ইরাকের তেল মন্ত্রকের অধীনস্থ একটি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থার দুই প্রাক্তন উচ্চপদস্থ আধিকারিকের একটি আপত্তিকর গোপন ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ফাঁস হওয়ার পর সে দেশে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে. ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই ইরাক প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে গম্ভীর তদন্ত শুরু করেছে. এই ভিডিওতে যে দুজনকে দেখা গেছে, তারা হলেন কিরকুক অঞ্চলের অয়েল প্রজেক্টস কোম্পানির প্রাক্তন ডিরেক্টর ইয়াদ হুসেন আল-জওহর এবং ওই একই সংস্থার আর্থিক বিভাগের প্রাক্তন প্রধান লিনা রাদ মহসেন.

অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা ও পুরনো বিতর্ক

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সামাজিক মাধ্যমে বর্তমানে ছড়িয়ে পড়া এই ভিডিওটি সাম্প্রতিক কোনো ঘটনা নয়, বরং বেশ কয়েক মাস পুরনো. পূর্বেই এই বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর তেল মন্ত্রক অভ্যন্তরীণ স্তরে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল. তৎকালীন শাস্তিমূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ইয়াদ হুসেন আল-জওহরকে তার পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছিল এবং বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল. অন্যদিকে, লিনা রাদ মহসেনকে অন্য একটি তেল সংস্থায় বদলি করা হয়েছিল.

 

View this post on Instagram

 

A post shared by دنو👄 (@a_xcb6)

ভুল পরিচয় ও কর্তৃপক্ষের স্পষ্টীকরণ

ভিডিওটি নতুন করে ব্যাপকভাবে ইন্টারনেট এবং বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হয়. কিছু সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে দাবি করা হচ্ছিল যে, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিটি অয়েল প্রজেক্টস কোম্পানির বর্তমান ডিরেক্টর জেনারেল আলি ওয়ার্ড হামুদ. এই বিভ্রান্তি দূর করতে সংশ্লিষ্ট তেল সংস্থাটির পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করা হয়. বিবৃতিতে জানানো হয় যে, বর্তমান ডিরেক্টর জেনারেলের সাথে এই ভিডিওর কোনো সম্পর্ক নেই এবং যারা এই ধরনের ভুয়ো তথ্য ছড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে.

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারের আশঙ্কা

ইরাকের তেল মন্ত্রকের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলোর মতে, একটি পুরনো ভিডিও হঠাৎ করে এই সময়ে নতুন করে ভাইরাল করার পেছনে সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে. তেল মন্ত্রকের অধীনস্থ বিভিন্ন বিভাগে বর্তমানে একাধিক বড় ধরনের দুর্নীতি মামলার তদন্ত চলছে. ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, সেই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ দুর্নীতি মামলার তদন্ত থেকে জনসাধারণের মনোযোগ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই ভিডিওটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সামাজিক মাধ্যমে আবার ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে.

জনসাধারণের ক্ষোভ ও আইনি ব্যবস্থার দাবি

ভিডিওটিতে দেখা গেছে যে, দৃশ্যটি একটি সরকারি দপ্তরের ভেতরে এবং জাতীয় পতাকার সামনে ধারণ করা হয়েছে. এই বিষয়টি সামনে আসার পর ইরাকের সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে. সামাজিক মাধ্যমে নাগরিকরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন. সরকারি দপ্তর এবং পদমর্যাদার অপব্যবহার করার অপরাধে ওই দুই প্রাক্তন আধিকারিকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রশাসনের ওপর দেশজুড়ে চাপ বাড়ছে.