জলে স্নান করতে হবে। এর পর শ্রীবিষ্ণুর উদ্দেশ্যে ব্রতের সংকল্প নিন।
২. পূজার আয়োজন: পূজার স্থানে হলুদ কাপড় বিছিয়ে ভগবান বিষ্ণু বা তাঁর কৃষ্ণের মূর্তি স্থাপন করুন।
৩.উপচার নিবেদন: হলুদ ফুল, ফল, পঞ্চামৃত, ধূপ-দীপ ও তুলসী পাতা নিবেদন করুন। মনে রাখবেন, বিষ্ণু পূজায় তুলসী পাতা অপরিহার্য।
৪. মন্ত্র জপ ও কথা শ্রবণ: “ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়” মন্ত্র জপ করুন এবং দেবশয়নী একাদশীর ব্রতকথা পাঠ বা শ্রবণ করুন।
৫. আরতি ও ভোগ: পূজার শেষে আরতি করুন এবং ভোগ বিতরণ করুন।
৬.সংযম ও নিয়ম পালন: একাদশীর দিন পূর্ণ উপবাস বা ফলাহার গ্রহণ করে ব্রত রাখা হয়। এই দিনে চাল বা অন্ন গ্রহণ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কারো সাথে কটু কথা বা অসদাচরণ করা থেকে বিরত থাকা উচিত।
দেবশয়নী একাদশী কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি মানব মনে সংযম, ভক্তি এবং আধ্যাত্মিক চেতনার উন্মেষ ঘটায়।