TMC Rebel Faction: পুজোর মুখেই বিজেপি-তে যোগ বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের? যে তিন কারণে রয়েছে সমস্যা

দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে রাজ্য রাজনীতিতে ফের নতুন করে জল্পনার পারদ চড়েছিল। তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়ার একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে হইচই পড়ে যায় রাজনৈতিক অলিন্দে। দাবি উঠেছিল, রাজ্যের প্রায় ১৭ জন বিদ্রোহী সাংসদ নাকি একযোগে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দিতে চলেছেন।

TMC Rebel Faction: পুজোর মুখেই বিজেপি-তে যোগ বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের? যে তিন কারণে রয়েছে সমস্যা
Rebel TMC MPs Face Legal and Political Hurdles in Bid to Join BJP Ahead of Durga Puja (Photo Credits: IANS)

TMC Rebel Faction: দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে রাজ্য রাজনীতিতে ফের নতুন করে জল্পনার পারদ চড়েছিল। তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়ার একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে হইচই পড়ে যায় রাজনৈতিক অলিন্দে। দাবি উঠেছিল, রাজ্যের প্রায় ১৭ জন বিদ্রোহী সাংসদ নাকি একযোগে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দিতে চলেছেন। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলে দেখা যাচ্ছে, কেবল রাজনৈতিক জল্পনা নয়, এই দলবদলের পথে রয়েছে একাধিক আইনি জটিলতা, দলত্যাগ বিরোধী আইনের খাঁড়া এবং খোদ পদ্মশিবিরের অন্দরের তীব্র প্রতিরোধ।

জল্পনার সূত্রপাত কোথায়

সম্প্রতি কোচবিহারের সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া দাবি করেন, তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের মধ্যে ১৭ জনই পুজোর আগে বা পরে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপি-তে যোগ দেবেন। ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের মূল কাণ্ডারিদের থেকে আলাদা হয়ে এই ২০ জন সাংসদ 'ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া' (NCPI) নামের একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছিলেন। বসুনিয়ার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র সঙ্গে হাত মেলাতেই এই পরিকল্পনা। বাকি ৩ জন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সাংসদ—আবু তাহের খান, ইউসুফ পাঠান এবং খলিলুর রহমান নাকি এনসিপিআই-তেই থেকে বাইরে থেকে সমর্থন জোগাবেন।

আইনি জটিলতা ও দলত্যাগ বিরোধী আইন

বিজেপি-তে যোগদানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারতীয় সংবিধানের দশম তফশিল অর্থাৎ 'দলত্যাগ বিরোধী আইন'।

স্পিকারের স্বীকৃতি নেই: বিদ্রোহী সাংসদরা দাবি করছেন, তারা দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে এনসিপিআই-এর সঙ্গে নিজেদের গোষ্ঠী বিলীন করেছেন। তবে লোকসভার খাতায়-কলমে তারা এখনও সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসেরই সাংসদ।

খারিজের আবেদন ও সুপ্রিম কোর্ট: তৃণমূল সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদনের ভিত্তিতে লোকসভা সচিবালয় ইতিমধ্যেই এই ২০ জন সাংসদকে পদ খারিজের নোটিশ পাঠিয়েছে। আগামী ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদের জবাব দিতে বলা হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের অধীনেও বিচারাধীন।

পদ হারানোর ঝুঁকি: এই পরিস্থিতিতে সরাসরি বিজেপি-তে যোগ দিলে তাদের সাংসদ পদ তাৎক্ষণিকভাবে খারিজ হয়ে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।

পদ্মশিবিরের অন্দরেই ক্ষোভের সুর

কেবল আইনি জটিলতা নয়, তৃণমূলের এই প্রাক্তন 'হেভিওয়েট' নেতাদের দলে টানা নিয়ে রাজ্য বিজেপি-র অন্দরেও তৈরি হয়েছে তীব্র অসন্তোষ।

রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ধরনের কোনো যোগদানের বিষয় দলীয় স্তরে নির্ধারিত হয়নি। অতীতের রাজনৈতিক তিক্ততার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।

স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব ও কার্যকর্তারাও বেজায় ক্ষুব্ধ। বরানগরের বিধায়ক সজল ঘোষের মতো নেতারাও এই বিষয়ে তাদের অস্বস্তি গোপন করেননি। আসন্ন পুরসভা নির্বাচনের আগে দলের পুরনো ও নিষ্ঠাবান কর্মীদের ক্ষুব্ধ করতে রাজি নয় বঙ্গ বিজেপি-র শীর্ষ নেতৃত্ব।

বিদ্রোহী গোষ্ঠীর অন্দরেই বিভাজন

সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়- কাকলী ঘোষদস্তিদার-দের ১৭ জনের গোষ্ঠীর মধ্যেই কোনো একতা নেই। বসুনিয়ার এই একক দাবির পর দূরত্ব বজায় রাখতে শুরু করেছেন একাধিক বিদ্রোহী সাংসদ।

কারা বেঁকে বসেছেন

মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবু তাহের খান সরাসরি বিজেপি-তে যাওয়ার সম্ভাবনা খারিজ করে দিয়েছেন। অন্যদিকে কাকলি ঘোষ দস্তিদার, বাঁকুড়ার সাংসদ অরূপ রায় এবং ঝাড়গ্রামের সাংসদ কালীপদ সরেনের মতো প্রবীণ নেতারা জানিয়ে দিয়েছেন, এই ধরনের কোনো যৌথ সিদ্ধান্তের কথা তাদের জানাই নেই।

এবার কী হয় সেটাই দেখার

সব মিলিয়ে, দুর্গাপুজোর আগে বঙ্গ রাজনীতিতে বড়সড় চমক দেওয়ার যে দাবি জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া করেছিলেন, তা আপাতত দলত্যাগ বিরোধী আইনের ঘেরাটোপ এবং বিজেপির অন্দরমহলের বিরোধিতায় কার্যত থমকে গেছে।

(The above story first appeared on LatestLY on Sep 15, 2026 06:43 PM IST. For more news and updates on politics, world, sports, entertainment and lifestyle, log on to our website latestly.com).